সংসদে বিল পাসের পর আলোচনা

মর্নিং শো’জ দ্য ডে

দেখার বিষয়, সংখ্যাগরিষ্ঠতায় বলীয়ান বিএনপি ভবিষ্যতে সংসদীয় রীতি কতটা অনুসরণ করে। কারণ, বিল পাস হওয়ার পর আলোচনার উদাহরণ জনমনে প্রথম জাতীয় সংসদের স্মৃতি জাগিয়ে তুলছে। ওই সংসদে স্বল্পতম সময়ে রাষ্ট্রের বৈশিষ্ট্য আমূল বদলে ফেলার মতো বিল পাস করা হয়েছিল।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সদ্য সমাপ্ত প্রথম অধিবেশনে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ নানা বিষয়ে আলোচনা ও তর্ক-বিতর্ক হয়েছে। অনেকগুলো আইন পাস হয়েছে। দীর্ঘ দেড় দশক পর সংসদ হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত। তবে এমন ঘটনাও ঘটেছে যা সংসদীয় রীতিনীতির সুষ্ঠু অনুশীলন নয়। বরং ভবিষ্যতে সরকারি দল বা বৃহত্তর অর্থে দেশ কোন দিকে যেতে পারে ওই ঘটনা তার আভাস হতে পারে।

যেমন, অধিবেশনের শেষ দিনে দু’টি বিল পাস হওয়ার পর অনির্ধারিত আলোচনা হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, বিল উত্থাপনের পর এ বিষয়ে আলোচনা হওয়ার কথা। সত্যি বটে, বিরোধী দলের পক্ষ থেকে আলোচনার জন্য কেউ নোটিশ দেননি। শুধু একজন স্বতন্ত্র সদস্য এই বিষয়ে নোটিশ করেছিলেন। সরকারি দল আন্তরিক হলে তাৎক্ষণিকভাবে বিল দু’টি উত্থাপন না করে আলোচনার জন্য সময় দিতে পারত।

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) এবং বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) এই দু’টি সংস্থায় নিয়োগে চেয়ারম্যান ও সদস্যদের বয়সসীমার বাধ্যবাধকতা তুলে দেয়া হয়েছে।

বিল পাস হয়ে যাওয়ার পর অনির্ধারিত বিতর্কের কোনো দরকার ছিল না। এই বিতর্কে ব্যয় হওয়া সময়ে সংসদ চালানোর যে লাখ লাখ টাকার সংশ্লিষ্টতা তা জনগণের অর্থের নিছক অপচয় ছাড়া কিছু নয়।

দু’টি নিয়ন্ত্রক সংস্থায় শীর্ষ নির্বাহী নিয়োগে বয়সের সীমা তুলে দেয়ার ফল কী হতে পারে, সে কথা বিরোধী দলের নেতা ও অন্য সদস্যরা বলেছেন। সরকারি দল দক্ষ, যোগ্য ও দলনিরপেক্ষ ব্যক্তিদের নিয়োগের স্বার্থে এই আইন প্রণয়নের কথা বললেও, এ বিষয়ে তারা যে আন্তরিক নন, সেটি উদাহরণসহ দেখিয়েছেন বিরোধী সদস্যরা। এ বিষয়ে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, সরকারের দুই মাসে সরকার যে জায়গাগুলোতে হাত দিয়েছে, প্রত্যেকটিতেই তাদের পদক্ষেপ জনআকাক্সক্ষার বিপক্ষে গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর নিয়োগ এবং সাবেক গভর্নরকে বিদায় করার দৃষ্টান্তের উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘মর্নিং শোজ দ্য ডে’।

বিরোধীদলীয় নেতার বক্তব্যটি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, সরকারি দলের কথা ও কাজের সামঞ্জস্য নিয়ে অনেকে সংশয়ে। রাষ্ট্র-সংস্কার এবং জুলাই সনদ নিয়ে সরকারি দলের অবস্থানে অনেকে বিভ্রান্ত। এ বিষয়ে গণভোট নিয়ে তাদের নির্বাচনপূর্ব অবস্থানও ছিল একই রকম। আগের কথা বাদ দিয়ে তাদের সব শেষ বক্তব্য বিবেচনায় নিলেও সংশয় নিরসন নয় বরং আরো গভীর হয়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ অধিবেশনের শেষ দিনে সংসদে বলেন, ‘সংস্কারের বাহানায় যদি নির্বাচন হতে না দেয়, সেজন্য আপস করে জুলাই সনদে সই করেছি।’ এটি নিজ দলের নৈতিক অবস্থানের দুর্বলতার প্রকাশ্য ঘোষণা। গণভোটে জুলাই সনদের পক্ষে ভোট দিতে দেশবাসীর প্রতি বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের আহ্বানও ছিল একই দুর্বল নৈতিক অবস্থানের সুতায় বাঁধা।

দেখার বিষয়, সংখ্যাগরিষ্ঠতায় বলীয়ান বিএনপি ভবিষ্যতে সংসদীয় রীতি কতটা অনুসরণ করে। কারণ, বিল পাস হওয়ার পর আলোচনার উদাহরণ জনমনে প্রথম জাতীয় সংসদের স্মৃতি জাগিয়ে তুলছে। ওই সংসদে স্বল্পতম সময়ে রাষ্ট্রের বৈশিষ্ট্য আমূল বদলে ফেলার মতো বিল পাস করা হয়েছিল।