বাংলাদেশের অর্থনীতির লাইফলাইন প্রবাসী আয়। সীমাহীন লুটপাট, চরম অব্যবস্থাপনার পরও অর্থনীতি ধসের হাত থেকে বেঁচেছে উচ্চ প্রবাসী আয়ে। বিদেশে বিপুল প্রবাসী কঠোর পরিশ্রম করে দেশকে যখন সচল রাখছেন; তখন তাদের স্বার্থ রক্ষায় গাফিলতি অবহেলা চোখে পড়ার মতো। বিশেষ করে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স পাঠানো মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে তারা নানা অবহেলার শিকার হন। দেশের দূতাবাস তাদের বিষয়ে উপযুক্ত দায়িত্ব পালন করে না। এ সুযোগ নেয় নানা অসাধু চক্র। এমনকি তারা কর্মরত দেশের সরকারের দ্বারাও বঞ্চিত হন। সম্প্রতি কুয়েতে অর্ধলাখ প্রবাসী ঘরছাড়া হয়ে বড় বিপদের মধ্যে থাকার খবর পাওয়া গেছে।
দেশটির রাজধানী কুয়েত সিটিতে সরকার বড় ধরনের সাঁড়াশি অভিযান চালিয়েছে। জিলিব আল-শুয়ুখ, হাসাবিয়া ও আব্বাসিয়া এলাকার ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে বসবাসকারীদের উচ্ছেদ করে। যারা সময়মতো বাসাবাড়ি থেকে বের হতে পারেননি তাদের আসবাব গৃহস্থালি রাস্তায় ফেলে দেয়া হয়। তার আগে বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হয়। ১৬ জুলাই রাতে শুরু হওয়া অভিযানে ৫০ হাজার বাংলাদেশী প্রবাসী রয়েছেন। উচ্ছেদের শিকার হওয়া বাসিন্দাদের বড় বিপদের কারণ হচ্ছে উচ্চ তাপদাহ। এ সময়ে সেখানকার তাপমাত্রা ৫০ ডিগ্রি সেলাসিয়াস। খোলা জায়গায় শিশু ও নারীরা তীব্র গরম সহ্য করতে না পেরে অসুস্থ পড়েছেন। অনেক বাংলাদেশীকে এ সময়ে কয়েক দিন খোলা স্থানে থাকতে হয়েছে। অস্থায়ী শিবিরের ব্যবস্থা করা হলেও যথেষ্ট না হওয়ায় ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে।
বাংলাদেশী শ্রমিকদের অন্যতম গন্তব্য মধ্যপ্রাচ্যের কুয়েত। দেশটিতে বসবাসকারী ৫০ লাখ মানুষের মধ্যে তিন লাখ বাংলাদেশী। এটা গত বছরের হিসাব, যা এখন সাড়ে তিন লাখ হতে পারে বলে জানা যাচ্ছে। অভিযানে বিপুল বাংলদেশী ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় স্থানীয় দূতাবাসের গাফিলতি আছে কি না তা আলোচনায় এসেছে। সংবাদমাধ্যমের খবর, কুয়েত সরকারের অভিযানটি ছিল পূর্বনির্ধারিত। এক যুগ আগে থেকে ভবন মালিকদের এলাকা খালির নির্দেশ দেয় কর্তৃপক্ষ। ওই এলাকার ভবনগুলো দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এ ছাড়া পাশে একটি বিমানবন্দর সস্প্রসারণের কাজ চলছে। এ কারণে এলাকাটি খালি করা হচ্ছে। নোটিশ দেয়া হয়েছিল বাড়ির মালিকদের। ভাড়াটিয়ারা এ ব্যাপারে সম্যক অবহিত ছিলেন না। ওই এলাকায় বিপুল বাংলাদেশী থাকায় স্থানীয় দূতাবাসের বিষয়টি অবহিত থাকা দরকার ছিল। সময়মতো বাংলাদেশীদের সেখান থেকে সরে যাওয়ার তাগিদ দেয়া তাদের দায়িত্ব ছিল। প্রবাসী আয় আহরণে কুয়েত অষ্টম স্থানে রয়েছে। গত দুই অর্থবছরে গড়ে ১৬০ কোটি ডলারের বেশি বৈদেশিক মুদ্রা এসেছে দেশটি থেকে। অবস্থাদৃষ্টে এটি স্পষ্ট যে, কুয়েতে থাকা বিপুল প্রবাসী কর্মী দূতাবাসের যথেষ্ট মনোযোগ পাননি। উচ্ছেদের ঘটনাটি এর প্রমাণ। অনেক সময় নিয়ে সরকার অভিযান চালানোর পরও বাংলাদেশীরা বেশি ভোগান্তির শিকার হলেন। এ বিষয়ে স্থানীয় দূতাবাসের অবহেলা খতিয়ে দেখা দরকার।
প্রবাসীদের নিয়ে সংসদে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। সরকার ও বিরোধী দল উভয়ের দিক থেকে তাদের সম্মান মর্যাদা ও অধিকার রক্ষায় জোরালো তাগিদ রাখা হয়েছে। কার্যত প্রবাসে এবং দেশে কোথাও তারা উপযুক্ত মর্যাদা ও মূল্যায়ন কোনোটাই পাচ্ছেন না।



