টেকসই উন্নয়নের ধারা বজায় রাখার লক্ষ্যে করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) বর্তমান বিশ্বে ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। সিএসআর হলো এক ধরনের ব্যবসায়িক শিষ্টাচার বা নীতি, যা সমাজের প্রতি ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব পালনকে ব্যবসার নিয়মের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করে। তবে হঠাৎ করে বেড়ে গেছে এ খাতে বিনিয়োগের হার। বাংলাদেশে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতার আওতায় শিক্ষা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও স্বাস্থ্য খাতে সবচেয়ে বেশি ব্যয় করে। সামাজিক দায়বদ্ধতা খাতের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ব্যয় বেড়েছে শিক্ষা ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায়। তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, আগের তুলনায় সমাজিক দায়বদ্ধতার নানা খাতে আর্থিক ব্যয় বাড়িয়েছে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, পরিবেশ, সংস্কৃতি, অবকাঠামো উন্নয়নসহ বিভিন্ন খাতে ব্যয় বৃদ্ধি হওয়া দেশ ও জাতির জন্য ইতিবাচক। সিএসআর ব্যয় নিয়ে নতুন নীতিমালা জারি করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে টেকসই উন্নয়নে অগ্রাধিকার দেয়া খাতগুলোর সাথে সমন্বয় করা হয়েছে অর্থ ব্যয়ে। জলবায়ু পরিবর্তন ও অভিঘাতকে নতুন করে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।
নতুন জারি করা নির্দেশনায় খাত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, আয়বর্ধক কার্যক্রম, অবকাঠামো উন্নয়ন, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত অভিঘাত মোকাবেলা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি, ক্রীড়া, সংস্কৃতি ও পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ। এর মধ্যে শিক্ষায় মোট সিএসআর অর্থের সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশ ব্যয় করতে হবে। অন্যান্য বিষয়েও নির্দিষ্ট হার উল্লেখ করে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাস জুলাই-ডিসেম্বরে দেশী-বিদেশী ব্যাংকগুলো সামাজিক দায়বদ্ধতা বা সিএসআর খাতে প্রায় ৩০৭ কোটি টাকা ব্যয় করেছে। এ ব্যয়ের বড় অংশ গেছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা খাতে। এ খাতের আওতায় ব্যাংকগুলো শীতার্ত ব্যক্তিদের মধ্যে কম্বল এবং বন্যাদুর্গতদের মধ্যে ত্রাণ ও খাদ্যসামগ্রী বিতরণে সবচেয়ে বেশি অর্থ খরচ করেছে। সাধারণ ব্যাংকগুলো মুনাফার একটি অংশ সিএসআর খাতে ব্যয় করে। আর শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকগুলো মুনাফার পাশাপাশি সন্দেহজনক আয় ও জাকাত তহবিলের অর্থ সিএসআর খাতে ব্যয় করে থাকে। দেশের সরকারি-বেসরকারি, বিশেষায়িত ও বিদেশী ব্যাংকের সিএসআর কার্যক্রম নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের তৈরি সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনটিতে ২০২৪ সালের শেষ ছয় মাসের (জুলাই-ডিসেম্বর) সিএসআর ব্যয়ের তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।
