রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর লিখেছিলেন, ‘কঠিনেরে ভালোবাসিলাম, সে কখনো করে না বঞ্চনা।’ এই পঙ্ক্তি শুধু কবিতার অলঙ্কার নয়, এটি একটি সভ্যতার দর্শন। কঠিন পথকে এড়িয়ে যাওয়ার প্রবণতা মানুষের স্বভাবসিদ্ধ, কিন্তু ইতিহাস বারবার প্রমাণ করেছে যে কঠিন সত্যকে আলিঙ্গন করার মধ্যেই নিহিত থাকে কোনো জাতির প্রকৃত মুক্তি। আজকের বাংলাদেশের বহুমাত্রিক রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে এই দর্শনের প্রাসঙ্গিকতা কেবল তাত্ত্বিক আলোচনায় সীমাবদ্ধ নয়, রাষ্ট্রীয়ভাবে টিকে থাকার স্বার্থে এটি এখন অপরিহার্য হয়ে উঠেছে।
ক্ষমতায় আসার মাত্র তিন মাসের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিএনপির এক আলোচনা সভায় স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, ‘আমাদের সামনে অত্যন্ত কঠিন সময় অপেক্ষা করছে।’ একজন সরকারপ্রধানের কাছ থেকে এমন অকপট ও বাস্তবসম্মত স্বীকারোক্তি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে সত্যিই বিরল। প্রচলিত রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে যেখানে কৃত্রিম আশাবাদ দিয়ে সঙ্কট ঢেকে রাখার প্রতিযোগিতা চলে, সেখানে এই বক্তব্যকে রাষ্ট্রনায়কোচিত সততার প্রকাশ হিসেবেই গণ্য করতে হয়। কারণ, বাংলাদেশের সামনে আজ যে গভীর ও বহুমাত্রিক সঙ্কট বিদ্যমান, তার মুখোমুখি না দাঁড়ালে কোনো সংস্কারই দীর্ঘমেয়াদে টেকসই হবে না। মূল প্রশ্নটি তাই সরল, এই ক্রান্তিকালে দাঁড়িয়ে আমরা কি সত্যিই এই কঠিনকে ভালোবাসতে প্রস্তুত?
এই সঙ্কটের গভীরতা বুঝতে হলে সবার আগে দৃষ্টি দিতে হবে দেশের অর্থনীতির দিকে, যেখানে দীর্ঘদিন ধরে চলছে এক ধরনের নীরব রক্তক্ষরণ। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মার্চ প্রান্তিকে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে পাঁচ লাখ ৮৮ হাজার ৭০৪ কোটি টাকা, যা মোট বিতরণকৃত ঋণের ৩২.২৬ শতাংশ। আন্তর্জাতিক আর্থিক মানদণ্ড অনুযায়ী সহনীয় সর্বোচ্চ সীমা মাত্র ৩ শতাংশ- সেই হিসাবে বাংলাদেশ ১০ গুণেরও বেশি ঝুঁকিতে অবস্থান করছে। এর সাথে যুক্ত হয়েছে দুই লাখ পাঁচ হাজার ৬৬৫ কোটি টাকার বিশাল প্রভিশন ঘাটতি এবং স্পেশাল মেনশন অ্যাকাউন্টে জমা থাকা আরো এক লাখ ৩২ হাজার কোটি টাকার চরম ঝুঁকিপূর্ণ ঋণ। এই বিপুল অলস ও আত্মসাৎকৃত অর্থ দেশের বিনিয়োগ এবং উৎপাদনশীল খাতকে ধীরে ধীরে পঙ্গু করে দিচ্ছে।
নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ডগলাস নর্থ তার Institutions, Institutional Change and Economic Performance গ্রন্থে দেখিয়েছিলেন, দুর্বল প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো এবং আইনের শাসনের অভাব দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পথে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতের এই সঙ্কট কোনো আকস্মিক বিপর্যয় নয়, এটি বিগত দশকগুলোতে রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত যথেচ্ছ ঋণ বিতরণ, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দুর্বল তদারকি, প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতার অনুপস্থিতি এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতির পুঞ্জীভূত ফল। এই ভঙ্গুর