সময়ের ব্যবধান মাত্র আট দশক। বাংলাদেশের নতুন সরকার নতুন জাতীয় বাজেটে (২০২৬-২৭) বাংলাদেশের নিমজ্জমান অর্থনীতি পুনরুদ্ধার ও স্বনির্ভরকরণের পথে এগিয়ে নিতে যে পথনকশা এঁকেছে তা পরীক্ষা, পর্যালোচনা ও বাস্তবায়নে আট দশক আগে জাপানের অভিপ্রায়, প্রত্যাশা ও অর্জিত অভিজ্ঞতার সাযুজ্য ও সাক্ষাৎ ঘটতে পারে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের (১৯৩৯-৪৫) ধ্বংসলীলায় জাপানি অর্থনীতি পঙ্গু হয়ে পড়ে। ১৯৪৫ সালে যুদ্ধ শেষ হওয়ার পরের বছরগুলোতে দারুণ খাদ্যাভাব, অস্বাভাবিক মূল্যস্ফীতি এবং ব্যাপক চোরাকারবারে অর্থনীতি ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে পড়ে। জাপানিরা বহির্বিশ্বে তাদের সব দখলীয় এলাকা থেকে বিতাড়িত হয়। ফলে আট কোটি জনসংখ্যার সাথে সহসা ৬০ লাখ বিদেশ-ফেরত জাপানি যুক্ত হয়। বোমা হামলায় কলকারখানাগুলো তখন ধ্বংসস্তূপ। সামরিক ক্রয় ও কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অভ্যন্তরীণ বাজার চাহিদা হঠাৎ সীমিত হয়ে পড়ে। মার্কিন জেনারেল ডগলাস ম্যাকার্থারের নেতৃত্বে মিত্রবাহিনীর দখলদার প্রশাসন জাপানের বহির্বাণিজ্যের ওপর বিশেষ নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে। এতে করে বিদেশের বাজারে জাপানি সামগ্রীর চাহিদা পড়ে যায়। কাঁচামাল আমদানি বাধাগ্রস্ত হওয়ায় উৎপাদন ও সরবরাহ সক্ষমতা হ্রাস পায়। এর ফলে বিতরণ ব্যবসার সাথে সংশ্লিষ্ট বিশালসংখ্যক কর্মজীবী বেকার হয়।
এ পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে প্রাথমিক পর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক সহায়তায় জাপানিরা তাদের অর্থনীতির পুনর্বাসন ও পুনর্গঠন শুরু করে। আত্মবিশ্বাসে বলীয়ান, কঠোর পরিশ্রমী ও আত্মমর্যাদা সম্পর্কে সচেতন জাপানিরা শত প্রতিকূলতা মোকাবেলা করে মাত্র কয়েক বছরের মধ্যে সাফল্যের সন্ধান পায়। ১৯৫১ সালের মধ্যে জাপানের জিএনপি ১৯৩৪-৩৬ সালের পর্যায়ে পৌঁছে। ১৯৫৪ সালে রিয়াল টার্মে মাথাপিছু আয় ১৯৩৪-৩৬ সালের পর্যায়ে পৌঁছাতে সক্ষম হয়।
পরিত্যক্ত সামরিক বাহিনীর লোকবল এবং বিদেশ-ফেরত বেসামরিক জনবল একত্রে বিশাল কর্মিবাহিনীতে রূপান্তরিত হয়। বেশ কিছু সংস্কারমূলক কর্মসূচি গ্রহণে আর্থ-প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে নতুন মাত্রা যুক্ত হয়। একচেটিয়া ব্যবসায় নিয়োজিত বড় বড় ব্যবসায়-প্রতিষ্ঠান (জাইবাৎসু) ভেঙে দিয়ে এদের বিশাল ভূ-সম্পত্তি জনসাধারণ, বিশেষ করে চাষিদের মধ্যে ভাগ করে দেয়া হয়। লেবার ইউনিয়নের কর্মকাণ্ডে বিব্রতকর বাধাগুলো অপসারণ করা হয়। সবার চাকরির শর্তাবলি পুননির্র্ধারিত হয়। এতে কর্মপরিবেশে শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়।
