প্রফেসর ড. মাঈন উদ্দীন খন্দকার
বর্তমান বিশ্বে টেকসই উন্নয়নের অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো পরিবেশবান্ধব বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, বাংলাদেশও এর বাইরে নয়। জনসংখ্যা বৃদ্ধি, পরিকল্পিত ও অপরিকল্পিত দ্রুত নগরায়ন এবং পরিবর্তিত ভোক্তা প্রবণতার কারণে প্রতিদিন বিপুল বর্জ্য উৎপাদিত হচ্ছে। এই বর্জ্য যদি সঠিকভাবে ব্যবস্থাপনা করা না হয়, তাহলে এটি আমাদের জনস্বাস্থ্য, পরিবেশ ও অর্থনীতির ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলবে।
আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বলতে শুধু বর্জ্য বা আবর্জনা সংগ্রহ ও ডাম্পিং করা বোঝায় না। এটি একটি সমন্বিত পদ্ধতি, যা বর্জ্য উৎপাদন সীমিতকরণ, উৎপাদিত বর্জ্যরে পুনর্ব্যবহার ও পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়াকে বোঝায় এবং এ ক্ষেত্রে ল্যান্ডফিলিংকে সর্বশেষ বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করা হয়। অর্থাৎ, উন্নত প্রযুক্তি ও বিভিন্ন কৌশল ব্যবহার করে বর্জ্যকে একটি বোঝা থেকে সম্পদে রূপান্তরকরণ, যা বৃত্তাকার অর্থনীতি (circular economy) মডেলের সাথে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ।
চট্টগ্রাম বাংলাদেশের বাণিজ্যিক রাজধানী ও দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর। বাংলাদেশের অন্য শহরগুলোর মতো এখানেও দ্রুত জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং অপরিকল্পিত নগরায়নের কারণে প্রতিদিন বিপুল কঠিন বর্জ্য (Municipal Solid Waste-MSW) উৎপাদিত হচ্ছে, যার ব্যবস্থাপনা একটি জটিল পরিবেশগত চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন শহর থেকে উৎপাদিত হাজার হাজার টন বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বর্তমান চিত্র, যা মূলত ল্যান্ডফিলিং পদ্ধতি, খুবই সেকেলে ও হতাশাজনক। এই প্রচলিত পদ্ধতি (অর্থাৎ বর্জ্য সংগ্রহ করে শহরের উপকণ্ঠে অবস্থিত নির্দিষ্ট ডাম্পিং সাইটে ফেলে দেয়া) পরিবেশের জন্যই শুধু ক্ষতিকর নয়, জনস্বাস্থ্যের জন্যও মারাত্মক হুমকি।
মাঝে মধ্যে দেখা যাচ্ছে, ল্যান্ডফিলিং প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে প্রথমে বিভিন্ন জায়গা থেকে বর্জ্য সংগ্রহ করে টেম্পোরারি একটি জায়গায় স্তূপ করা হয়। প্রধান সড়কগুলোতে, বিশেষ করে জনবহুল ও ব্যস্ত এলাকা যেমন- ষোলশহর এরিয়ার ‘২ নম্বর গেট’ সংলগ্ন একটি স্থানে প্রায়ই দেখা যায়, সিটি করপোরেশনের কর্মীরা রাস্তার পাশে বিশাল আকারের খোলা ডাস্টবিনে বর্জ্য স্তূপ করে রাখছেন। দেখা যায়, এই বর্জ্যরে স্তূপ প্রায়ই দিনের পর দিন সেখানে পড়ে থাকছে। এই বর্জ্য স্তূপ থেকে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে, যা পুরো এলাকার বায়ু বিষাক্ত করে তুলছে। এ ছাড়া, বর্জ্যগুলো ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে মূল সড়ক সঙ্কুচিত করে ফেলে, যানবাহনের চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে, মানুষের চলাচলের পুরো ফুটপাথটি বর্জ্য দিয়ে কমপ্লিটলি ঢেকে থাকে এবং একটি নোংরা, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ তৈরি হয়। এই পুরো স্থানটি মশা-মাছি থেকে শুরু করে বিভিন্ন ধরনের দৃশ্যমান ও অদৃশ্য জীবাণুর প্রজননকেন্দ্রে পরিণত হয়।
এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন প্রতিদিন সংগৃহীত বর্জ্যরে প্রায় ৭২ শতাংশ অপরিকল্পিতভাবে ল্যান্ডফিলে ফেলে দেয় এবং বাকি অংশ (২৮ শতাংশ) খোলা জায়গায় ডাম্পিং করে। যদিও কিছু বেসরকারি সংস্থা (মূলত এনজিও) ও অনানুষ্ঠানিক খাত বর্জ্য থেকে পুনঃব্যবহারযোগ্য উপকরণ সংগ্রহের কাজ করছে, তবে এটি ক্ষুদ্র অংশ মাত্র। উৎপাদিত বর্জ্যরে চূড়ান্ত নিষ্পত্তি বা ব্যবস্থাপনার এই পদ্ধতি, যা সাধারণত ‘স্যানিটারি ল্যান্ডফিলিং’ হিসেবে পরিচিত, পুরোপুরিই অপরিকল্পিত এবং কোনো ধরনের বৈজ্ঞানিক মানদণ্ড মেনে করা হচ্ছে না।
এ সমস্যার সমাধানে আমাদেরকে অবশ্যই বিকল্প ও উন্নত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি অবিলম্বে চালু করতে হবে। এ জন্য খুব বেশি দূরের এবং খুব উন্নত দেশকে ফলো না করেও, শুধু আমাদের নিকট প্রতিবেশী দেশগুলোর বর্জ্য ব্যবস্থাপনার পদ্ধতি অনুসরণ করে, সে সব প্রয়োগ করতে পারলেই অনেক সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। যেমন, আমাদের নিকট প্রতিবেশী মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড ও সিঙ্গাপুরের মতো দেশগুলো বর্জ্যকে আর ‘বর্জ্য’ হিসেবে দেখছে না; বরং একটি মূল্যবান সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করছে। তাদের মূলনীতি হলো ‘থ্রি-আর’ (Reduce, Reuse, Recycle), ‘ওয়েস্ট-টু-এনার্জি’ এবং ‘ওয়েস্ট-টু-ইউজেবল প্রোডাক্টস’। চলুন, আমরা দেখি ওই দেশগুলো তাদের বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় কী ধরনের আধুনিক পদ্ধতি প্রয়োগ করছে।
সিঙ্গাপুর : সিঙ্গাপুর একটি ছোট নগর রাষ্ট্র। ভূমি সঙ্কটের কারণে এই দেশটি তার বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় অত্যন্ত কার্যকর পদ্ধতি গ্রহণ করেছে। সিঙ্গাপুর কর্তৃপক্ষের প্রধান কৌশল হলো ‘ওয়েস্ট-টু-এনার্জি’ প্লান্ট। এই প্লান্টগুলোতে বর্জ্য পুড়িয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়। এই প্রক্রিয়া বর্জ্যরে আয়তন প্রায় ৯০ শতাংশ কমিয়ে দেয়। এরপর অবশিষ্ট ছাই সমুদ্রের মধ্যে অবস্থিত কৃত্রিম ভূমিতে ‘সেমাকাউ ল্যান্ডফিল’ ফেলে দেয়া হয়। সিঙ্গাপুর সরকার বর্জ্য পৃথকীকরণ ও পুনর্ব্যবহারের জন্য কঠোর নিয়ম ও জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি চালু করেছে, যা বর্জ্য উৎপাদন কমাতেও সহায়তা করছে।
মালয়েশিয়া : মালয়েশিয়াও ‘ওয়েস্ট-টু-এনার্জি’ প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। স¤প্রতি দেশটি ‘বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ’ উৎপাদনে একটি বৃহৎ প্লান্ট চালু করেছে। এ ছাড়া, ছোট পর্যায়ের এবং বিভিন্ন ধরনের অনেকগুলো বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্লান্ট কার্যকরী আছে। এই কেন্দ্রগুলো প্রতিদিন বর্জ্য প্রক্রিয়াজাত করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে, যা হাজার হাজার পরিবারের বিদ্যুৎ চাহিদা মেটাতে সক্ষম হচ্ছে। এর পাশাপাশি, মালয়েশিয়ান কর্তৃপক্ষ কঠিন বর্জ্য (গঝড) থেকে জৈব সার (পড়সঢ়ড়ংঃ) তৈরি করে কৃষিকাজে ব্যবহারের জন্য একটি সুসংহত পদ্ধতি গড়ে তুলেছে।
থাইল্যান্ড : বর্তমানে থাইল্যান্ডে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য ‘ক্লিন ক্লিনার’ মডেলের মতো নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে। থাইল্যান্ড কর্তৃপক্ষ বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় বেসরকারি খাত এবং পৌরসভার মধ্যে অংশীদারিত্বকে উৎসাহিত করছে। এর মাধ্যমে বর্জ্য সংগ্রহ, প্রক্রিয়াকরণ এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে।
চলুন, এখন আমরা বোঝার চেষ্টা করি, কেন বাংলাদেশ সরকার, বিশেষ করে বড় বড় মেগা সিটি কর্তৃপক্ষগুলো যেমন ঢাকা ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন, এ ধরনের উন্নত এবং পরিবেশবান্ধব বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি গ্রহণ করছে না? এর পেছনে নিম্নোক্ত কয়েকটি প্রধান কারণ রয়েছে বলে প্রতীয়মান হয়।
১. ‘ওয়েস্ট-টু-এনার্জি’ প্লান্ট এবং অন্যান্য আধুনিক বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণ ব্যবস্থার জন্য বিশাল অঙ্কের প্রাথমিক বিনিয়োগ প্রয়োজন। এই ব্যয়বহুল প্রকল্প পরিচালনার জন্য উন্নত প্রযুক্তি, দক্ষ মানবসম্পদ ও নিরবচ্ছিন্ন আর্থিক সংস্থান অপরিহার্য, যা এই মুহূর্তে সিটি করপোরেশনগুলোর অর্থনৈতিক সক্ষমতার বাইরে।
২. বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মতো একটি জটিল ইস্যুর জন্য একাধিক সরকারি সংস্থা (যেমন- সিটি করপোরেশন, পরিবেশ অধিদফতর, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়) এবং বেসরকারি খাতের মধ্যে কার্যকর সমন্বিত ব্যবস্থা প্রয়োজন। উপরন্তু, এ ধরনের দীর্ঘমেয়াদি ও ব্যয়বহুল প্রকল্পের জন্য দৃঢ় রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং ধারাবাহিক নীতিগত সমর্থন অপরিহার্য।
৩. আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মূল ভিত্তি হলো উৎস থেকে বর্জ্য পৃথকীকরণ। অর্থাৎ, গৃহস্থালি পর্যায়েই পচনশীল, পুনর্ব্যবহারযোগ্য এবং অপচনশীল বর্জ্য আলাদা করা। কিন্তু বাংলাদেশে এর প্রচলন নেই। ফলে, উৎস পর্যায়েই সমস্ত ধরনের বর্জ্য এক সাথে মিশিয়ে সিঙ্গেল বিনে ফেলা হয়, যা আধুনিক প্রক্রিয়াকরণ প্লান্টে ব্যবহারের অনুপযোগী।
৪. কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য আইন থাকলেও, সেগুলোর যথাযথ প্রয়োগের অভাব রয়েছে। রাস্তাঘাটে বর্জ্য ফেলা, অবৈধ ডাম্পিং এবং পরিবেশ দূষণের জন্য শাস্তিমূলক ব্যবস্থার অভাব বিদ্যমান।
এরই পরিপ্রেক্ষিতে জনস্বাস্থ্যের বিষয়টি মাথায় রেখে পরিবেশবান্ধব ও টেকসই বাংলাদেশ বিনির্মাণে বর্তমান ক্ষতিকর বর্জ্য ব্যবস্থাপনার পদ্ধতি থেকে বেরিয়ে আসার পদক্ষেপ নিতে হবে। মূলত, আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার পদক্ষেপ জাতিসঙ্ঘ ঘোষিত বেশ কয়েকটি টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (ঝউএং) সাথে সরাসরি সম্পর্কিত, বিশেষ করে এসডিজি-১১ (টেকসই শহর ও জনপদ), এসডিজি-৬ (সুপেয় পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন), এসডিজি-৭ (সাশ্রয়ী ও দূষণমুক্ত জ্বালানি) এবং এসডিজি-১২ (দায়িত্বশীল ভোগ ও উৎপাদন)। আমরা মনে করি, আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কার্যকর সমাধানের জন্য নিম্নোক্ত পদক্ষেপগুলো জরুরি ভিত্তিতে নেয়া দরকার।
জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও বর্জ্য পৃথকীকরণ : ‘বর্জ্য পৃথকীকরণ’ সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করতে ব্যাপক প্রচারণা চালাতে হবে। মসজিদের ইমামগণ জুমার নামাজের আগে এ বিষয়ে সচেতনতামূলক বক্তব্য দিতে পারেন (এবং অন্যান্য ধর্মীয় নেতারা ও তাদের নিজ নিজ উপাসনালয়ে সচেতনতামূলক বক্তব্য দিতে পারেন)। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিতে পারেন এবং ইমপ্লিমেন্টেশনে উৎসাহিত করতে পারেন। প্রাথমিকভাবে, সিটি করপোরেশন নির্দিষ্ট কিছু এলাকার ঘরবাড়ির সামনে তিন-চারটি ভিন্ন রঙের বর্জ্য সংগ্রহকারী বিন স্থাপন করে একটি পাইলট প্রকল্প শুরু করতে পারে।
উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার : সিটি করপোরেশনকে পর্যায়ক্রমে ‘ওয়েস্ট-টু-এনার্জি’ কম্পোস্টিং এবং উন্নত পুনর্ব্যবহারযোগ্য প্লান্ট স্থাপনের জন্য উপরে উল্লিখিত দেশগুলোর সাথে যোগাযোগ করে তাদের প্রয়োগকৃত প্রযুক্তি অতি দ্রুত দেশে নিয়ে এসে চালু করতে হবে। এ ধরনের প্রকল্প কেবল পরিবেশ রক্ষা করবে না; বরং বিপুল সংখ্যক কর্মসংস্থানও সৃষ্টি করবে। এর মাধ্যমে আমাদের প্রকৌশলী, ব্যবস্থাপক এবং কারিগরি জ্ঞানসম্পন্ন গ্র্যাজুয়েটদের জন্য একটি বিশাল কর্মসংস্থানের খাত তৈরি হবে।
সমন্বিত প্রশাসনিক কাঠামো নিশ্চিতকরণ : সিটি করপোরেশন, পরিবেশ অধিদফতর এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে কাজের সমন্বয় করতে হবে। এ ধরনের প্রকল্পের জন্য একটি উচ্চপর্যায়ের টাস্কফোর্স গঠন করা যেতে পারে।
সড়ক থেকে ডাস্টবিন অপসারণ : মূল সড়ক থেকে খোলা ডাস্টবিনগুলো অবিলম্বে সরিয়ে ফেলতে হবে এবং এর পরিবর্তে নির্দিষ্ট স্থানে সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন (ঝবপড়হফধৎু ঞৎধহংভবৎ ঝঃধঃরড়হ) স্থাপন করতে হবে, যা সম্পূর্ণ আচ্ছাদিত ও পরিবেশবান্ধব।
আইনের কঠোর প্রয়োগ : বর্জ্য ব্যবস্থাপনার আইনগুলো কঠোরভাবে প্রয়োগ করতে হবে এবং নিয়ম ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।
এভাবেই আধুনিক ও উন্নত বিশ্বের বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মডেল অনুসরণ করে আমরা আমাদের শহরগুলোকে একটি স্বাস্থ্যকর, পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য স্থানে পরিণত করতে পারি। এটি কেবল একটি প্রশাসনিক দায়িত্ব নয়; বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য পৃথিবীর প্রতি আমাদের অঙ্গীকারের স্বাক্ষর বহন করবে।
লেখক : ফ্যাকাল্টি অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি, সানওয়ে ইউনিভার্সিটি, কুয়ালালামপুর, মালয়েশিয়া



