বাজেট : সংখ্যার দলিল নয়, প্রয়োগযোগ্যতার পরীক্ষা

সংখ্যা বদলালেই হবে না, বদলাতে হবে চিন্তার কাঠামো। বাজেট কেবল আয়-ব্যয়ের একটি দলিল নয়; এটি একটি জাতির অগ্রাধিকারের ঘোষণা এবং শেষ বিচারে একটি নৈতিক অঙ্গীকার। সূরা রাদের ১১ নং আয়াত আমাদের মনে করিয়ে দেয়— ‘আল্লাহ কোনো জাতির অবস্থা পরিবর্তন করেন না, যতক্ষণ না তারা নিজেরা নিজেদের পরিবর্তন করে।’ পরিবর্তনের সেই দায়িত্ব আমাদেরই

ড. এম. কবির হাসান ও মুফতি আব্দুল্লাহ মাসুম
প্রতি বছর জুন এলে আমরা বাজেটের আকার নিয়ে কথা বলি— এবার কত লাখ কোটি টাকা, গতবারের চেয়ে কত শতাংশ বড়। কিন্তু একজন অর্থনীতির শিক্ষক হিসেবে চার দশক ধরে আমি যা দেখে আসছি, তা হলো— আকার বাড়ে, প্রশ্নটা থেকে যায়। প্রবাসে বসে যখন দেশের বাজেট নথি পড়ি, একটিই প্রশ্ন মাথায় ঘোরে : এই সংখ্যাগুলো কি সত্যিই বাস্তবায়ন হয়, নাকি প্রতি বছর আমরা একই উপসর্গে নতুন প্রলেপ লাগাই?

বাজেট ২০২৬-২৭ আসছে এমন এক মুহূর্তে, যখন বাংলাদেশের অর্থনীতি তিনটি পরস্পর-সংযুক্ত কাঠামোগত সঙ্কটে আটকা— দুর্বল রাজস্ব, সুদনির্ভর ঋণের বোঝা এবং ব্যাংকিং খাতে খেলাপির মহামারী। এই তিনটি আলাদা সমস্যা নয়; একটি অন্যটিকে খাইয়ে বাঁচিয়ে রাখে। রাজস্ব না বাড়লে ঋণ বাড়ে, সুদ বাড়লে উন্নয়নব্যয় কমে, আর দুর্নীতি থাকলে কোনো উন্নয়ন গল্পই ধোপে টেকে না। প্রচলিত পথে এই চক্র ভাঙা যায়নি, যাবেও না। এই লেখায় আমরা ইসলামী অর্থনীতির আলোকে একটি বিকল্প রোডম্যাপ প্রস্তাব করব— তবে শুধু আদর্শ হিসেবে নয়, প্রয়োগযোগ্য নীতি হিসেবে।

আগে কাঠামো, তারপর সংখ্যা : প্রাধান্যের ফিকহ
তিন সঙ্কটে ঢোকার আগে একটি কথা স্পষ্ট করা দরকার, কারণ এখানেই প্রচলিত ও ইসলামী দৃষ্টিভঙ্গির মৌলিক পার্থক্য। ইসলামে বাজেটের প্রথম প্রশ্ন আকার নয়, প্রাধান্য— কোন খাত আগে, কোনটি পরে। মাকাসিদ বা কল্যাণের (মাসলাহা) আলোকে খাতগুলোকে তিন স্তরে সাজানো যায় : জরুরিয়াত (অপরিহার্য) সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা, জীবন, সম্পদ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সুরক্ষা; হাজিয়াত (প্রয়োজনীয়) এবং তাহসিনিয়াত (পরিপূরক বা বিলাসিতামুখী)। এই ‘ফিকহুল আওলাউয়িয়াহ’ বা প্রাধান্য-নীতি মানলে অপ্রয়োজনীয় বাহুল্য বাদ পড়ে, আর শিক্ষা-স্বাস্থ্য-দারিদ্র্যের মতো জরুরি খাত সবার আগে বরাদ্দ পায়। মধ্যপন্থা— অপচয়ও নয়, কৃপণতাও নয়, এ-ই ইসলামের রাজস্বনীতির মেরুদণ্ড।