কাঠামো পরিবর্তন করতে গেলে যে সিদ্ধান্তগুলো নিতে হবে, তা স্বল্পমেয়াদে কষ্টকর এবং রাজনৈতিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ, ঋণ পুনর্গঠনে কঠোরতা, করপোরেট জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং প্রভাবশালী খেলাপিদের বিরুদ্ধে কোনো আপস না করে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ। এই কঠিন পথে যদি রাষ্ট্র না হাঁটে, তাহলে সামষ্টিক অর্থনীতির এই বিপজ্জনক রক্তক্ষরণ বন্ধ হওয়ার কোনো পথ নেই।
অর্থনৈতিক সঙ্কটের সমান্তরালে রাষ্ট্রের গভীরে রয়েছে প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষয়ের আরেকটি গুরুতর সঙ্কট। বিশেষ ক্ষমতা আইনে বন্দী ৪২৬ জন দুর্র্ধর্ষ সন্ত্রাসীর জামিনে মুক্তি এবং তাদের পুনরায় অপরাধজগতে সংগঠিত হওয়া কেবল একটি আইনশৃঙ্খলার সমস্যা নয়, এটি রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণের দুর্বলতার স্পষ্ট উপসর্গ। মিরপুর, মোহাম্মদপুর, বাড্ডা, তেজগাঁওসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় শীর্ষ সন্ত্রাসীদের পুনরায় সক্রিয় হওয়া, চাঁদাবাজির সিন্ডিকেট নতুন নামে পুনর্গঠন করা এবং ভিনদেশ থেকে ব্যবসায়ীদের হুমকি দেয়ার নতুন সংস্কৃতি প্রমাণ করে, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের এই ক্রান্তিকালীন সুযোগে অপরাধজগৎও অত্যন্ত দ্রুততার সাথে নিজেকে পুনর্বিন্যাস করে নিচ্ছে।
জার্মান সমাজবিজ্ঞানী ম্যাক্স ওয়েবার রাষ্ট্রকে সংজ্ঞায়িত করেছিলেন ‘বৈধ শক্তি প্রয়োগের একচেটিয়া অধিকারের অধিকারী সত্তা’ হিসেবে। যখন সেই একচেটিয়া অধিকার প্রশ্নবিদ্ধ হয়, যখন সন্ত্রাসীরা এলাকাভিত্তিক অবৈধ সাম্রাজ্য গড়তে পারে, তখন রাষ্ট্রের মূল সামাজিক চুক্তিটিই নড়বড়ে হয়ে ওঠে। এই বাস্তবতায় আইনশৃঙ্খলার পুনঃপ্রতিষ্ঠা কোনো ঐচ্ছিক বিকল্প নয়, এটি সরাসরি রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের প্রশ্ন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ‘আদালত আদালতের কাজ করেছে, আমরা আমাদের কাজ করব’- এই বক্তব্য নিঃসন্দেহে ইতিবাচক। ডিএমপি কমিশনারও সাঁড়াশি অভিযানের প্রত্যয় জানিয়েছেন। কিন্তু সাধারণ মানুষ এখন কথার ফুলঝুরি নয়, কাজের বাস্তব ও দৃশ্যমান প্রমাণ দেখতে চায়। অপরাধজগৎ ও চাঁদাবাজির সিন্ডিকেট প্রায়ই কোনো না কোনো রাজনৈতিক ছায়াতলে বেড়ে ওঠে, সেই অদৃশ্য সংযোগ গোড়া থেকে ছিন্ন না করলে কোনো সাময়িক অভিযানই দীর্ঘস্থায়ী ফল দেবে না।
বাহ্যিক পরিবেশও মোটেও সরল নয়। পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন-পরবর্তী রাজনীতিতে সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির ‘বাংলাদেশে কাকে দিয়ে খুন করিয়েছিলেন জানি’ এই মন্তব্য বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের অন্তর্নিহিত সংবেদনশীলতাকে আবারো সামনে এনেছে। এটিকে নিছক নির্বাচনি বাগাড়ম্বর হিসেবে দেখলেও, একটি স্বাধীন প্রতিবেশী রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয়কে এভাবে অন্য দেশের রাজনৈতিক মঞ্চে টেনে আনা পারস্পরিক বিশ্বাসের পরিপন্থী এবং উদ্বেগজনক।