যুদ্ধে সর্বস্বান্ত জাপানিরা জেনারেল ম্যাকার্থারের শাসনতান্ত্রিক সংস্কারকে স্বাগত জানায়। জাপানি জাতিকে বাধ্যতামূলকভাবে শিল্পকারখানা ও কৃষিতে ফিরিয়ে দেয়ায় তাদের আর্থ-সামাজিক জীবনব্যবস্থায় বিশেষ অগ্রগতি হয়। দীর্ঘমেয়াদে দেখা যায়, বিশ শতকের শেষার্ধে জাপান অর্থনৈতিক পরাশক্তির পর্যায়ে পৌঁছায়। যুদ্ধ শেষ হওয়ার ৯ বছর পর, ১৯৫৫ সালে জাপানি অর্থনীতি যুদ্ধ-পূর্ববর্তী অবস্থায় ফিরতে সক্ষম হয়।
এটি সর্বজনবিদিত ও স্বীকৃত যে, পঞ্চাশ ও ষাটের দশকে জাপানি অর্থনীতির অভূতপূর্ব সাফল্য সম্ভব হয়েছিল বেসরকারি খাতে ব্যাপক বিনিয়োগ এবং নিত্যনতুন শিল্প উদ্যোগ গ্রহণে। জাপানিদের সঞ্চয়ের পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়ায় ব্যাংকগুলোর অর্থলগ্নিতে তথা বেসরকারি খাতে বিনিয়োগে পুঁজি সরবরাহে সক্ষমতা বাড়ে। নতুন প্রযুক্তির ব্যŸহার এবং বিদেশী কোম্পানির লাইসেন্স নিয়ে ব্র্যান্ড আইটেম উৎপাদনে প্রকর্ষতাসহ উৎপাদিত সামগ্রীর প্রকার, পরিমাণ ও গুণগত মান বাড়ে, সরবরাহ বৃদ্ধি পায় এবং বহির্বিশ্বে জাপানি সামগ্রীর জনপ্রিয়তা বাড়ে। এ সময়ে জাপানি উৎপাদনব্যবস্থায় আরেকটি বিশেষ সুযোগ সংযুক্ত হয়; তা হলো, পর্যাপ্ত সংখ্যক প্রশিক্ষিত শ্রমিক। এ সময় প্রতি বছর উল্লেখযোগ্য সংখ্যক তরুণ ও প্রতিভাদীপ্ত শ্রমিক উৎপাদনকর্মে যুক্ত হতে থাকে। বিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে জাপানি অর্থনীতিতে অর্জিত অভূতপূর্ব সাফল্যে সে দেশের শিল্প-ব্যবসায়-বাণিজ্যের ভূমিকাই যে ছিল মুখ্য- তা বলাই বাহুল্য।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে শোচনীয় পরাজয়ের পর যুদ্ধবিধ্বস্ত অর্থনীতির পুনর্গঠন ও পুনরুজ্জীবনের লক্ষ্যে জাপান সবকিছুর ওপর শিল্প-ব্যবসায়-বাণিজ্যে বিনিয়োগের মাধ্যমে অর্থনৈতিক উন্নয়নের নীতি নেয়। ১৯৪৭ সালে অর্থাৎ যুদ্ধ শেষ হওয়ার দুই বছরের মধ্যে, বৈদেশিক বাণিজ্য বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেয়ার লক্ষ্যে পদ্ধতি সংস্কারসহ নিয়ন্ত্রণমূলক নীতিমালায় আনা হয় ব্যাপক পরিবর্তন। এর দু’বছর পর, ১৯৪৯ সালে মুদ্রাবিনিময় হার ডলার-প্রতি ৩৬০ ইয়েনে বেঁধে দেয়া হয়। জাপান সরকার এ সময় বৈদেশিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে কয়েকটি পোষক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ১৯৪৭ সালের মে মাসে প্রতিষ্ঠিত মিনিস্ট্রি অব ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (মিটি), ১৯৫০ সালে এক্সপোর্ট ব্যাংক অব জাপান (যা সত্তরের দশকে এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট (এক্সিম) ব্যাংক এবং হালে জাপান ব্যাংক ফর ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন (জেবিআইসি) হিসেবে ওভারসিজ ইকোনমিক কো-অপারেশন ফান্ডের (ওইসিএফ) সাথে একীভূত হয়) এবং ১৯৫৮ সালে জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশন (জেট্রো)।