দ্বিতীয় নীতিটি দূরদৃষ্টির। অতীত বাজেটের ছকে নতুন বছর সাজানোর বদলে ইসলাম ‘ফিকহুল ওয়াকি’ বা পরিস্থিতি-ব্যবস্থাপনার কথা বলে, বদলে যাওয়া বাস্তবতার আলোকে সংযোজন-বিয়োজন। ইউসুফ আ: সম্ভাব্য দুর্ভিক্ষের আগে যা করেছিলেন, তা আজও পাঠ্য : উৎপাদন বাড়ানো, সচ্ছল সময়ে মিতব্যয়, আর আপৎকালের জন্য মজুদ গড়া। কুরআন স্মরণ করায়— ‘প্রত্যেকের ভেবে দেখা উচিত, আগামীকালের জন্য সে কী জমা করেছে।’ (সূরা হাশর-১৮) অর্থাৎ দুর্যোগ-প্রস্তুতির বরাদ্দ আবেগ নয়, রাজকোষীয় বিচক্ষণতা।

সঙ্কট-১ : রাজস্ব— কর বাড়ানোর আগে আস্থা ফেরান
বাংলাদেশের কর-জিডিপি অনুপাত মাত্র ৭.৪ থেকে ৯ শতাংশ, দক্ষিণ এশিয়ায় সর্বনিম্ন। ভারতে এটি ১৭, নেপালে ২১, ভিয়েতনামে ১৮ শতাংশ। ২০২৫-২৬ বাজেটের প্রায় ৮৮ শতাংশ রাজস্বই কর ও ভ্যাটনির্ভর ছিল, আর চলতি অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসেই ঘাটতি প্রায় এক লাখ কোটি টাকায় পৌঁছেছে।

এখানে আমি একটি কথা সরাসরি বলতে চাই, কারণ এড়িয়ে গেলে সমাধান ভুল পথে যাবে : সমস্যাটি কর-হারের দুর্বলতা নয়, সমস্যাটি আস্থার। যেখানে দুর্নীতি বেশি, সেখানে মানুষ স্বেচ্ছায় কর দেয় না। পদ্মা সেতুতে প্রাক্কলনের চেয়ে ১৯৭ শতাংশ বেশি, ঢাকা-কক্সবাজার রেলপথে ৮৭৪ শতাংশ বেশি ব্যয় দেখে একজন করদাতার মনে রাষ্ট্রের প্রতি বিশ্বাস জন্মায় না। সেই অবস্থায় Wealth Tax বা Inheritance Tax বসিয়েও লাভ নেই, যে রাষ্ট্র বিদ্যমান কর আদায় করতে পারছে না, নতুন কর তাকে টেকসই রাজস্ব দেবে না।

কাঠামোগত সংস্কারই প্রথম পদক্ষেপ। বর্তমানে ভ্যাটের টাকা দোকানদারের হাত ঘুরে মাস-বছর শেষে কোষাগারে পৌঁছায়; এই ব্যবধানেই ফাঁকির জন্ম। যুক্তরাজ্য, আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল যে ‘রিয়েল-টাইম স্পি­ট পেমেন্ট’ চালু করেছে, ক্রেতা কার্ড বা মোবাইল ব্যাংকিংয়ে দিলেই ভ্যাটের অংশ স্বয়ংক্রিয়ভাবে এনবিআরে চলে যায়— সেটি আমাদের জন্য অনুকরণযোগ্য, কাল্পনিক নয়।

