২০২৪ সালের জুলাই মাস বাংলাদেশে ৩১ দিনে শেষ হয়নি, হয়েছে ৩৬ দিনে। এটি এদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে থাকবে। ১ আগস্ট তারিখেও নাহিদ-আসিফ-হাসনাতরা ডিবি হারুনের ভাতের হোটেলে কথিত নিরাপত্তা হেফাজতে আটক ছিলেন। সেই ১ আগস্ট (২০২৪) সকাল ১০টায় ঢাকার সেগুনবাগিচাস্থ ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) এক হলরুমে পেশাজীবীদের একটি প্রতিবাদ সভা ছিল। প্রতিবাদ সভাটির অন্যতম উদ্যোক্তা কবি আবদুল হাই শিকদার আমাকে উপস্থিত থাকতে আমন্ত্রণ বার্তা পাঠান। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিত্ব সমাবেশটিতে দেখানোর স্বার্থে আমাকে আমন্ত্রণ। সংক্ষেপে শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদী শাসন ও খুন-গুমের বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধতা প্রকাশ করি এবং আটক ছাত্র-সমন্বয়কদের মুক্তিদান ও চলমান খুন-নির্যাতন বন্ধের দাবি জানাই। বাসায় ফিরে জানি, একটি রাজনৈতিক দলের ফেসবুক পেজে ওই সমাবেশের লাইভ সম্প্রচার হয়েছিল। পরিবারের সদস্যরা আমার বক্তব্য শুনেছেন-দেখেছেন। সেটি ছিল স্বভাবত একটি অনিশ্চিত ঝুঁকিপূর্ণ সময়। সেই সমাবেশের সিদ্ধান্ত ছিল, সমাবেশটি শেষ করে আমরা সবাই মিছিলসহ যাব ঢাকার বেইলি রোডস্থ ডিবি অফিসে, আটক সমন্বয়কদের মুক্ত করে আনতে। বক্তৃতাপর্ব শেষ করে আমরা মিছিলসহ রওনার প্রস্তুতিকালে জানতে পারি, পেশাজীবীদের আরেকটি গ্রুপ ইতোমধ্যে ডিবি অফিস থেকে সমন্বয়কদের মুক্ত করতে সক্ষম হয়েছেন। এর আগে এমন দু’-একটি উদ্যোগ ব্যর্থ হয়েছিল। খবরটি জেনে আমরা স্বস্তি পেলাম।
এরপর আগস্টের ২ গেল, ৩ গেল। ছাত্রদের আগের দেয়া ৯ দফা ভেসে গেল রক্তে, হলো এক দফা, একটাই দাবি- হাসিনাকে ক্ষমতা ছাড়তে হবে। কর্মসূচি ঘোষিত হলো রিমেম্বারিং দ্য হিরোজ এবং গণভবন যাত্রা- মার্চ টু গণভবন হবে ৬ আগস্ট, দুপুরে। ৪ আগস্ট কর্মসূচি বদলে গেল মার্চ টু গণভবন এগিয়ে আনা হলো, ৬ নয়, ৫ আগস্টে হবে মার্চ টু গণভবন। ৫ আগস্ট ২০২৪। মিডিয়ায়, ম্যাস এবং সোশ্যাল, চোখ রাখি, অবিরত। জানার-বোঝার চেষ্টা করি, লংমার্চ টু গণভবন কিভাবে এগোয়। সোশ্যাল মিডিয়ায় নানান খবর। ম্যাস মিডিয়ায় খবর আসে, অতি ‘সংযত’। জানানো হয়, ঢাকার সবগুলো প্রবেশপথ সিলগালা করে রাখা। কোথাও কেউ নেই অবস্থা। অনিশ্চিত অস্বস্তিসহ কাটে মিনিট ও ঘণ্টাগুলো। মধ্য বেলায়, দুপুর ১২টা পেরিয়ে, ম্যাস মিডিয়ার ইলেকট্রনিক অংশ জানাতে শুরু করে বেলা ২টায় সেনাপ্রধান জাতির উদ্দেশে কথা বলবেন। কিন্তু বলেন না। ২টা যায়, ৩টা যায়। ইলেকট্রনিক মিডিয়া জানায় আরেকটু পরে কথা বলবেন সেনাপ্রধান। সেনাপ্রধানের কথা বলতে সময় লাগে প্রায় পৌনে ৪টা পর্যন্ত। হয়তো তাকে জানানো হয়েছে ততক্ষণে ‘পাখি’ পগারপার, বাংলাদেশের সীমানা পেরিয়েছেন শেখ হাসিনা (মাফিয়া হাসিনা, খুনি হাসিনা, ফ্যাসিনা, হাসিনাৎসি- এমন সব নাম তিনি অর্জন করেন)। খবরটি রাষ্ট্র হয়ে যায় দ্রুত। ততোধিক দ্রুততায় মানুষের বান ডাকে ঢাকার মিরপুর রোডস্থ গণভবনের দিকে। রক্তে কেনা স্বাধীনতায় বাংলাদেশবাসী- আবার স্বাধীনতার স্বাদ পায়। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট এভাবেই ‘৩৬ জুলাই’ হয়ে ওঠে।
৩৬ জুলাইয়ের সাফল্য