মিটি আন্তর্জাতিক বাজারে জাপানের প্রবেশ নিশ্চিত করতে নীতি ও পদ্ধতি নিয়ে নিরন্তর গবেষণা এবং বহির্বাণিজ্য বৃদ্ধির কর্মপন্থা নির্ধারণ ও নিয়ন্ত্রণে, এক্সিম ব্যাংক আমদানি-রফতানিকারকদের পুঁজি সরবরাহসহ যাবতীয় আর্থিক লেনদেনে নিশ্চয়তা নির্ভরতার বিধান করে এবং জেট্রো জাপানি পণ্যের বিদেশে বাজার সৃষ্টিতে এবং একই সাথে বিদেশী পণ্যের (কাঁচামাল) জাপানে আমদানি বিষয়ে উৎসাহ, অনুপ্রেরণা ও প্রণোদনার দায়িত্ব পালন করতে থাকে।
বিদেশে জাপানি পণ্যের বাজার প্রসারে এবং সরকারের সাথে আমদানি-রফতানি নীতি, রীতিপদ্ধতি সংস্কার সংক্রান্ত সংলাপে ও সুবিধাবলি আদায়ে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের নিমিত্তে পণ্য ও শিল্প খাতওয়ারি আমদানি-রফতানি সমিতিগুলো গড়ে ওঠে এ সময়ে। এগুলো বাজার গবেষণা, তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ এবং নিজেদের উৎপাদিত পণ্যের গুণগত মান উন্নয়নে মনোনিবেশ করে। সেই সাথে বাজার অনুসন্ধান ও উন্নয়নমূলক পদক্ষেপ নেয়। ব্যবসায়-বাণিজ্য-বিষয়ক তথ্য-উপাত্ত ও সংবাদবাহী দৈনিক পত্রিকা এবং বিশেষায়িত সাময়িকীগুলোর প্রকাশনাও শুরু হয় এ সময়ে।
পঞ্চাশের দশকে জাপান সরকার ব্যবসায়-বাণিজ্য ক্ষেত্রে বেশ কিছু পদ্ধতি প্রবর্তন করে, যার মুখ্য উদ্দেশ্য ছিল রফতানি উৎসাহিতকরণ। এসবের মধ্যে, ‘রফতানি আয় থেকে করযোগ্য আয় বাদ দেয়ার পদ্ধতি’, ‘রফতানি অর্থায়নের ব্যবস্থা সহজীকরণ’, ‘রফতানি বীমা পদ্ধতি’ প্রবর্তন বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ব্যবসায় ও বণিক সমিতিগুলোর মতামত, পরামর্শ ও প্রস্তাবকে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হতো সিদ্ধান্ত গ্রহণে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর, শিল্প ও বাণিজ্য সংস্থার প্রধান, শিল্প গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনগুলোর নেতারা প্রতি মাসে নিজ নিজ নির্ধারিত তারিখে পৃথকভাবে সংবাদ মাধ্যমগুলোর সাথে দেশের অর্থনীতি, শিল্প উৎপাদন পরিস্থিতি ও ব্যবসায়-বাণিজ্য বিনিয়োগ নীতি নিয়মাবলি ব্যাখ্যা এবং সেসবের প্রয়োগ সম্পর্কে খোলামেলা আলোচনা ও মতবিনিময় করতেন। এ পদ্ধতি ও কর্মসূচি এখনো বলবৎ আছে।
ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্প সামগ্রীর চমৎকারিত্বের মধ্যে পণ্য উৎপাদন ও নির্মাণ নিষ্ঠার পরিচয় পাওয়া গেল। এসব সফল কুটিরশিল্প পরবর্তীকালে মাঝারি ও ভারী শিল্প প্রতিষ্ঠার প্রেরণা ও উৎপাদন উপাদান সরবরাহের উৎস হিসেবে পরিগণিত হয়। জাপানের মাঝারি ও ভারী শিল্প কোনো একক উদ্যোগের প্রতিষ্ঠান নয়। হাজার হাজার ক্ষুদ্রশিল্প পরিবারের সমন্বয় ও সংশ্লেষের ফসল। পঞ্চাশের দশকে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প উদ্যোক্তাদের সার্বিক স্বার্থ সংরক্ষণ ও তাদের উন্নয়ন প্রয়াসকে প্রযত্ন দানে রাষ্ট্রীয় সংস্থা স্মল অ্যান্ড মিডিয়াম এন্টারপ্রাইজেস করপোরেশন গঠিত হয়। এ সংস্থা এখন জাতীয় প্রতিষ্ঠান। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প উদ্যোগকে একটি গঠনমূলক কর্মপরিকল্পনায় এনে দক্ষ জনবল সৃষ্টির মাধ্যমে উৎপাদনে উৎকর্ষতা এনে যেকোনো সঙ্কট সন্ধিক্ষণেও যাতে আত্মনির্ভরশীলতার সুযোগ বিদ্যমান থাকে; তেমন একটি টেকসই মূল্যবোধগত অবয়ব গড়ে ওঠে। কর্মপরিবেশের জন্য যোগ্য কর্মী সৃষ্টিকে বর্র্ধিত ও টেকসই উৎপাদনের অন্যতম উপায় বলে বিবেচনা করে প্রশিক্ষণ ও কর্মী ব্যবস্থাপনার উন্নয়নে বেশি জোর দেয়া হয়।