এর পাশেই ইসলামী অর্থনীতির হাতিয়ারগুলো রাখুন— জাকাত, উশর ও ওয়াক্ফ। জাকাতকে আমি নিছক দান হিসেবে দেখি না; এটি একটি প্রাতিষ্ঠানিক, প্রগ্রেসিভ পুনর্বণ্টন ব্যবস্থা— ভ্যাটের মতো রিগ্রেসিভ করের ঠিক উল্টো, যেখানে বোঝা পড়ে ধনীর ওপর, গরিব সুরক্ষিত থাকে। সহকর্মীদের সাথে আমার সাম্প্রতিক গবেষণায় (হাসান, খান, মিয়া ও ইসলাম, ২০২৪) আমরা খাতভিত্তিকভাবে দেখিয়েছি, যথাযথ প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোয় জাকাত বাংলাদেশের রাজকোষীয় সংহতিতে কতটা বড় অবদান রাখতে পারে, এটি ধর্মীয় আবেগের প্রশ্ন নয়, রাজস্ব প্রকৌশলের প্রশ্ন। অথচ ইসলামী ফাউন্ডেশনের তথ্য মতে, এক দশকে সরকারি জাকাত বোর্ডের মাধ্যমে আদায় হয়েছে মাত্র কয়েক কোটি টাকা— সম্ভাবনার অনুপাতে যা প্রায় অনুল্লেখযোগ্য। দেশে নথিভুক্ত প্রায় চার লাখ ২৪ হাজার একর ওয়াক্ফ জমির বড় অংশ আজ বেদখল; এগুলো সক্রিয় হলে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যে সরকারের ব্যয়চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।

সঙ্কট-২ : সুদের বোঝা— সুকুক বিকল্প, তবে নামবদল নয়
আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের সর্বশেষ যৌথ ঋণ-টেকসইতা বিশ্লেষণ (জানুয়ারি-২০২৬) অনুযায়ী, বাংলাদেশের মোট ঋণ প্রায় ১৮৮.৮ বিলিয়ন ডলার— জিডিপির ৪১.৩ শতাংশ। এর মধ্যে দেশীয় ঋণ ১০১.২ বিলিয়ন ডলার, যার দুই-তৃতীয়াংশ আসছে ব্যাংক খাত থেকে। সরকার যত ব্যাংক থেকে নেয়, বেসরকারি বিনিয়োগের জন্য তত কম থাকে— অর্থনীতির ভাষায় ‘ক্রাউডিং আউট’। আরো উদ্বেগজনক, ২০২৫ অর্থবছরে প্রতি ১০০ টাকা রাজস্বের বিপরীতে ৮৯.৪ টাকার ঋণ পরিশোধের দায় ছিল, যার প্রায় ২২ টাকা শুধু সুদ— শিক্ষা বাজেটের চেয়েও বেশি।

বিকল্প হিসেবে সুকুক বাংলাদেশে সম্ভাবনার প্রমাণ দিয়েছে— ৯টি ইস্যুতে প্রায় ৪৫ হাজার কোটি টাকা উঠেছে, প্রতিবারই চাহিদা বরাদ্দের কয়েকগুণ। কিন্তু এখানে আমাকে গবেষক হিসেবে সৎ থাকতে হবে, কারণ অতিরঞ্জন কাউকে সাহায্য করে না। আমার নিজের বিশ্লেষণে দেখেছি, বাংলাদেশের সার্বভৌম সুকুক মূলত ইজারাহ কাঠামোয় গঠিত, যেখানে সরকার প্রকল্পের সম্পদ বাংলাদেশ ব্যাংককে এসপিভি হিসেবে হস্তান্তর করে আবার ভাড়ায় ফিরিয়ে নেয়। সমস্যা হলো— যখন উদ্যোক্তা, এসপিভি, ট্রাস্টি ও চূড়ান্ত গ্যারান্টর সবাই রাষ্ট্রেরই অংশ, তখন সুকুকের ভাড়া আর প্রচলিত কুপনের মধ্যে পার্থক্য বিপজ্জনকভাবে পাতলা হয়ে যায়। অর্থাৎ— এগুলো এখনো পুরোপুরি সম্পদভিত্তিক (অ্যাসেট-ব্যাকড) হয়ে ওঠেনি; দুর্বলতাগুলো না সারালে সুকুক ইসলামী বিকল্প নয়, শুধু নামের পরিবর্তন হবে।

তাহলে করণীয় কী? প্রথমত, AAOIFI শরিয়াহ মানদণ্ড ৬২ অনুসারে প্রকৃত অ্যাসেট-ব্যাকড সুকুক— বোয়িং বিমান কেনা থেকে মেগাপ্রকল্প পর্যন্ত ইজারাহ ও মুশারাকাহ কাঠামো। দ্বিতীয়ত, ট্রেজারি বন্ডনির্ভর ব্যাংকিং মডেলের বিপরীতে গণমুখী সুকুক, যাতে সাধারণ মানুষ ও প্রবাসীরা সরাসরি বিনিয়োগ করতে পারেন এবং একটি সেকেন্ডারি মার্কেট গড়ে ওঠে। তৃতীয়ত, মধ্যপ্রাচ্যের সাথে কূটনীতি জোরদার করে ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক ও আবুধাবি ফান্ড থেকে শরিয়াহসম্মত অর্থায়নের পথ খোলা— সুদের শর্ত ছাড়াই অর্থ আনার বাস্তব সুযোগ এটি।

সঙ্কট-৩ : খেলাপি ঋণ— সমস্যাটি কারিগরি নয়, সুশাসনের
২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে মোট খেলাপি ঋণ দাঁড়িয়েছে ছয় লাখ ৩২ হাজার কোটি টাকায়— বিতরণকৃত ঋণের ৩৬.৩ শতাংশ। এডিবির প্রতিবেদনে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ায় সর্বোচ্চ খেলাপির দেশ, শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তানও পেছনে। ৬১টি ব্যাংকের মধ্যে ২৪টি ব্যাসেল-৩ এর ন্যূনতম মূলধন রাখতে ব্যর্থ।

এখানে একটি প্রচলিত ভুল ধারণা ভাঙা দরকার। অনেকে ভাবেন, সুদভিত্তিক কাঠামো বাদ দিয়ে ইসলামী ব্যাংক করলেই খেলাপি কমবে। তথ্য বলছে ভিন্ন কথা : আইসিবি ইসলামিক ব্যাংকের খেলাপি ৯১, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের ৩৬.৬৩, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের ৩৭.৫৮ শতাংশ। ইসলামী ব্যাংকও যখন ৯১ শতাংশ খেলাপিতে পড়ে, তখন বোঝা যায় সমস্যাটি সুদ বনাম মুনাফার নয়— সমস্যাটি সুশাসনের অনুপস্থিতি। এটি কারিগরি দুর্বলতা নয়, নৈতিক অবক্ষয় ও শাসনব্যবস্থার ব্যর্থতা।

সমাধান দুই স্তরে। প্রথমত, করপোরেট গভর্ন্যান্স— ইসলামী হোক বা প্রচলিত, যেকোনো ব্যাংকে স্বাধীন পরিচালনা পর্ষদ, রাজনৈতিক হস্তক্ষেপমুক্ত কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও কার্যকর অডিট ছাড়া কোনো সংস্কারই টিকবে না। দ্বিতীয়ত, শরিয়াহ গভর্ন্যান্স— প্রতি কোয়ার্টারে বাধ্যতামূলক থার্ড-পার্টি শরিয়াহ অডিট, AAOIFI গভর্ন্যান্স স্ট্যান্ডার্ডের বাস্তবায়ন এবং শরিয়াহ পরিপালন র‌্যাংকিং প্রকাশ। আমানতকারীর সুরক্ষায় আমার নিজের গবেষণায় প্রস্তাবিত কাফালাহ-ভিত্তিক ইসলামী আমানত বীমা (সাবাহ ও হাসান-২০১৯) এখানে একটি বাস্তব হাতিয়ার হতে পারে, যা আস্থা ফেরায় এবং নৈতিক ঝুঁকিও সীমিত রাখে।

তবে খেলাপিকে এক পাল্লায় মাপা ঠিক নয়। ইচ্ছাকৃত খেলাপির বিষয়ে ফিকহের কঠোর বিধান আছে; কিন্তু সূরা বাকারার ২৮০ নং আয়াত— ‘অভাবগ্রস্ত হলে সচ্ছলতা আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করো’ প্রকৃত সঙ্কটে পড়া ক্ষুদ্র উদ্যোক্তার জন্য পুনর্গঠনের দরজা খোলা রাখে। শিল্পঋণের জন্য স্বতন্ত্র বিশেষায়িত ব্যাংক এবং একটি স্বাধীন ব্যাংকিং কমিশন— এই দু’টি পদক্ষেপ খেলাপি সংস্কৃতি ভাঙতে কার্যকর।

সংখ্যা নয়, বদলাতে হবে চিন্তার কাঠামো
একাধিক গবেষণা বলছে, জাকাত ও ওয়াক্ফ পূর্ণমাত্রায় কার্যকর হলে বাজেটের প্রায় ৫০ শতাংশ বিকল্প উৎস থেকে আসা সম্ভব— তখন ঘাটতি গৌণ হয়ে যায়, সুদের দুষ্টচক্র থেকে বেরোনোর পথ তৈরি হয়। জাকাত একটি প্রাতিষ্ঠানিক পুনর্বণ্টন ব্যবস্থা, সুকুক একটি আধুনিক সম্পদভিত্তিক অর্থায়ন হাতিয়ার, ওয়াক্ফ একটি প্রমাণিত সামাজিক বিনিয়োগ কাঠামো। কিন্তু আমি জোর দিয়ে বলতে চাই— এর কোনোটিই স্বয়ংক্রিয় জাদু নয়। দুর্বল প্রতিষ্ঠানে দুর্বল জাকাতব্যবস্থা ঠিক ততটাই অকার্যকর হবে, যতটা দুর্বল কর প্রশাসন। ইসলামী নাম নয়, সুশাসন আর প্রয়োগই আসল পরীক্ষা।

একটি পুরনো ভুল অভ্যাসও এবার ভাঙা দরকার— ঘাটতির চাপে পড়লেই মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ কেটে দেয়া। মাথাব্যথায় মাথা কেটে ফেলা সমাধান নয়; বরং কম উৎপাদনশীল মন্ত্রণালয়গুলোকে নিজস্ব রাজস্ব-উৎস তৈরিতে বাধ্য করাই কল্যাণকর। ডাক বিভাগ উন্নত দেশে লাভজনক পণ্য-পরিবহন নেটওয়ার্ক; ই-কমার্সের জোয়ারে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়ালে এটি কয়েক হাজার কোটি টাকার রাজস্ব দিতে পারে। মুসলিমপ্রধান দেশ হিসেবে হালাল পর্যটনের বিশ্বচাহিদাও আমাদের জন্য বিপুল অব্যবহৃত উৎস। অর্থাৎ— বরাদ্দ কাটা নয়, খাতগুলোকে উপার্জনমুখী করাই টেকসই পথ।

অর্থমন্ত্রী নিজেই বলেছেন, ঋণনির্ভরতা ছেড়ে সম্পদনির্ভর স্থানীয় অর্থনীতি, অলিগার্কি ছেড়ে অংশগ্রহণমূলক অর্থনীতি গড়তে হবে। এ কথাগুলোর সাথে ইসলামী অর্থনীতির দর্শন হুবহু মিলে যায়। জাকাত একটি প্রাতিষ্ঠানিক পুনর্বণ্টন ব্যবস্থা, সুকুক একটি আধুনিক সম্পদভিত্তিক অর্থায়ন হাতিয়ার, ওয়াক্ফ একটি প্রমাণিত সামাজিক বিনিয়োগ কাঠামো।

তাই সংখ্যা বদলালেই হবে না, বদলাতে হবে চিন্তার কাঠামো। বাজেট কেবল আয়-ব্যয়ের একটি দলিল নয়; এটি একটি জাতির অগ্রাধিকারের ঘোষণা এবং শেষ বিচারে একটি নৈতিক অঙ্গীকার। সূরা রাদের ১১ নং আয়াত আমাদের মনে করিয়ে দেয়— ‘আল্লাহ কোনো জাতির অবস্থা পরিবর্তন করেন না, যতক্ষণ না তারা নিজেরা নিজেদের পরিবর্তন করে।’ পরিবর্তনের সেই দায়িত্ব আমাদেরই।

লেখক : এম. কবির হাসান ইউনিভার্সিটি অব নিউ অরলিন্সের ফাইন্যান্স বিভাগের অধ্যাপক ও মফেট চেয়ার, ২০১৬ সালের ইসলামিক ব্যাংকিং ও ফাইন্যান্সে আইডিবি পুরস্কার বিজয়ী এবং AAOIFI নৈতিকতা ও সুশাসন বোর্ডের সদস্য ও শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান।

মুফতি আব্দুল্লাহ মাসুম একজন ইসলামী অর্থনীতি গবেষক ও শরিয়াহ কনসালট্যান্ট (সিএসএএ)।