এতে ব্যাংকগুলোর সামগ্রিক সিএসআর ব্যয় যেমন তুলে ধরা হয়েছে, তেমনি ব্যাংকভিত্তিক আলাদা আলাদা খরচের তথ্যও প্রকাশ করা হয়েছে। ব্যাংকগুলোর সিএসআর-সংক্রান্ত খরচের গত কয়েক বছরের তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০২১ সালের জুলাই-ডিসেম্বরের পর সিএসআর খাতে ব্যাংকগুলো সবচেয়ে কম অর্থ খরচ করেছে গত বছরের শেষ ছয় মাসে। ২০২১ সালের শেষ ছয় মাসে এ খাতে ব্যাংকগুলো খরচ করেছিল প্রায় ২৯৮ কোটি টাকা। এরপর ২০২২ সালের একই সময়ে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৫১৪ কোটি টাকা। আর ২০২৩ সালের জুলাই-ডিসেম্বরে সিএসআর খাতে ব্যাংকগুলোর খরচ বেড়ে দাঁড়িয়েছিল ৩৫৩ কোটি টাকা। তা গত বছরের শেষ ছয় মাসে কমে ৩০৭ কোটি টাকায় নেমেছে।
সিএসআর কার্যক্রমে গত বছরের শেষ ছয় মাসে খরচ কমে যাওয়ার কারণ সম্পর্কে ব্যাংকাররা বলেছেন, সাধারণত রাজনৈতিক সরকারের সময়ে এ খাতে অর্থ খরচে ব্যাংকগুলোর ওপর নানামুখী চাপ থাকে। এ কারণে ব্যাংকগুলোর বাধ্য হয়ে বেশি খরচ করতে হয়। কিন্তু গত বছরের জুলাই আন্দোলন ও আগস্টে সরকার বদলের পর সিএসআরের অর্থ খরচে রাজনৈতিক চাপ কমে যায়। ফলে সিএসআর ব্যয়ও কমে। তবে গত বছরের আগস্টে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভয়াবহ বন্যার ফলে ব্যাংকগুলো বন্যাদুর্গতদের পাশে দাঁড়ায়। এ কারণে সিএসআর ব্যয় উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমেনি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বছরের শেষ ছয় মাসে দেশে সিএসআর ব্যয়ের শীর্ষে ছিল বেসরকারি মার্কেন্টাইল ব্যাংক। বেসরকারি ব্যাংকটি এ খাতে প্রায় ৩১ কোটি টাকা খরচ করেছে। ব্যাংক খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, কিছু ব্যাংকের সিএসআর খাতে অতীতে বড় ধরনের অনিয়ম ঘটেছে। সিএসআরের অর্থ লুটপাটের ঘটনাও ঘটেছে। ফলে সিএসআরের অর্থ ব্যয় নিয়ে নানা প্রশ্ন রয়েছে। গত বছরের শেষ ছয় মাসে নতুন করে কিছু ব্যাংক সিএসআর ব্যয়ে ওপরের দিকে উঠে এসেছে। সাধারণত এসব ব্যাংক নিয়মিতভাবে তালিকার প্রথম দিকে থাকে না। আগে ইসলামী ধারার ব্যাংকগুলো সিএসআর ব্যয়ে এগিয়ে ছিল। এদের মাধ্যমে আগের সরকারের সুবিধাভোগীরা এ খাতের অর্থ হাতিয়ে নেন। ফলে অন্য ব্যাংকগুলো এখন শীর্ষ তালিকায় উঠে এসেছে। হঠাৎ এসব ব্যাংকের তালিকা শুরু দিকে উঠে আসার কারণ হলো ডলারের অতিরিক্ত মুনাফার অর্থ সিএসআর খাতে ব্যয়ের বাধ্যবাধকতা। আবার ব্যাংকারদের উদ্যোগে হাসপাতাল নির্মাণেও অর্থ জোগান দেয়া হয়েছে। গত বছরের শেষার্ধে বন্যার কারণে কিছু এলাকায় সহায়তা বেড়েছিল। এর ফলে খরচ বেড়েছে। সিএসআর ব্যয়ের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিরা পেয়েছেন।
ব্যাংকগুলোর প্রকৃত মুনাফার ১০ শতাংশ অর্থ সিএসআর খাতে খরচের নির্দেশনা দেয়া আছে। কিন্তু সে শর্ত নতুন ব্যাংকগুলোর বেশির ভাগ মানেনি। ২০২৪ সালের বেশির ভাগ ব্যাংকের মুনাফায় বড় ধাক্কা এসেছে। পর্ষদ পুনর্গঠন হওয়া ইসলামী ও প্রচলিত ধারার অনেক ব্যাংক লোকসানে পড়েছে। ফলে এসব ব্যাংক সিএসআর খাতে খরচ করতে পারেনি। এ জন্য সামনে অনেক ব্যাংকের সিএসআর ব্যয় কমতে পারে। দেশের ব্যাংকগুলো করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা বা সিএসআর খাতে ব্যয় কমিয়ে দিয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে, গত তিন বছরে এ ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। ২০২২ সালে সিএসআর ব্যয় ছিল এক হাজার ১২৯ কোটি, ২০২৩ সালে তা কমে দাঁড়ায় ৯২৪ কোটি টাকায়। আর ২০২৪ সালে ব্যয় আরো নেমে এসেছে ৬১৫ কোটি ৯৬ লাখ টাকায়। এ কমতির পেছনে রয়েছে ব্যাংক খাতের নিট মুনাফার ধস এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কড়াকড়ি আর্থিক নীতি। ফলে সিএসআর খাতে ব্যয় কমিয়ে আনা হয়েছে।
করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) খাতে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ব্যয় দিন দিন কমে যাচ্ছে। সর্বশেষ ২০২৪ সালে আগের বছরের চেয়ে ব্যয় কমেছে প্রায় ৩৪ শতাংশ। গত বছর ব্যাংকগুলোর সার্বিক সিএসআর ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৬১৬ কোটি টাকা, যা আট বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। এ সময়ে অন্তত ছয়টি ব্যাংক সিএসআর খাতে কোনো অর্থ ব্যয় করেনি। এ ছাড়া শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং পরিবেশ ও জলবায়ু খাতে ব্যয়ের নির্দেশনা মানেনি অধিকাংশ ব্যাংক। তবে বরাবরের মতো দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা উপখাতে সর্বোচ্চ ৪৭ শতাংশ অর্থ ব্যয় করেছে।
বর্তমানে ব্যাংক খাত বেশ কয়েকটি চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। যার মধ্যে আছে উচ্চ খেলাপি ঋণ, তারল্য ঘাটতি ও সুশাসনের অভাব। এসব কারণে নিট মুনাফায় প্রবৃদ্ধি হচ্ছে কম। ফলে সিএসআর ব্যয়ও কমেছে। ব্যাংকগুলো প্রতি ষান্মাসিক ভিত্তিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে সিএসআর ব্যয়ের তথ্য পাঠায়। এ ক্ষেত্রে কোন খাতে কত টাকা খরচ হয়েছে তার পরিসংখ্যানও পাঠানো হয়। তবে খাতগুলোর সুবিধাভোগী কারা, সে ব্যাপারে কোনো রিপোর্টিং করা হয় না। বিগত স্বৈরাচারী শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ব্যাংকগুলের সিএসআর ব্যয় আবর্তিত হয় ‘প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল’ ঘিরে। যেকোনো উপলক্ষ কিংবা দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাংক চেয়ারম্যান কিংবা এমডিরা সিএসআরের অর্থ জমা দিতেন গণভবনে গিয়ে। আর এ খরচের অর্থ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা খাতে দেখায় ব্যাংকগুলো। ফলে এ উপখাতে কয়েক বছর ধরে সর্বোচ্চ সিএসআর ব্যয় হয়। তবে অন্তর্র্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা উপখাতে ব্যাংকগুলোর ব্যয়ের পরিমাণ কমতে শুরু করেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালা অনুযায়ী, ব্যাংকের সিএসআর ব্যয়ের অন্তত ৩০ শতাংশ শিক্ষা খাতে ব্যয় করতে হবে। স্বাস্থ্য খাতেও একই পরিমাণ (৩০ শতাংশ) অর্থ ব্যয় করতে হবে। এ ছাড়া ২০ শতাংশ করতে হবে পরিবেশ ও জলবায়ু খাতে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় সর্বোচ্চ ২০ শতাংশের বেশি ব্যয়ের সুযোগ নেই। আর আয়বর্ধক কর্মকাণ্ড, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, অবকাঠামো উন্নয়ন, খেলা ও বিনোদনে ২০ শতাংশ ব্যয় করতে হবে। এর মানে নীতিমালায় প্রথম তিনটি খাতে সবচেয়ে বেশি সিএসআর খরচের নির্দেশনা রয়েছে।
দেশের একজন সুনাগরিক হতে হলে সমাজের প্রতি রয়েছে দায়িত্ব বা কর্তব্যবোধ। একজন সুনাগরিক শুধু নিজের ভালো, অগ্রগতি কিংবা উন্নতির চিন্তা করে না; বরং নিজের অগ্রগতির পাশাপাশি সমাজের অন্য মানুষদেরকেও এগিয়ে নেয়ার প্রচেষ্টা চালান। পুরো সমাজকে এগিয়ে নিতে, উন্নতির শিখরে পৌঁছাতে চেষ্টা করেন। আমরা প্রত্যেকে কোনো না কোনো সমাজে বসবাস করি। প্রত্যেকেই কোনো না কোনো সমাজের নাগরিক। একটি সমাজের নাগরিক হিসেবে সেই সমাজের প্রতি আমাদেরও রয়েছে সামাজিক দায়বদ্ধতা বা সামাজিক দায়িত্ব ও কর্তব্যবোধ। সমাজের একজন নাগরিক হিসেবে সবার উচিত শুধু নিজের কথা না ভেবে, শুধু নিজের ভালোর কথা চিন্তা না করে সমাজের ভালো চাওয়া এবং সমাজের উন্নতি কামনা করা। অনেক সময় সমাজের সামগ্রিক স্বার্থের কথা বিবেচনা করে ব্যক্তিস্বার্থ বিসর্জন দিতে হয়। তবেই সুনাগরিক হওয়া সম্ভব। আমরা যে যেই সমাজে বসবাস করি না কেন সমাজের প্রতি যদি আমাদের দায়বদ্ধতা না থাকে তাহলে কোনোক্রমেই একজন সুনাগরিক কিংবা সামাজিক দায়িত্বসম্পন্ন নাগরিক হওয়া আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়। সমাজের হতদরিদ্র সুবিধাবঞ্চিত মানুষগুলো আমাদের স্বজন, বিত্তবানদের সম্পদে তাদের অধিকার রয়েছে।
দুর্ভাগ্যবশত আমরা সমাজের অসহায় মানুষগুলোর কথা ভুলে যাই, আমরা উপলব্ধি করি না যে, যেই সমাজ থেকে আমাদের এ অর্থ-বিত্তের অর্জন স্বাভাবিকভাবে আমরা সেই সমাজের কাছে অনেক বেশি ঋণী। তাই ব্যক্তিগত সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কল্যাণে বিত্তবানদের এগিয়ে আসা উচিত। তা ছাড়া সমাজের একটি বড় অংশকে সুবিধাবঞ্চিত রেখে আর্থসামাজিক উন্নয়ন সম্ভব নয়। এ ধরনের বৈষম্য থাকলে যতই উন্নয়ন হোক তা টেকসই হবে না, আর এ বৈষম্য নিয়ে স্থিতিশীল সমাজও গঠন করা যাবে না, কিন্তু সভ্যতা বিকাশের চূড়ায় এসেও মানুষের মধ্যে সামাজিক দায়বদ্ধতার প্রচণ্ড অভাব দেখা দিয়েছে। মানুষ ক্রমে হয়ে উঠছে ব্যক্তিকেন্দ্রিক, ফলে সামাজিক গণ্ডি ক্রমে ছোট হয়ে আসছে। সমাজের প্রতি নিজের দায়িত্ব নিয়ে কেউ ভাবতে চাইছেন না। মানুষ ক্রমে তার সামাজিক দায়বদ্ধতার কথা ভুলে যাচ্ছে। প্রত্যেক মানুষের ব্যক্তিগত সামাজিক দায়বদ্ধতা রয়েছে। সেই দায়বদ্ধতা থেকে সরকার ও বিভিন্ন করপোরেট প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি ব্যক্তিগতভাবে সামর্থ্যবান প্রত্যেকের এ সঙ্কটকালে সাধ্যমতো অসহায়, দুর্গত ও খেটে খাওয়া মানুষের পাশে সাহায্যের হাত বাড়ানো উচিত। আজ পর্যন্ত পৃথিবী যতটুকু এগিয়েছে তা এ সামাজিক দায়িত্ববোধ থেকে এগিয়েছে। কাজেই ব্যক্তি হিসেবে আমাদের সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে সরে আসার সুযোগ নেই। সামাজিক দায়বদ্ধতা মানুষের একটি সহজাত সৌন্দর্য ও সহজাত দায়িত্বশীলতা। এ বিপদের সময়ে আমরা অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর সুযোগ যেন হাতছাড়া না করি।
লেখক : অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংকার



