শত বাধা অতিক্রম করে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠান হতে যাচ্ছে। এর আগে কখনো কোনো নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য এত বেশি চ্যালেঞ্জ নিতে হয়নি। এই নির্বাচন ঘিরে ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ ক্রমাগত ষড়যন্ত্র চক্রান্ত করে যাচ্ছে। এর সাথে রয়েছে প্রভাবশালী বিদেশী শক্তি। যেকোনো উসিলায় তারা নির্বাচন ভণ্ডুল করে দিতে একপায়ে খাড়া। অন্তর্বর্তী সরকার ধৈর্য কৌশল অবলম্বনের মাধ্যমে শত্রুদের প্রতিহত করে নির্বাচনের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেছে বাংলাদেশ। এ অবস্থায় প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্বশীল আচরণ কাম্য হলেও অনেক ক্ষেত্রে তার ব্যত্যয় দেখা যাচ্ছে।
নির্বাচন প্রচার অভিযানের মধ্যে দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে সহিংসতার খবর পাওয়া যাচ্ছে। যদিও রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে নিশানা করে হামলা ও ভয়ভীতি প্রদর্শন আরো আগে থেকে শুরু হয়েছে। এবার প্রতিপক্ষের আক্রমণে শেরপুরে জামায়াতের এক নেতা প্রাণ হারিয়েছেন। প্রশাসনের উদ্যোগে শেরপুর-৩ আসনের প্রার্থীদের নির্বাচনী ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে আধিপত্য বিস্তার করার চেষ্টার কারণে বিএনপির সাথে জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে বচসা হয়। উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়লে ৩০ জন আহত হয়। এর মধ্যে জামায়াতের শ্রীবরদী উপজেলার সেক্রেটারি রেজাউল করিম প্রাণ হারান।
জামায়াতের নির্বাচনী প্রচারণায় বাধা প্রদান ও হামলার ঘটনা ঘটেছে চট্টগ্রাম ও বগুড়ায়। চট্টগ্রাম-১০ আসনের জামায়াত প্রার্থীর গণসংযোগে একদল দুর্বৃত্ত হামলা চালালে তাদের আটজন নেতাকর্মী আহত হন। বগুড়া-৭ আসনের গাবতলী উপজেলায় জামায়াতের নির্বাচনী অফিস উদ্বোধনের পর গভীর রাতে স্থানীয় ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারির বসতবাড়িতে অগ্নিসংযোগ করেছে দুর্বৃত্তরা। অগ্নিকাণ্ডে তার ঘরের আসবাবপত্র ভস্মীভূত হয়েছে। নির্বাচনী প্রচার শুরু হওয়ার বেশ আগে থেকে সারা দেশে জামায়াতের গণসংযোগকারীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। বিশেষ করে নারী সদস্যদের নির্বাচনী প্রচারে মারধর ও হেনস্তার বেশ কিছু অভিযোগ এসেছে। সর্বশেষ ঢাকা-১৫ আসনে জামায়াতের নারী সদস্যদের হেনস্তা ও অপমান করা হয়েছে। এসবের যথাযথ প্রতিকার পাওয়া যায়নি।
গাইবান্ধায় বিএনপির স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের চারটি মোটরসাইকেলে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। হাসিনা পলায়নের পরপর দেশে চাঁদবাজি ও দখলবাজির এক মহোৎসব দেখা গিয়েছিল। বাসটার্মিনাল, টেম্পোস্ট্যান্ড, বালুমহাল দখলের হিড়িক পরে। একটি বড় রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে এই দখলদারির অভিযোগ ওঠে। বিএনপি এ জন্য তাদের শত শত নেতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়। বাস্তবে এসব দুষ্কর্ম থেকে তাদের বিরত রাখা যায়নি। এখন এই অপকর্মের হোতাদের একটি অংশ নির্বাচনের মাঠে পেশিশক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। এদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নেয়া গেলে নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে।
ভোটাররা একটি শান্তিপূর্ণ নিরাপদ পরিবেশ চায়। ভোট দিতে এসে বিপদের মুখোমুখি হতে কেউ চায় না। এ জন্য একটি উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি করা সরকারের দায়িত্ব। ইতোমধ্যে সরকার এ কাজে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছে বলে দাবি করেছে। বাস্তবে অনেক জায়গায় তা দৃশ্যমান নয়। সরকারকে ঝুঁকিপূর্ণ জায়গায় অতিরিক্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে হবে। পেশিশক্তি ও সন্ত্রাস সৃষ্টিকারীদের নিষ্ক্রিয় করা না গেলে অন্তর্বর্তী সরকার একটি দৃষ্টান্তমূলক নির্বাচন আয়োজনের যে আশা করছে সেটি সম্ভব হবে না।