কূটনীতি বিশেষজ্ঞরা বলেন, বাংলাদেশের মতো ভৌগোলিক অবস্থানের একটি দেশের পররাষ্ট্রনীতির মূল শক্তি হলো ভারসাম্যপূর্ণ কূটনৈতিক দূরত্ব। বর্তমান বিশ্বব্যবস্থায় বাংলাদেশকে একই সাথে ভারত, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের টানাপড়েনের মধ্য দিয়ে সুনিপুণভাবে পথ চলতে হচ্ছে। প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়ে চলমান বিতর্ক এবং অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কার বাণিজ্য চুক্তির স্বচ্ছতা নিয়ে উঠে আসা নানাবিধ প্রশ্ন, এই জটিলতার মধ্যে জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে এগিয়ে যাওয়াও এক ধরনের কঠিনকে বরণ করার দীর্ঘ প্রক্রিয়া। নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল (অব:) আ ন ম মুনীরুজ্জামানের মূল্যায়ন অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ইরান যুদ্ধসহ বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার প্রভাব সরাসরি বাংলাদেশেও এসে পড়ছে। আজকের তীব্রভাবে আন্তঃসংযুক্ত বিশ্বে বিচ্ছিন্নভাবে টিকে থাকার কোনো সুযোগ নেই, বৈশ্বিক ঝড়ের মধ্যেও নিজের জাতীয় স্বার্থের নোঙর শক্ত রাখার সামর্থ্য রাষ্ট্রকে অর্জন করতে হবে।
এই সামগ্রিক সঙ্কট থেকে উত্তরণের জন্য দেশে একটি ‘কঠিনকে বরণ করার রাজনৈতিক সংস্কৃতি’ গড়ে তোলা এখন অপরিহার্য। রাজনৈতিক অর্থনীতিবিদ দানি রডরিক তার The Globalization Paradox গ্রন্থে দেখিয়েছেন, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার এবং টেকসই গণতন্ত্র এক সাথে চলতে পারে, তবে তার জন্য রাজনৈতিক নেতৃত্বকে জনগণের সাথে সৎ ও স্বচ্ছ সংলাপে থাকতে হয়। প্রধানমন্ত্রীর ‘কঠিন সময়ের’ আগাম সতর্কতা যদি সেই সৎ সংলাপের সূচনা হয়, তবে তা বাংলাদেশের রাজনীতিতে পরিপক্বতার এক ইতিবাচক চিহ্ন। মশক নিধন শিখতে ফ্লোরিডায় না গিয়ে দেশের ডোবার পাশে দাঁড়ানোর পরামর্শের মতো ছোট ছোট প্রতীকী বার্তাগুলো প্রশাসনিক জবাবদিহিতা ও বাস্তবতাবোধের দিকে ইঙ্গিত করে। তবে এই সঙ্কেতগুলো রাষ্ট্রীয় নীতিমালায় স্থায়ীভাবে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ না পেলে তা কেবল সাময়িক প্রচারণামূলক মূল্যেই সীমাবদ্ধ থেকে যাবে, কোনো স্থায়ী পরিবর্তন আনবে না।
তবে এই সংস্কারের যাত্রায় সব দায়িত্ব কেবল সরকারের কাঁধে চাপিয়ে নাগরিক দায় শেষ হয়ে যায় না। অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ সঠিকই বলেছেন, দেশের দরিদ্র ও নিম্ন-আয়ের মানুষ যেন সঙ্কটের সবচেয়ে বড় চাপটি একা না বহন করেন, সে বিষয়ে নীতিনির্ধারকদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে। কঠিন সংস্কারের অর্থ কখনোই সাধারণ মানুষের ওপর অতিরিক্ত করের বোঝা চাপিয়ে দেয়া নয়; বরং এর প্রকৃত অর্থ হলো বছরের পর বছর ধরে রাষ্ট্রীয় অর্থ লুণ্ঠনকারী ও সুবিধাভোগী উচ্চবিত্ত শ্রেণীর অনিয়মকে কঠোরভাবে প্রতিরোধ করা। একই সাথে দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর, বিরোধী ও সরকারি উভয় পক্ষের কাছে প্রত্যাশা, এই জাতীয় ক্রান্তিলগ্নে তারা যেন সস্তা প্রতিহিংসা ও পুরনো কাদা ছোড়াছুড়ির রাজনীতি থেকে বের হয়ে জাতীয় পুনর্গঠনের সংলাপে অংশ নেয়। জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি এবং নিষিদ্ধপ্রায় আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য পুনরুত্থান ঘিরে যে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে, তা মোকাবেলার একমাত্র কার্যকর পথ হলো সবপক্ষের গণতান্ত্রিক সহাবস্থানের একটি প্রাতিষ্ঠানিক ও টেকসই কাঠামো তৈরি করা।
বাংলাদেশের ইতিহাসে সঙ্কটের উত্তরণ কখনো কেবল রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে আসেনি, এসেছে নাগরিক সমাজের সম্মিলিত ও স্বতঃস্ফূর্ত ভূমিকা থেকে। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে, নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী গণ-আন্দোলনে এবং চব্বিশের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে আমরা বারবার দেখেছি, বাংলাদেশের মানুষ কঠিনকে মোকাবেলা করতে জানে। সঙ্কটের মুখে বুক টানটান করে দাঁড়ানোর সেই আপসহীন চেতনাকে এখন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও দৈনন্দিন নাগরিক অভ্যাসের মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়ার সময় এসেছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘যার যার অবস্থান থেকে দেশগঠনে সহযোগিতা করতে হবে।’ এই আহ্বান কোনো নির্দিষ্ট দলের নেতাকর্মীদের জন্য নয়, এটি প্রতিটি সচেতন নাগরিকের জন্য এক ঐতিহাসিক ডাক। একজন ব্যবসায়ী যদি কর ফাঁকি না দিয়ে সততার সাথে ব্যবসা পরিচালনা করেন, একজন শিক্ষক যদি রাজনৈতিক লেজুড়বৃত্তি না করে পূর্ণ নিষ্ঠায় পাঠদান করেন, একজন সাংবাদিক যদি ভয় ও প্রলোভনের ঊর্ধ্বে উঠে তথ্যের নিরপেক্ষ উপস্থাপনা নিশ্চিত করেন, একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তা যদি রাজনৈতিক নির্দেশের অন্ধ দাস না হয়ে বিবেকের অনুগামী হন- তবেই প্রত্যেকে নিজের জায়গায় এই কঠিন সত্যকে বরণ করে নেয়ার দীক্ষা পাবেন। আর তখনই কেবল রাষ্ট্র ও সমাজের এই কাক্সিক্ষত পুনর্গঠন বাস্তব রূপ লাভ করবে।
রবীন্দ্রনাথ লিখেছিলেন, ‘যে যাত্রা কঠিন, সে যাত্রাই সত্য।’ বাংলাদেশের সামনে আজ যে পথ পড়ে আছে, তা নিঃসন্দেহে দুর্গম ও কঠিন, কিন্তু ইতিহাসের সত্য এটাই যে, এই কঠিন পথটিই কেবল একটি জাতিকে তার সত্যিকারের গন্তব্যে নিয়ে যেতে পারে। আর্থিক খাতের আমূল সংস্কার, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, ভেঙে পড়া রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর পুনর্গঠন এবং ভূরাজনৈতিক ভারসাম্য রক্ষা- প্রতিটি কাজই হিমালয়সম কঠিন। সাময়িক স্বস্তির জন্য এই সংস্কারগুলো এড়িয়ে কোনো সহজ পথ বেছে নিলে তা আপাতদৃষ্টিতে মসৃণ মনে হলেও, আসলে পুরো জাতিকে আরো গভীর অন্ধকারের দিকে নিয়ে যাবে।
তাই রবীন্দ্রনাথের সেই মহাবাক্যকে আজ জাতীয় মন্ত্র করে নেয়ার এই মুহূর্তই উপযুক্ত সময়Ñ ‘কঠিনেরে ভালোবাসিলাম।’ সরকার, বিরোধী দল, নাগরিক সমাজ, ব্যবসায়ী সম্প্রদায় ও গণমাধ্যমÑ সবাই মিলে যদি যার যার অবস্থান থেকে এই কঠিন সত্য ও দায়িত্বকে একযোগে বরণ করে নেয়, তবেই কেবল বাংলাদেশের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এক নতুন, বৈষম্যহীন ও সমৃদ্ধ ভোরের উদয় সম্ভব। কঠিন সত্য থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়া কোনো জাতি কখনো তার টেকসই ভবিষ্যৎ গড়তে পারেনি, এটিই মানব ইতিহাসের সবচেয়ে পুরনো এবং সবচেয়ে প্রাসঙ্গিক শিক্ষা।
লেখক : অধ্যাপক (অব:), সরকার ও রাজনীতি বিভাগ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়



