মোহাম্মদ কামরুজ্জামান
মহামান্য রাষ্ট্রপতি মো: সাহাবুদ্দিন, আপনি সাম্প্রতিক সময়ে এক দৈনিক পত্রিকায় নিজেকে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন মজলুম হিসেবে। আপনি যতই তা করার চেষ্টা করুন মজলুমের পক্ষে আপনি দাঁড়াননি। চব্বিশের আন্দোলনে নির্বিচারে হত্যার বিপক্ষে সরব হননি। চুপ ছিলেন আবু সাইদ হত্যার সময়। কথা বলেননি মীর মুগ্ধ হত্যায় জড়িতদের বিরুদ্ধে।
ছাদের কার্নিশ ধরে ঝুলে থাকা ছেলেটাকে যখন আপনার প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে গুলি করা হয় তখন কোথায় ছিলেন আপনি। আশুলিয়ায় জীবন্ত পুড়িয়ে মারা ছেলেগুলো কী অপরাধ করেছিল মহামান্য? দেড় হাজারের উপর হত্যাকাণ্ড ঘটার পরও আপনার বিবেক জাগ্রত হয়নি? অন্তর্বর্তী সরকারের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন, আপনাকে বিদেশে চিকিৎসা নিতে দেয়নি।
বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে বারবার বিদেশে চিকিৎসার পরামর্শ দিলেও তাকে বিদেশে যেতে না দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্য সফল করছিল আওয়ামী লীগ সরকার। তখনো আপনি চুপ ছিলেন। আপনার সামনে একাধিক অপশন ছিল মহামান্য। আপনি অপশনগুলোর সদ্ব্যবহার করেননি। আপনি প্রতিবাদ করে বিবৃতি দিতে পারতেন।
সেনাপ্রধান, পুলিশ প্রধান সর্বশেষ প্রধানমন্ত্রীকে বঙ্গভবনে তলব করতে পারতেন। সবশেষ নিজে পদত্যাগ করতে পারতেন। এর কোনোটিই করেননি। বরং সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে খুব মোহনীয়ভাবে বিএনপিকে তৈলাক্ত করেছেন। প্রশংসায় ভাসিয়েছেন দলটির চেয়ারম্যানকে। কিন্তু মহামান্য আপনার কি মনে আছে তারেক রহমানকে খাম্বা উপাধি দিয়ে আপনার বক্তব্যটি? নিশ্চয়ই আপনি স্মৃতিভ্রষ্ট হননি। সাক্ষাৎকারে মোট সাতবার বিএনপিকে মহান দল হিসেবে অভিহিত করেছেন। যারা ২৪-এ আন্দোলন করেছিল বাকিরা কি মহান নয়! আপনার বিবেচনাটি একতরফা হয়নি?
আপনি প্রধান উপদেষ্টাকে দায়ী করেছেন। বলেছেন, আপনাকে আড়াল করে রাখা হয়েছে। আপনি ২৪-এর আন্দোলনে কোথায় ছিলেন? নিশ্চয়ই পৃথিবীর বুকে আপনার বাস ছিল! তা হলে এ দেশের মানুষের মনে আপনি এবং আপনার দল সম্পর্কে যে মনোভাব ছিল এবং এখনো আছে, তা কি আপনি অবগত নন? আপনি যদি উত্তেজিত জনতা দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত হতেন, প্রকাশ্যে বের হওয়ার ইচ্ছা তখন কোথায় যেত? আপনার সাক্ষাৎকার গ্রহণকারী পত্রিকাটি আপনাকে মহান করার চেষ্টা করেছে। কিন্তু মহামান্য আপনি কি মহিমান্বিত!
লেখক : শিক্ষক