৩৬ জুলাই বা ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট মাসের ছাত্র-জনতা-সেনা গণ-অভ্যুত্থানের (জুলাই বিপ্লব, বর্ষা বিপ্লব-মনসুন রেভুলিউশন নামেও অনেকে এটিকে চিহ্নিত করেছেন বটে) সাফল্য দুই ভাগে উপলব্ধি করা যেতে পারে : ক. সাফল্যের নগদ বা তাৎক্ষণিক উপলব্ধি এবং খ. সাফল্যের অনুগামী উপলব্ধি। সাফল্যের নগদ বা তাৎক্ষণিক উপলব্ধি হলো হাসিনামুক্ত বাংলাদেশ, ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশ, প্রত্যক্ষ ভারতীয় নিয়ন্ত্রণমুক্ত বাংলাদেশ, আওয়ামী-বাকশালী ও দোসরদের ইজারামুক্ত বাংলাদেশ, গুম-খুন ও ভীতিমুক্ত বাংলাদেশ, সম্পদ পাচারের প্রক্রিয়ামুক্ত বাংলাদেশ। এখানে তালিকাভুক্ত ধারণাগুলোর সবগুলো ৩৬ জুলাইয়ের নগদ বা তাৎক্ষণিক সাফল্য। একটি ৩৬ জুলাই না ঘটলে বাংলাদেশ এগুলো কবে যে অর্জন করত, তা নির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব হচ্ছিল না।
রাজনৈতিক ভবিষ্যদ্বাণী
বাংলাদেশে কবে হবে হাসিনা স্বৈরতন্ত্রের অবসান? ২০০৯ সালের মাঝামাঝি থেকে এমন প্রশ্ন আমাকে করা শুরু হয়। এবং কিঞ্চিৎ তুষ্টির বিষয়, আমি তখন থেকে ২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২৪-এর কথিত নির্বাচনী দুঃস্বপ্নগুলোর ক্রমানুপাতিক সীমাহীনতা সত্তে¡ও মোটামুটি একই জবাব দিয়েছি প্রশ্নকর্তা-শ্রোতাদের। বলেছি- ক. ঘোষিত-স্বীকৃত নির্বাচনী ও রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় শেখ হাসিনার শাসনের অবসান ঘটানো যাবে না; খ. বাংলাদেশে আর কোনো ১৫ আগস্ট ঘটবে না (কিঞ্চিৎ ঘোরানো ভাষায় বলতাম অনির্বাচনী-অরাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় সরকার পতনের বাংলাদেশী অভিজ্ঞতার পুনরাবৃত্তি ঘটবে না) এবং গ. শেখ হাসিনার পতন কবে-কিভাবে ঘটবে তা অজানা, তবে শেখ হাসিনার পতন হবে তার বাবার পতনের চাইতে নির্মম ও বেদনাদায়ক। আমি যখন এই রাজনৈতিক ভবিষ্যদ্বাণী করতে শুরু করি, বাংলাদেশের সংবিধানে তখনো নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের নির্বাচনকালীন ব্যবস্থার নির্দেশনা বিদ্যমান ছিল। মৌখিক এ ভবিষ্যদ্বাণী শুরু করার মাস ছয়েক আগে আমি আরেকটি লিখিত রাজনৈতিক ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলাম।
‘বাংলাদেশে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা : সূচনা, বিকাশ এবং ভবিষ্যৎ’-শিরোনামে আমার একটি বই ছাপা হয় ২০০৯ সালের ৩০ জানুয়ারি । তার ঠিক এক মাস আগে, ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ এক মহাবিজয় অর্জন করে বলে দাবি করা হয়। আমার ওই বইতে ভবিষ্যদ্বাণী করি, শেখ হাসিনা সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বা নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল করবেন। এমন কথা সে সময়ে বলা গুরুতরভাবে অযৌক্তিক ও অকল্পনীয় ছিল, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের মনোযোগী পর্যবেক্ষকদের তা স্মরণে থাকার কথা। দলের শীর্ষ নেতৃত্ব, জোটের নেতৃত্ব, আইনজীবী-পেশাজীবীদের এক অব্যাহত আপত্তি-অসন্তোষ পায়ে মাড়িয়ে শেখ হাসিনা নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়কব্যবস্থা বাতিল করেন, ২০১১ সালের ৩০ জুন, সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর সূত্রে। আমি তা আগাম বলেছিলাম ২০০৯ সালের ৩০ জানুয়ারি!
আর দুই হাজার সাড়ে নয় সাল থেকে যে ভবিষ্যদ্বাণী করে চলেছিলাম, তার অনুবাদ হলো ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট। শেখ হাসিনাকে ঘোষিত নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় সরানো যায়নি, বাংলাদেশে দ্বিতীয় ১৫ আগস্ট ঘটেনি বটে। তবে শেখ হাসিনার পতন কি তার বাবার পতনের চাইতে নির্মম? এ চলমান সময়ে জীবিত শেখ হাসিনাকে কেউ একান্তে পর্যবেক্ষণের সুযোগ পেলে এ বিষয়ক উপযুক্ত ধারণা পাওয়া যেত। তার বাবা মৃত্যুর মাধ্যমে সব যাতনা-নির্মমতা থেকে মুক্তি পেয়েছেন। শেখ হাসিনা বেঁচে আছেন। তিনি কি কোনো যাতনায় আছেন? হলে, তা কতটুকু? শেখ হাসিনা পালায় না বলে প্রকাশ্য ঘোষণাদাতা শেখ হাসিনা যখন পালিয়েছেন বলে সবার মুখে শোনেন, তিনি কি তখন বেঁচে থাকেন? শেখ হাসিনার এ বেঁচে থাকা কি তার বাবার মৃত্যুর চাইতে কষ্টের-যাতনার? -এমন প্রশ্নের জবাব পেতে আরো কিছু সময় লাগবে হয়তো।
৩৬ জুলাইয়ের সাফল্যের তাৎক্ষণিক উপলব্ধি
৩৬ জুলাইয়ের সাফল্য দেশবাসীকে উৎসাহিত ও বাধ্য করেছে হাসিনা শাসনের বিপুল অথবা তাৎপর্যপূর্ণ অবিচার-অপরাধ এবং ১৬ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত দেড় হাজার খুন ও ৩০ হাজারের বেশি জখম-পঙ্গুত্বের বিচার নিয়ে এগোতে, বাধ্য করেছে পুরো রাজনৈতিক ব্যবস্থার এমন সংস্কার সাধনে, যাতে হাসিনার মতো স্বৈরশাসকের আর আবির্ভাব না ঘটে। এ বিচার ও সংস্কারের কাজগুলো একটি ঘোষিত-স্বীকৃত কাঠামোর আওতায় করতে হয়। তাই এতে সময় লাগে। এ সময় মাস গড়িয়ে বছরে যায়। কিছু করার নেই। মানে তাতে আপত্তি করা যায় না, বাধাগ্রস্ত করা যায় না। বিচার ও সংস্কারের কাজ এখন চলমান।
১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫, প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাদের এক সভায়, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সভায়, একটি তাৎপর্যপূর্ণ কথা বলেছেন- ধারণা দিয়েছেন। বলেছেন, ‘৩৬ জুলাই’-এর ঘষায় বাংলাদেশে আলাদিনের দৈত্য এসে হাজির হয়েছে। তার কাছে যা চাইবেন, পেতে পারেন। সেই দৈত্যের কাছে আপনি এক কাপ চা চাইবেন, এনে দেবে। আবার দৈত্যের কাছে সারা দুনিয়া হাজির করতে বলবেন, সারা দুনিয়া হাজির রাখবে। আপনি কি দৈত্যের কাছে এক কাপ চা চাইবেন না সারা দুনিয়া চাইবেন? এ দৈত্য বাংলাদেশে আর আসবে না। আমাদের উচিত আলাদিনের দৈত্যের কাছে সম্ভাব্য বেশিটা চাওয়া। আমরা-আপনারা এখন তা-ই করছি। বিচার করছি। সংস্কার করছি। পুরো রাজনৈতিক ব্যবস্থার সংস্কার করছি যেন আর কোনোভাবে স্বৈরশাসন ফিরে আসতে না পারে।
প্রফেসর ইউনূসের এ কথা-বক্তব্য-ধারণার মধ্যে ৩৬ জুলাইয়ের সাফল্য খুঁজে পাওয়া যায়, যা আসলে অনুগামী সাফল্য। নগদ সাফল্য ছিল ফ্যাসিনাৎসির বিদায় এবং সেটির প্রাসঙ্গিক বিষয়াদি। এর অনুগামী সাফল্য হলো গেল দেড় দশক ও বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড-অপরাধসমূহের বিচার এবং বাংলাদেশের পুরো রাজনৈতিক ব্যবস্থার সম্ভাব্য সেরা সংস্কার। এ দুটো কাজ এখন এগোচ্ছে। এ দুই কাজের সাফল্য পরে মূল্যায়ন করা যাবে।