পুরনো ট্রেডিং কোম্পানিগুলো যখন জাপানের রফতানি তথা বহির্বাণিজ্যে যথেষ্ট প্রভাব ও অবদান রাখতে সক্ষম বলে স্বীকৃত হতে শুরু করে, তখন জাপান সরকার ট্রেডিং কোম্পানি তথা শোগো শোসাদের সহায়তায় অনেকগুলো পদক্ষেপ নেয়। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, রাবার, চামড়া ও ফ্যাটের (জাপানিরা সে সময় বলত সানকো আতারাশি মনো বা নতুন তিন পণ্য) বাজার বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষায় উদ্ধার প্যাকেজ প্রদান, কর রেয়াত দ্বারা রফতানিবাজার বাতিল হওয়াজনিত ক্ষতি থেকে পুঁজি পুনর্গঠনের সুযোগ দিয়ে ক্ষতি পুষিয়ে নেয়ার ব্যবস্থা। রফতানি নীতিতে এসব লক্ষ্যে বিভিন্ন রেয়াত ও সুবিধার সমাহার ঘটানো হয়। সরকারের পৃষ্ঠপোষকতামূলক এসব পদক্ষেপে ট্রেডিং কোম্পানিগুলো বহির্বিশ্বে বাজার খুঁজে জাপানি পণ্য উৎপাদন ও বিপণন ব্যবস্থায় বিশেষ অবদান রাখার মতো শক্ত সমর্থ হয়ে ওঠে।
একই সময় অন্য দিকে, দেশের বৈদেশিক মুদ্রা মজুদে অপ্রতুলতার প্রেক্ষাপটে সরকার আমদানি বাণিজ্যে, বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণের হেতু হিসেবে, বেশ কিছু নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা নেয়। এতদিন আমদানিকারকদের বৈদেশিক মুদ্রা বরাদ্দ করা হতো, ট্রেডিং কোম্পানিগুলোকে নয়। ফলে ট্রেডিং কোম্পানিগুলো মানুফ্যাকচারারদের পক্ষ হয়ে কাজ করত। ১৯৫৬ সালে বৈদেশিক মুদ্রা বরাদ্দ ব্যবস্থায় সংশোধনী আনা হয়। এ ছাড়া ট্রেডিং কোম্পানিগুলোকেও স্বাধীনভাবে বহির্বাণিজ্যে সুবিধাদানের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ দান পদ্ধতি প্রবর্তিত হয়। বৈদেশিক মুদ্রা প্রবাহের ওপর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কড়া পরিবীক্ষণ ব্যবস্থাকে বাস্তবতার সাথে সঙ্গতি রেখে ক্রমান্বয়ে পুনর্বিন্যাস করা হয়। আমদানি-রফতানি ও প্রত্যাবাসন সূত্রে বৈদেশিক মুদ্রার আগমন-নির্গমন পরিস্থিতির ওপর নিত্য নজরদারি এবং মুদ্রাবিনিময় হারকে সুসামঞ্জস্য করার ওপর নীতিগত তাগিদ আরোপ করা হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরকে মিডিয়ার সাথে নিয়মিত পাক্ষিক ব্রিফিংয়ে বৈদেশিক মুদ্রাপ্রবাহ ও রিজার্ভ পরিস্থিতির ওপর ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণের প্রথা চালু করা হয়।
লেখক : অবসরপ্রাপ্ত সচিব, এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান এবং জাপানে বাংলাদেশের প্রাক্তন বাণিজ্য দূত



