আত্মসচেতন হওয়ার বিকল্প নেই

ধীরে ধীরে অর্থনীতিকে আনুষ্ঠানিক খাতে আনা দীর্ঘমেয়াদে ইতিবাচক। দেশীয় প্রতিষ্ঠানগত দুর্বলতা মূলত প্রশাসনের সক্ষমতার অভাব থেকে সৃষ্টি হয়। বিভিন্ন দফতরের মধ্যে দুর্বল সমন্বয় আইন অমান্যকারীদের যথাযথভাবে শাস্তি দেয়া কঠিন করে তোলে। এই দুর্বলতা সরকারি ও বেসরকারি উভয় খাতে দুর্নীতি ও অপব্যবহারকে উৎসাহিত করে। এর সাথে শিথিল আন্তর্জাতিক নীতিমালা যুক্ত হয়, যা বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর পক্ষে যায়। ফলে দুর্বল কর প্রশাসন রাজস্ব হারায় এবং যারা কর দেয় তারাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দারিদ্র্য হ্রাস স্বাস্থ্য ব্যয়, অপরাধ দমন ব্যয় কমাবে এবং কর রাজস্ব বাড়াবে। স্বাস্থ্য ও অপরাধ দমন খাতে সরকারি ব্যয় সাশ্রয় হবে। যদিও দারিদ্র্য হ্রাসে প্রাথমিক বিনিয়োগ প্রয়োজন, তবে এর ফলাফল হবে বহুমুখী একটি সুস্থ সমাজ, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং কর রাজস্ব বৃদ্ধি। সব খানেই দায়িত্বশীল আচরণ, অর্থাৎ— আত্মসচেতন হওয়া ছাড়া বিকল্প নেই

প্রকৃতি প্রতিশোধ নেয়, তাতে কোনো সন্দেহ নেই, তেমনি প্রকৃতির প্রতিশোধ মোকাবেলায় সচেতনতার অনিবার্যতাও অস্বীকারের উপায় নেই। দিনে দিনে বেড়েছে প্রকৃতির প্রতি অত্যাচারের, অস্বীকারের, উপেক্ষার দেনা। মিথ্যাকে প্রশ্রয় দিতে দিতে সত্যকে করা হয়েছে হীনম্মন্য, দুর্বল ও পুষ্টিহীন। পঞ্চদশ শতক থেকে বর্গিরা এসেছে এই সুখী সমৃদ্ধ বাংলায়। সমৃদ্ধ জনপদ হয়েছে শোষণ বঞ্চনার আর দুরভিসন্ধিমূলক ঔপনিবেশিক কর্মকাণ্ডের শিকার। দূরের ও কাছের বর্গিরা ভূ-রাজনীতির ভায়রা ভাই হিসেবে ভোল পাল্টে এখনো সঙ্গোপনে ঢুকেছে দৃষ্টিভঙ্গি ও প্রবণতার মধ্যে, রক্তপ্রবাহের মধ্যে বর্গিদের এজেন্ট করছে নিত্য বসবাস। এটি তো নতুন কথা নয়, সেই স্বর্গচ্যুতির সময়ে শয়তান ‘বর’ নিয়ে এসেছিল আশরাফুল মাখলুকাতের মধ্যে বিভেদ-বিভ্রান্তি সৃষ্টির। শয়তানের কাজ শয়তান সাফল্যের সাথে করে যাচ্ছে। তাই বলে আশরাফুল মাখলুকাতের কি কর্তব্য নয় শয়তানকে প্রতিহত করার? আর তা করতে প্রত্যেকের তরফে এটি দেখা দরকার, যেন শয়তান জিতে না যায়।

শয়তান কিন্তু জিতে যাচ্ছে; আর পরাজিত আশরাফুল মাখলুকাত যেন পশ্চাৎপসরণে শশব্যস্ত। জাতীয় কবি কাজী নজরুল যেমন প্রশ্নটি রেখেছিলেন, ‘আল্লাহতে যার পূর্ণ ঈমান, কোথা সে মুসলমান’... ‘কোথা সে শিক্ষা-আল্লাহ ছাড়া ত্রিভুবনে ভয় করিত না যারা’। এই মুহূর্তে চারদিকে যদি তাকাই, দেখি, ‘স্ত্রী-পুত্ররে আল্লারে সঁপি জেহাদে যে নির্ভীক হেসে কোরবানি দিত প্রাণ— হায় আজ তারা মাগে ভিখ।’ এতই হীনম্মন্য হতে চলেছে সবাই বিশ্বশান্তি রক্ষার নামে শান্তিকে করা হচ্ছে শাঁখের করাতে কাটার উপায় উপলক্ষ ও উপকরণে। সবাই এতটাই বেখেয়াল যে, বিশ্ব যখন চলিছে এগিয়ে ভূগোলের এ অংশে সবাই তখন যেন ‘বিবি তালাকের ফতোয়া নিয়ে’ ব্যতিব্যস্ত। অর্থাৎ— সবার আত্মসচেতনতার পরিস্থিতি প্রেক্ষাপটও বেদখল হয়ে যাচ্ছে।

ইসরাইল আমেরিকা বনাম ইরানের মহাসমরের অনিবার্য পরিণতিতে বিশ্বব্যাপী ব্যাপক অর্থনৈতিক বিপর্যয় সমুপস্থিত। বাংলাদেশের মতো উদীয়মান অর্থনীতিতে এর ব্যাপক প্রভাব প্রতিক্রিয়া ইতোমধ্যেই পরিলক্ষিত। এখন এই মুহূর্তে দেশ ও রাজনৈতিক অর্থনীতির বিভিন্ন পর্যায়ে অপচয়-অপব্যয় পরিহারের অনিবার্যতা উঠে আসছে। কেননা, অপচয়-অপব্যয় ব্যষ্টি ও সমষ্টির সামগ্রিক অবয়বে অনির্বচনীয় দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। মধ্যপ্রাচ্যে মহাসমরের প্রভাব মোকাবেলায় আমাদের প্রস্তুতির ব্যাপারে বড্ড উদাসীনতা দেখা যায়— যখন দেখা যাচ্ছে তেল, গ্যাস, পানি, বিদ্যুৎ ব্যবহারের ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক করতে হচ্ছে স্বয়ং সরকারপ্রধানকে। এটি ঠিক যে, ‘যত দোষ নন্দঘোষ’ হিসেবে পানি, জ্বালানি, বিদু্যুৎ, গ্যাস ও সারের হাহাকার হলে রাষ্ট্র পরিচালনায় দায়িত্বপ্রাপ্ত সরকারকেই দোষারোপ করা হবে, দায়ী করা হবে। অথচ সবাই নিজেরা যার যার জায়গা থেকে কেন গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি ব্যবহারে সচেতন হবো না? পানি, জ্বালানি, গ্যাস ও বিদ্যুৎ কিন্তু একেকটি সমস্যা নয়— এদের রয়েছে পরস্পর প্রযুক্ত অসংখ্য দুর্বিপাকের সম্পর্ক। যেমন চলমান বোরো মৌসুমে পানি পেতে সেচযন্ত্র চালাতে লাগবে ডিজেল বা বিদ্যুৎ, সেখানে শর্ট পড়লে চলবে না, বড় ফসল মার গেলে খাদ্যসঙ্কট হবে। সুতরাং পানির বিকল্প আধার তৈরিতে সবাইকে সচেতন হতে হবে, খাল-নদী খনন করে পানির আধার তৈরি করতে হবে, সেচের জন্য সোলার বিদ্যুৎ উৎপাদনে যেতে হবে। দেশের নিজস্ব তেল-গ্যাস কূপ খনন জোরদার করতে হবে, নিজের উৎসে না ফিরে এলএনজি আমদানি কিংবা আদানির বিদ্যুৎ আমদানির ভরসায় বসে থাকা হচ্ছে বা হবে বড় বোকামি।

অপব্যয়ের ফলে স্বভাবত অন্যান্য ক্ষেত্রের ন্যায্য দায় পরিশোধে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়ে থাকে বলেই ব্যয় ও ব্যবহারের ক্ষেত্রে সুষম অবস্থা অবলম্বনের তাগিদ দেয়া হয়েছে। সম্পদ সসীম। চাহিদা অসীম। সম্পদের সুষম ব্যবহারে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে চাহিদা মেটানো জরুরি। সময় ও সামর্থ্যরে অপব্যয়ের অবকাশ নেই। অপব্যয়-অপচয়ে অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি ব্যাহত হয়, ভোগ ও বণ্টন প্রক্রিয়ায় বৈষম্য প্রকট হয়ে ওঠে।

পানাহারেও মধ্যপন্থা অবলম্বনের প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। প্রয়োজনের অধিক খাদ্য গ্রহণ অনুচিত। হজরত ওমর রা: বলেন, ‘বেশি পানাহার থেকে বেঁচে থাকো। কারণ অধিক পানাহার দেহকে নষ্ট করে, নানান রোগের জন্ম দেয় এবং কর্মে অলসতা সৃষ্টি করে। পানাহারের ক্ষেত্রে মধ্যপন্থা অবলম্বন করো। এটি দৈহিক সুস্থতার পক্ষে উপকারী এবং অপব্যয় থেকে দূরবর্তী।’

অর্থনীতি চাঙ্গা করতে হলে মানুষের কর্মসৃজন হতে হবে, মানুষের পারচেজিং পাওয়ার না বাড়াতে পারলে পণ্য উৎপাদন ও বিক্রি বাড়বে না। বিক্রি না বাড়লে রেভিনিউ আসবে না, সুতরাং অচল অর্থনীতি সচল না হলে, এর সাথে জড়িত সব পক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। পারচেজিং পাওয়ার বাড়ার জন্য ক্রেতাকে সাশ্রয়ী হতে হবে, সঞ্চয়ী হতে হবে। কিন্তু কিভাবে? সরকার নিজস্ব আয় দিয়ে যখন গণব্যয় মেটাতে পারবে না, তখন তাকে ধার-কর্জ করতে হবে; সেই ধার-কর্জের দেনা শোধ করতে গেলে ব্যয়ের বাজেটে টান পড়বে। তাহলে উপায়? সরকার শিক্ষককে পূর্ণ বেতন দিচ্ছে— এরপরও যদি শিক্ষক ক্লাসে না পড়িয়ে কোচিংয়ের খরচ জোগাতে অভিভাবককে বাধ্য করেন, তাহলে এখানে তিনটি ক্ষতি হয়ে গেল— অনেক কষ্টে জোগাড় করা সরকারি অর্থের অপচয়, মানসম্পন্ন শিক্ষা পেতে অভিভাবককে অতিরিক্ত অর্থ সরকার নিয়োজিত শিক্ষককে দিতে হচ্ছে। এতে তার নিজের সঞ্চয়, তার পারচেজিং পাওয়ার কমে গেল, সরকারি হাসপাতালে ন্যায্য চিকিৎসা পাওয়ার পরিবর্তে ক্লিনিকে যদি তাকে আলাদা খরচ করতে হয়, ফলে তার পারচেজিং পাওয়ার কমে যাবে। শিক্ষক ও চিকিৎসককে এ বিষয়টি বুঝতে হবে, দায়িত্বশীল হতে হবে। সরকারি সব সেবা সংস্থাকে (পুলিশ, ভূমি অফিস, সাব-রেজিস্ট্রার, সমাজসেবা অধিদফতর, ইঞ্জিনিয়ারিং দফতর, পানি বোর্ড, বিদ্যুৎ অফিস) যদি দায়িত্বশীল হতে বলা হয়, তাহলে কি দোষের কিছু হবে? যারা নিয়মিত ভালো বেতন পান , অনেকে রেশন পান— এর পরও যদি দুর্নীতির আশ্রয় নিয়ে সেবাগ্রহীতাকে বাড়তি ব্যয়ে বাধ্য করেন, তা হলে অন্যায় করা হবে।

বিশ্ব ও জাতির অর্থনৈতিক এই সঙ্কটময় মুহূর্তে এটি সবার উপলব্ধির আওতায় আসা আবশ্যক যে, যে ব্যবসায়-বাণিজ্য ও বিনিয়োগের মাধ্যমে পণ্য বা সামগ্রী উৎপন্ন ও বিপণন হয়, কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়, দেশজ সম্পদ উৎপাদনে গঠনমূলক অবদান রাখতে সক্ষম হয়— সে ব্যবসায়-বাণিজ্যকে কল্যাণকর মানতে হবে। ঠিক এ সময় বাড়তি ব্যয় পরিহার অপরিহার্য। অতিভক্তি চোরের লক্ষণ বলে একটি কথা প্রচলিত আছে। দেখা যায়, তোষামোদি ও চাটুকারিতায় অনেকেই হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে ফেলে নিজের দলের কিংবা সবার জন্য ঝামেলার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বিভিন্ন পরিবর্তন প্রেক্ষাপট দেখা যায় দলীয় বাহিনী, চাটুকার, বর্ণচোরা, আত্মীয়বর্গ ও চাঁদাবাজ খয়েরখাঁরাই জাতীয় অর্থনীতিতে মারাত্মক ক্ষত সৃষ্টি করতে পারে। এসব ধৈর্যের সাথে মোকাবেলা করেই সবাইকে সম্পৃক্ত করে দেশ ও সমাজ-সংসার অর্থনীতির সংস্কার সাধনে সচেষ্ট হওয়ার আবশ্যকতা দেখা দেবে।

ভয়, ক্ষুধা, ধন-মালের, ফল-ফসলের ক্ষয়ক্ষতি নানান দুর্ঘটনা উদ্ভূত বলে প্রতীয়মান হয়। সন্দেহ নেই, এতে মারাত্মক অর্থনৈতিক বিপর্যয় ঘটে, ব্যক্তি তথা সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনে যেকোনো সময় নানান দুর্ভোগ ও দুর্বিপাক আপতিত হতে পারে। যখন গোটা সমাজের উপর দুর্দশা ও বিপদ ঘনিয়ে আসে, তখন গোটা সমাজ ও রাষ্ট্রব্যবস্থাকে ধৈর্যের সাথে তার মোকাবেলা করা উচিত।

বিভিন্ন দেশে দারিদ্র্যদূরীকরণের প্রচেষ্টা মূলত শিক্ষাকে কেন্দ্র করে হয়েছে। এটিকে দেখা হয়েছে অর্থনৈতিক, প্রযুক্তিগত ও বুদ্ধিবৃত্তিক উন্নয়নের চাবিকাঠি হিসেবে। দারিদ্র্যের কারণ হিসেবে দেখা যায়— দুর্নীতি, দুর্বল শাসন, ঋণের বোঝা, বেকারত্ব, কম উৎপাদনশীলতা, জনসংখ্যা বৃদ্ধি, বিশ্বায়ন, অকার্যকর সরকারি নীতি ও দক্ষতা প্রশিক্ষণের অভাব।

জাকাতব্যবস্থা দারিদ্র্য দূরীকরণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ : ব্যক্তিগত ও সরকারি খাতের উন্নয়ন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং দারিদ্র্য হ্রাসে এর ভূমিকা অপরিসীম। দারিদ্র্য এমন একটি বিষয় যা প্রতিটি রাষ্ট্রের সরকারের বিশেষ মনোযোগ দাবি করে। এ জন্য সরকারের নীতি দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে টেকসই জীবিকা অর্জনে সহায়তা করার দিকে মনোযোগী।