অন্তর্বর্তীকালীন নির্বাহী বিভাগ আমি লিখেছি। প্রসঙ্গটি আমি গত তিন বছর (২০২২ থেকে) ধরে বলছি, শোনাচ্ছি। আধুনিক পশ্চিমা রাজনৈতিক তত্ত¡ মতে, আধুনিক সরকারের তিনটি ক্ষমতার শাখা থাকে, শাখাগুলো পৃথক ব্যক্তি বা সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত হয়, সেগুলোর পৃথক প্রধান থাকেন। সরকারি ক্ষমতার তিনটি শাখার নাম লেজিসলেচার, এক্সিকিউটিভ ও জুডিশিয়ারি। এ তিন শাখার প্রধানের পদের নাম বাংলাদেশে, যথাক্রমে, স্পিকার, প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিচারপতি। এ তিন পদ কখানো এক ব্যক্তির হাতে ন্যস্ত হলে তাকে সরকারপ্রধান বলা যাবে। যখন তা ঘটবে, মানে যখন এক ব্যক্তির হাতে সরকারের এ তিন শাখার ক্ষমতা ন্যস্ত হবে (যা আগে, মধ্য ও প্রাচীন যুগে, হতো)। তখন তা আর আধুনিক সরকার হিসেবে স্বীকৃতি পাবে না। ড. ইউনূস প্রধানমন্ত্রীর মর্যাদায় নির্বাহী বিভাগের প্রধান বা প্রধান উপদেষ্টা হয়েছেন। তাই তাকে ইন্টেরিম নির্বাহী প্রধান বলা সঙ্গত।
অন্তর্বর্তী সরকারের ঘাটতি
রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সরকার (মানে নির্বাহী বিভাগ এবং আরো নির্দিষ্ট করে নির্বাহী বিভাগের একাংশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও এর অঙ্গ সংস্থাগুলো)
১. জনগণের জীবন, সম্পদ ও সম্মানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে,
২. ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর অন্যায্য, বেআইনি ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ করে,
৩. আইনশৃঙ্খলার স্বাভাবিকতা নিশ্চিত করে,
৪. খাদ্য, ওষুধ ও ভোগ্যপণ্যে ভেজাল ঠেকায়,
৫. অননুমোদিত চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, ছিনতাই, চুরি, ডাকাতি ঠেকায় ও নিয়ন্ত্রণ করে,
৬. জনকল্যাণ, সামাজিক সৌন্দর্য-সৌহার্দ্য-সম্প্রীতি বাড়াতে সহায়ক হয়,
৭. সরকারের বিদেশবিষয়ক কার্যক্রম ছাড়া সব কার্যক্রমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সমর্থন-সক্রিয়তা প্রয়োজন ও কাক্সিক্ষত হয়,
৮. মানে, এক স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপযুক্ত সক্রিয়তা পুরো দেশ-সমাজের চেহারা বদলে দিতে পারে।
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির বিদ্যমান সুবিধা কাজে লাগিয়ে :
ক.পুলিশ বাহিনী প্রতিটি গ্রাম-মহল্লায় ব্যক্তি নাগরিকের ভীতিহীন ও স্বস্তির জীবন নিশ্চিত করতে পারে,
খ. সংঘটিত যেকোনো সীমালঙ্ঘন ও আক্রমণাত্মক কাজ-আচরণের প্রতিবিধান করতে পারে,
গ. ঘোষিত কিছু ক্ষেত্রে দৃষ্টান্তমূলক প্রতিক্রিয়ার মাধ্যমে জনমনে স্বস্তি ফেরাতে বা স্থাপন করতে পারে।
ফলে-
চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীমুক্ত একটি বাংলাদেশ দেখা যাবে। নিত্যপণ্যের মূল্য ন্যায্য হবে। কথিত ‘সিএনজিতে’ ঘোষিত ভাড়ায় চড়া যাবে। ইভটিজিং-কিশোর গ্যাং বন্ধ হবে, খুন-খারাবি কমবে। খাল-নদীর দখল-দূষণ থামবে। সামাজিক শান্তি বাড়বে, স্থিতিশীলতা আসবে। সামগ্রিক উন্নয়ন সচল হবে। এ জন্য চাই উপযুক্ত উদ্যমী ও দূরদর্শী নেতৃত্ব।
শেষ কথা : পরিবর্তিত এ রাজনৈতিক গতিধারা এগোতে পারবে যদি বিচার ও সংস্কার কাজ নিষ্ঠার সাথে এবং নিপুণতার সাথে সম্পন্ন করা যায়। পরবর্তী সময় এই ৩৬ জুলাইকে মূল্যায়ন করবে।
লেখক : প্রফেসর, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ



