রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার প্রত্যাশা

রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার জন্য সরকার, বিরোধী রাজনৈতিক শক্তি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, নাগরিক সমাজ এবং তরুণ প্রজন্ম- সবারই দায়িত্ব রয়েছে। দায়িত্বশীল রাজনৈতিক আচরণ, গঠনমূলক বিতর্ক, সামাজিক সম্প্রীতি, তথ্যভিত্তিক জনমত এবং আইনের শাসনের প্রতি সম্মিলিত অঙ্গীকারই পারে বাংলাদেশকে একটি স্থিতিশীল, উন্নত ও আত্মবিশ্বাসী রাষ্ট্রে পরিণত করতে। কারণ ইতিহাসের শিক্ষা স্পষ্ট- যে রাষ্ট্র রাজনৈতিকভাবে স্থিতিশীল, ভবিষ্যৎ শেষ পর্যন্ত তার পক্ষেই কথা বলে

রাষ্ট্রবিজ্ঞানী স্যামুয়েল হান্টিংটন তার বিখ্যাত গ্রন্থ চড়ষরঃরপধষ ঙৎফবৎ রহ ঈযধহমরহম ঝড়পরবঃরবং-এ লিখেছিলেন, ‘রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান দুর্বল হলে উন্নয়ন নিজেই অস্থিরতার উৎসে পরিণত হয়।’ আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থার বাস্তবতা আজ এই তত্ত্বকেই নতুনভাবে সত্য প্রমাণ করছে। কেবল অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, অবকাঠামোগত উন্নয়ন কিংবা প্রযুক্তিগত অগ্রগতি কোনো রাষ্ট্রকে দীর্ঘমেয়াদে নিরাপদ ও সমৃদ্ধ করতে পারে না, যদি সেই রাষ্ট্রে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, প্রাতিষ্ঠানিক ভারসাম্য এবং সামাজিক আস্থা অনুপস্থিত থাকে। দক্ষিণ এশিয়ার সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতা বিশেষ করে বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা কিংবা পাকিস্তানের অভিজ্ঞতা আমাদের সামনে স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, রাজনৈতিক অস্থিরতা শেষ পর্যন্ত অর্থনৈতিক সঙ্কট, সামাজিক বিভাজন এবং রাষ্ট্রীয় দুর্বলতার জন্ম দেয়। বিপরীতে স্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিবেশ বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান, শিক্ষা, গবেষণা এবং জাতীয় ঐক্যের ভিত্তিকে শক্তিশালী করে।

বাংলাদেশ বর্তমানে এমন এক সময় অতিক্রম করছে, যেখানে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার প্রশ্নটি কেবল রাজনৈতিক আলোচনার বিষয় নয়; বরং এটি অর্থনীতি, শিক্ষা, কূটনীতি, বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান এবং সামাজিক সম্প্রীতির সাথে গভীরভাবে সম্পর্কযুক্ত একটি জাতীয় ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। গত কয়েক বছরে উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বৈদেশিক ঋণের চাপ, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা, জ্বালানি সঙ্কট এবং অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক টানাপড়েন দেশের মানুষের জীবনে বহুমাত্রিক প্রভাব ফেলেছে। জাতিসঙ্ঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক সম্পর্ক বিভাগের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের মূল্যস্ফীতি সবচেয়ে বেশি- প্রায় ৮ দশমিক ৯ শতাংশ। বিশ্বব্যাংক ও পিপিআরসির গবেষণাতেও দেখা গেছে, উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় ব্যাপকভাবে বেড়ে গেছে এবং দারিদ্র্যের হারও পুনরায় ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। এই বাস্তবতায় রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এখন বিলাসিতা নয়; বরং অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের পূর্বশর্ত।

এই প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের সাথে মতবিনিময়কালে যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি বলেছেন, ‘দেশে স্থিতিশীল পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। রাজনীতি সংসদে হওয়া উচিত। শুধু রাজপথে হইচই করে কিছু গড়ে তোলা যায় না।’ তার বক্তব্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক স্পষ্ট হয়েছে- উন্নয়নকে টেকসই করতে হলে রাজনৈতিক সঙ্ঘাতের পরিবর্তে আলোচনাকেন্দ্রিক রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে মতবিরোধ থাকবে, বিতর্ক থাকবে; কিন্তু সেই মতপার্থক্য যদি সহিংসতা, অরাজকতা কিংবা সামাজিক বিভাজনে রূপ নেয়, তবে তা রাষ্ট্রের অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করে।

প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের জনমত গঠনের আহ্বান জানিয়ে যে বিষয়টি সামনে এনেছেন, সেটিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ আধুনিক বিশ্বে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা কেবল প্রশাসনিক শক্তি দিয়ে রক্ষা করা যায় না; এর জন্য প্রয়োজন সামাজিক ঐকমত্য, দায়িত্বশীল নাগরিক চেতনা এবং গণতান্ত্রিক সহনশীলতা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের যুগে গুজব, বিভ্রান্তি এবং অপপ্রচার অনেকসময় রাজনৈতিক উত্তেজনাকে বহুগুণ বাড়িয়ে তোলে। ফলে স্থিতিশীলতার প্রশ্নটি এখন কেবল রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং নাগরিক সমাজ, শিক্ষিত তরুণ প্রজন্ম, গণমাধ্যম এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের আচরণের সাথেও সম্পর্কযুক্ত।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন সম্প্রতি এক সংলাপে বলেছেন, ‘আমরা চাই পারস্পরিক সৌহার্দ্য থাকবে, সহাবস্থান থাকবে। এমন রাজনীতি থাকবে, যেখানে অপপ্রচার থাকবে না।’ তার এই বক্তব্য রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার আরেকটি মৌলিক উপাদানকে সামনে আনে-সহাবস্থান ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ। গণতন্ত্রের মূল শক্তি হলো বিরোধী মতের সহনশীল স্বীকৃতি। যখন রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা শত্রুতায় পরিণত হয়, তখন সমাজে বিভাজন তৈরি হয় এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোও রাজনৈতিক মেরুকরণের শিকার হয়। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বহুবার দেখা গেছে, রাজনৈতিক সঙ্ঘাত শেষ পর্যন্ত অর্থনীতি ও প্রশাসনকে অকার্যকর করে তোলে। তাই রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা মানে কেবল ক্ষমতায় স্থায়ী থাকা নয়; বরং এমন একটি পরিবেশ নিশ্চিত করা, যেখানে রাজনৈতিক মতভিন্নতা সত্ত্বেও রাষ্ট্রীয় কার্যক্রম ও সামাজিক সম্প্রীতি অক্ষুণ্ন থাকে।

অর্থনীতির দৃষ্টিকোণ থেকেও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার গুরুত্ব অপরিসীম। উন্নয়ন অর্থনীতির বহু গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব দেশে রাজনৈতিক সহিংসতা কম এবং নীতিগত ধারাবাহিকতা বেশি, সেসব দেশেই বৈদেশিক বিনিয়োগ ও শিল্পায়ন দ্রুত বৃদ্ধি পায়। বাংলাদেশে বর্তমানে বিদেশী বিনিয়োগ প্রত্যাশার তুলনায় কম হওয়ার অন্যতম কারণ হিসেবে বিনিয়োগকারীরা রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, প্রশাসনিক জটিলতা এবং নীতিগত অস্থিরতার কথা উল্লেখ করেন। অর্থনীতিবিদ ডগলাস নর্থ তার প্রাতিষ্ঠানিক অর্থনীতি তত্ত্বে দেখিয়েছেন, শক্তিশালী ও পূর্বানুমানযোগ্য রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান ছাড়া টেকসই বাজারব্যবস্থা গড়ে ওঠে না। বাংলাদেশে কর্মসংস্থান, শিল্পায়ন ও প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতির বিকাশ ঘটাতে হলে দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা অপরিহার্য।

এখানে শ্রীলঙ্কার অভিজ্ঞতা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ভয়াবহ অর্থনৈতিক সঙ্কটের মধ্য দিয়ে দেশটি যখন প্রায় দেউলিয়া অবস্থায় পৌঁছেছিল, তখন রাজনৈতিক অস্থিরতা পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তোলে; কিন্তু পরবর্তী সময়ে নির্বাচনের মাধ্যমে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা, আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সাথে সমন্বিত সংস্কার কর্মসূচি এবং প্রশাসনিক পুনর্গঠনের ফলে দেশটি ধীরে ধীরে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। বর্তমানে শ্রীলঙ্কার মূল্যস্ফীতি দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। এই অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা বহন করে-রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ছাড়া অর্থনৈতিক সংস্কার কার্যকর হয় না।

রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার সাথে শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নের সম্পর্কও গভীর। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মশালায় যে বিষয়গুলো তুলে ধরেছেন- চতুর্থ শিল্পবিপ্লব, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবটিকস, সাইবার সিকিউরিটি, উদ্যোক্তা উন্নয়ন এবং গবেষণাকেন্দ্রিক, শিক্ষা-সেগুলো কেবল শিক্ষানীতির বিষয় নয়; বরং ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রব্যবস্থার ভিত্তি। বিশ্বের অর্থনীতি দ্রুত প্রযুক্তিনির্ভর হয়ে উঠছে। এই পরিবর্তনের সাথে খাপ খাওয়াতে না পারলে বাংলাদেশের বিপুল তরুণ জনগোষ্ঠী জনমিতিক সম্পদ না হয়ে; বরং বোঝায় পরিণত হতে পারে। তাই রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার সাথে শিক্ষাব্যবস্থার আধুনিকায়ন ও কর্মমুখী দক্ষতা উন্নয়ন ওতপ্রোতভাবে জড়িত।

বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর পর্যবেক্ষণও গুরুত্ববহ। আন্তর্জাতিক র‌্যাংকিংয়ে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর পিছিয়ে থাকার পেছনে গবেষণার সীমাবদ্ধতা, বাজেট সঙ্কট এবং উদ্ভাবন ঘাটতির বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরেই আলোচিত; কিন্তু গবেষণা ও উদ্ভাবনের জন্য যে দীর্ঘমেয়াদি নীতিগত সহায়তা প্রয়োজন, সেটি রাজনৈতিক অস্থিরতার পরিবেশে বাস্তবায়ন করা কঠিন। উন্নত বিশ্বে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো কেবল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়; বরং রাষ্ট্রীয় উদ্ভাবন ও নীতিনির্ধারণের কেন্দ্র। বাংলাদেশেও যদি জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি গড়ে তুলতে হয়, তবে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার পাশাপাশি গবেষণা ও উদ্ভাবনের জন্য ধারাবাহিক রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগ প্রয়োজন।

রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ মাত্রা হলো সামাজিক সম্প্রীতি। তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন সম্প্রতি বলেছেন, সামাজিক ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা আগামী দিনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। তার বক্তব্যে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও বিভাজনবিরোধী অবস্থানের বিষয়টিও উঠে এসেছে। বাংলাদেশ ঐতিহাসিকভাবে বহু ধর্ম, ভাষা ও সংস্কৃতির সহাবস্থানের দেশ; কিন্তু রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বিভাজনমূলক বক্তব্য বা সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা সৃষ্টি হলে তা রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। মধ্যপ্রাচ্য থেকে দক্ষিণ এশিয়ার বহু রাষ্ট্রের অভিজ্ঞতা দেখিয়েছে, সামাজিক বিভাজন একসময় অর্থনীতি ও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার জন্যও হুমকিতে পরিণত হয়।

আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সম্প্রতি ওআইসিভুক্ত দেশগুলোর রাষ্ট্রদূতদের সাথে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে বিনিয়োগ, বাণিজ্য, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধির যে আগ্রহ প্রকাশ করা হয়েছে, তা বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্ভাবনার ইঙ্গিত দেয়; কিন্তু বিদেশী অংশীদাররা সবসময় এমন একটি রাষ্ট্রকেই অগ্রাধিকার দেয়, যেখানে নীতিগত ধারাবাহিকতা ও রাজনৈতিক স্থিতি রয়েছে। কূটনীতি, বাণিজ্য এবং আঞ্চলিক সহযোগিতার ক্ষেত্রেও তাই রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা একটি মৌলিক শর্ত।

তবে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা মানে কোনোভাবেই মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সঙ্কুচিত করা নয়; বরং প্রকৃত স্থিতিশীলতা তখনই প্রতিষ্ঠিত হয়, যখন জনগণ ন্যায়বিচার, অংশগ্রহণমূলক রাজনীতি এবং আইনের সমান প্রয়োগের নিশ্চয়তা পায়। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও গণতন্ত্র একে-অপরের পরিপূরক। জনগণের আস্থা ছাড়া কোনো রাষ্ট্র দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীল থাকতে পারে না। তাই বিরোধী মতকে দমন নয়; বরং সংলাপ ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে রাজনৈতিক সমাধান খুঁজে বের করাই হওয়া উচিত রাষ্ট্রের লক্ষ্য।

বাংলাদেশ আজ এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। এক দিকে রয়েছে বিপুল তরুণ জনগোষ্ঠী, প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতির সম্ভাবনা, আঞ্চলিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং বৈশ্বিক শ্রমবাজারে নতুন সুযোগ; অন্য দিকে রয়েছে উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বেকারত্ব, বৈদেশিক ঋণের চাপ এবং রাজনৈতিক বিভাজনের ঝুঁঁকি। এই বাস্তবতায় রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা কেবল একটি রাজনৈতিক স্লোগান নয়; বরং টিকে থাকার জাতীয় কৌশল। স্থিতিশীলতা ছাড়া উন্নয়ন টেকসই হবে না, বিনিয়োগ বাড়বে না, শিক্ষা আধুনিক হবে না এবং সামাজিক আস্থাও পুনর্গঠিত হবে না।

অতএব, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার জন্য সরকার, বিরোধী রাজনৈতিক শক্তি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, নাগরিক সমাজ এবং তরুণ প্রজন্ম- সবারই দায়িত্ব রয়েছে। দায়িত্বশীল রাজনৈতিক আচরণ, গঠনমূলক বিতর্ক, সামাজিক সম্প্রীতি, তথ্যভিত্তিক জনমত এবং আইনের শাসনের প্রতি সম্মিলিত অঙ্গীকারই পারে বাংলাদেশকে একটি স্থিতিশীল, উন্নত ও আত্মবিশ্বাসী রাষ্ট্রে পরিণত করতে। কারণ ইতিহাসের শিক্ষা স্পষ্ট- যে রাষ্ট্র রাজনৈতিকভাবে স্থিতিশীল, ভবিষ্যৎ শেষ পর্যন্ত তার পক্ষেই কথা বলে।

লেখক : অধ্যাপক (অব:), সরকার ও রাজনীতি বিভাগ,জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়