এই দৃষ্টিভঙ্গি হলো সমাজ, পরিবার ও ব্যক্তিকে অর্থনৈতিকভাবে ক্ষমতায়িত করা একটি সুসংগঠিত ও সমন্বিত দারিদ্র্য দূরীকরণ কর্মসূচির মাধ্যমে।

উপযুক্ত দারিদ্র্য কৌশল হওয়া উচিত : ১. সবাইকে টেকসই জীবিকা অর্জনের সুযোগ দেয়া; ২. পর্যাপ্ত অর্থায়ন ও মানব উন্নয়ন নীতি গ্রহণ করা, যার মধ্যে আয় বৃদ্ধি, স্থানীয় সম্পদের উপর নিয়ন্ত্রণ বৃদ্ধি, স্থানীয় প্রতিষ্ঠান শক্তিশালীকরণ, এনজিও ও স্থানীয় সরকারকে সম্পৃক্ত করা অন্তর্ভুক্ত; ৩. দারিদ্র্যপীড়িত এলাকাগুলোকে পরিবেশবান্ধব উন্নয়ন, সম্পদ সংগ্রহ, কর্মসংস্থান ও আয় বৃদ্ধির মাধ্যমে উন্নত করা; ৪. জাতীয় উন্নয়ন পরিকল্পনা ও বাজেটে মানবসম্পদ উন্নয়নের মাধ্যমে দারিদ্র্য দূরীকরণে গুরুত্ব দেয়া, বিশেষত গ্রামীণ এলাকা, শহরের দরিদ্র, নারী ও শিশুদের জন্য বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ করা; ৫. উপযুক্ত অবকাঠামো ও সহায়ক ব্যবস্থা গড়ে তোলা, যাতে প্রকল্প, কর্মসূচি ও উদ্যোগগুলো গ্রাসরুট পর্যায়ে টেকসইভাবে বাস্তবায়িত হয়।

তাই অনানুষ্ঠানিক খাতের বিভিন্ন ধরনের কর্মীদের আলাদা করে চিহ্নিত করা জরুরি, যাতে দারিদ্র্য ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে সংগ্রামে ন্যায়সঙ্গত রাজনৈতিক সমাধান পাওয়া যায়। ধীরে ধীরে অর্থনীতিকে আনুষ্ঠানিক খাতে আনা দীর্ঘমেয়াদে ইতিবাচক। দেশীয় প্রতিষ্ঠানগত দুর্বলতা মূলত প্রশাসনের সক্ষমতার অভাব থেকে সৃষ্টি হয়। বিভিন্ন দফতরের মধ্যে দুর্বল সমন্বয় আইন অমান্যকারীদের যথাযথভাবে শাস্তি দেয়া কঠিন করে তোলে। এই দুর্বলতা সরকারি ও বেসরকারি উভয় খাতে দুর্নীতি ও অপব্যবহারকে উৎসাহিত করে। এর সাথে শিথিল আন্তর্জাতিক নীতিমালা যুক্ত হয়, যা বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর পক্ষে যায়। ফলে দুর্বল কর প্রশাসন রাজস্ব হারায় এবং যারা কর দেয় তারাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

দারিদ্র্য হ্রাস স্বাস্থ্য ব্যয়, অপরাধ দমন ব্যয় কমাবে এবং কর রাজস্ব বাড়াবে। স্বাস্থ্য ও অপরাধ দমন খাতে সরকারি ব্যয় সাশ্রয় হবে। যদিও দারিদ্র্য হ্রাসে প্রাথমিক বিনিয়োগ প্রয়োজন, তবে এর ফলাফল হবে বহুমুখী একটি সুস্থ সমাজ, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং কর রাজস্ব বৃদ্ধি। সব খানেই দায়িত্বশীল আচরণ, অর্থাৎ— আত্মসচেতন হওয়া ছাড়া বিকল্প নেই।

লেখক : সাবেক সচিব, এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান