সারা দেশে জ্বালানি নিয়ে হাহাকার, মজুদদারির বিরুদ্ধে কঠোর হোন

সরকার ইতোমধ্যে ফিলিং স্টেশনগুলোতে ট্যাগ অফিসার নিয়োগ দিয়েছে। বিডিআর মোতায়েন করেছে। তেল চোরাকারবার হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। এ নিয়ে আমাদের গোয়েন্দা নজরদারিও বাড়াতে হবে। মজুদদারদের দমন করতে হলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। এখন পর্যন্ত অবৈধভাবে তেল মজুদের অপরাধে সামান্য কিছু টাকা তাদের জরিমানা করা হয়েছে। দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না দিলে এই অপকর্ম থেকে ক্ষান্ত হবে না এরা।

সরকারের খাতা-কলমে তেলের প্রয়োজনীয় মজুদ আছে। দেশে আসার অপেক্ষায় থাকা জোগানেও ঘাটতির লক্ষণ এখনো সেভাবে জানা যাচ্ছে না। উপর্যুপরি কয়েকটি জাহাজ ইরান যুদ্ধের মধ্যে তেল নিয়ে দেশের বন্দরে ভিড়েছে। হরমুজ প্রণালীতেও বাংলাদেশী জাহাজ আসায় বাধা নেই। অথচ জ্বালানি তেল সংগ্রহ নিয়ে দেশে হাহাকার পড়ে গেছে। আধা বেলা, পুরো দিন এমনকি দু’দিন অপেক্ষা করেও তেল না পাওয়ার খবর গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। শুধু রাজধানী ও বড় শহরগুলোতে নয়, তেল না পাওয়ার ঘটনা সারা দেশে ঘটছে।

এ দিকে অবৈধভাবে তেল মজুদের খবর চার দিক থেকে পাওয়া যাচ্ছে। ধান-চালের গুদাম, বাগানবাড়ি কিংবা গর্ত খুঁড়ে তেল মজুদ করছে মানুষজন। প্রশাসন অভিযান চালিয়ে অবৈধ কিছু মজুদ জব্দও করেছে। এ জন্য তাদের জরিমানাও করা হয়েছে। এর মধ্যে ফুয়েলিং স্টেশনগুলোতে তেল সরবরাহ নিয়ে অরাজকতা দিন দিন বাড়ছে। এ নিয়ে অসন্তোষ বিক্ষোভ হানাহানি এমনকি প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে। শরীয়তপুরে তেল না পেয়ে কৃষকরা একটি পাম্প ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেছেন। নড়াইলে ট্রাকচালকের সাথে ফিলিং স্টেশন ব্যবস্থাপকের বাগবিতণ্ডা হয়। পরিস্থিতি এত উত্তপ্ত হয় যে, ব্যবস্থাপককে ট্রাকচাপা দিয়ে হত্যা করে ট্রাকচালক। ঢাকা শহরের গাড়ির চালকরা তেল পাওয়ার আশায় শহরের বাইরে গিয়ে জ্বালানি না পেয়ে ফিরে আসছেন। ফিলিং স্টেশনগুলোতে গাড়ির সারি প্রতিদিন দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে।

ডিজেল ও এলপি গ্যাস আমদানির ওপর নির্ভরশীল। যুদ্ধের কারণে এ সময়ে এই দুই জ্বালানির ঘাটতি হতে পারে। পেট্রল ও অকটেনেও সঙ্কট দেখা যাচ্ছে। অথচ এই দুটো জ্বালানিতে দেশ প্রায় স্বয়ংসম্পূর্ণ। এ অবস্থায় নিশ্চিতভাবে বলা যায়, তেল নিয়ে হাহাকার কৃত্রিম। গুজব ছড়িয়ে অসাধু একটি চক্র ফায়দা তুলতে চাইছে। এ চক্র দেশে অত্যন্ত শক্তিশালী। যেকোনো সঙ্কটকে এরা পুঁজি করে নিজের আখের গোছায়।

বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রায় পুরোটা জ্বালানি-নির্ভর। প্রকৃতিনির্ভর আমাদের কৃষি খাতও এখন জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল হয়ে গেছে। এর দাম বাড়লে কিংবা সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিলে খাদ্য উৎপাদন ব্যাহত হবে। এখন বোরো মৌসুম চলছে। কৃষক ঠিকভাবে জ্বালানি না পেলে জমিতে সেচ দিতে পারবে না। বিষয়টি সরকারকে বিশেষভাবে বিবেচনা করতে হবে।

তেল নিয়ে দেশে যে তেলেসমাতি চলছে এর কারণ সরবরাহ ঘাটতি নয়; মজুদদার ও মুনাফাখোরদের কারসাজি। ইরান যুদ্ধ নিয়ে এখনো মন্তব্য করা যাচ্ছে না। এ যুদ্ধ স্থায়ী রূপ নিলে একসময় জ্বালানির মূল্য যেমন আকাশচুম্বী হবে, তেমনি এর সরবরাহ ঘাটতিও দেখা দেবে। আমাদের জন্য আসল সঙ্কট দেখা দেবে তখন। এ কারণে সময় থাকতে সরকারকে সচেতন হতে হবে।

সরকার ইতোমধ্যে ফিলিং স্টেশনগুলোতে ট্যাগ অফিসার নিয়োগ দিয়েছে। বিডিআর মোতায়েন করেছে। তেল চোরাকারবার হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। এ নিয়ে আমাদের গোয়েন্দা নজরদারিও বাড়াতে হবে। মজুদদারদের দমন করতে হলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। এখন পর্যন্ত অবৈধভাবে তেল মজুদের অপরাধে সামান্য কিছু টাকা তাদের জরিমানা করা হয়েছে। দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না দিলে এই অপকর্ম থেকে ক্ষান্ত হবে না এরা।