দেশে অবৈধ পথে মাদক আসা বন্ধ হচ্ছে না। সীমান্ত ও আকাশপথে মাদকপাচার বন্ধ করতে পারেনি প্রশাসন। দেশে মাদকাসক্তের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। সেই সাথে বাড়ছে মাদকজনিত সমস্যাও। সম্ভাবনাময় অনেক তরুণের জীবন ও তাদের পরিবার ধ্বংস হচ্ছে, সমাজে অপরাধ বাড়ছে এবং জাতীয় কর্মশক্তির অপচয় হচ্ছে।
নয়া দিগন্তের এক রিপোর্টে জানা যাচ্ছে, দেশে বেশির ভাগ মাদকদ্রব্য আসে মূলত প্রতিবেশী দু’টি দেশ ভারত ও মিয়ানমার থেকে। সীমান্ত দিয়ে নানা কৌশলে মাদকের চালান পৌঁছে দেশে। দেশের ২৯টি সীমান্তবর্তী জেলার প্রায় ১৬২টি রুট দিয়ে নানা ধরনের মাদক আসছে। বাংলাদেশের বাজার লক্ষ্য করে সীমান্তের ওপারে মাদকের কারখানা পর্যন্ত তৈরি হয়েছে। এ ছাড়া বাংলাদেশ মাদক পাচারের ট্রানজিট রুট হিসেবেও ব্যবহার হয়। আন্তর্জাতিক মাদক মাফিয়ারা বাংলাদেশকে ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকায় কোকেন ও হেরোইনের মতো মাদক পাচারের ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহার করে।
সমস্যা হলো, প্রতিবেশী দেশে গড়ে ওঠা মাদকের কারখানা বন্ধে বাংলাদেশের উদ্বেগে সংশ্লিষ্ট সাড়া পাওয়া যায় না। সীমান্ত আলোচনায় অবধারিতভাবে বিষয়গুলো উত্থাপন করা হয়, প্রতিবেশীর প্রতিশ্রুতিও মেলে; কিন্তু বাস্তবে কোনো অগ্রগতি হয় না। মাদকের উৎস নিয়ন্ত্রণ করতে না পারায় সরকার দেশের ভেতরে মাদক নিয়ন্ত্রণ করে পরিস্থিতি সামলানোর চেষ্টা করে। আইনশৃঙ্খলাবাহিনী নিয়মিত অভিযান চালিয়ে মাদক আটক ও কারবারিদের গ্রেফতার করে; কিন্তু তা যথেষ্ট নয়। সবারই জানা, দেশে মাদকের বড় বড় চক্র আছে। বিভিন্ন সময় এমনকি মন্ত্রী, এমপিদের গাড়িতেও মাদক ধরা পড়েছে। কিন্তু বড় বড় মাফিয়া চক্রের হোতাদের বিরুদ্ধে কখনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। খুচরা কারবারি বা সরবরাহকারীকে আটক করে এ সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়।
জাতীয় পর্যায়ের এক গবেষণায় দেখা যায়, দেশে বর্তমানে প্রায় ৮২ লাখ মানুষ কোনো না কোনো ধরনের অবৈধ মাদক ব্যবহার করছে, যা মোট জনসংখ্যার প্রায় পাঁচ শতাংশ। একজন মাদক ব্যবহারকারী মাসে গড়ে প্রায় ছয় হাজার টাকা ব্যয় করে। অর্থাৎ প্রতি মাসে সারা দেশে শুধু মাদকের পেছনে ব্যয় হচ্ছে প্রায় পাঁচ হাজার কোটি টাকা। এর সাথে আছে মানকাসক্তদের চিকিৎসা, ওষুধ ও পুনর্বাসনসহ নানা ব্যয়। মেধা ও কর্মশক্তির ক্ষতি যোগ করলে তা এমন বিশাল হয়ে ওঠে যা কখনোই পূরণ করা সম্ভব নয়।
মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের মহাপরিচালক নয়া দিগন্তকে বলেছেন, বর্তমানে দেশের মানুষ ব্যাপকভাবে মাদকাসক্ত হওয়ার ঝুঁঁকির মধ্যে রয়েছে। এই ঝুঁকি মোকাবেলায় অভিযানের বাইরে আর কোনো কর্মসূচি নেই। সরকার সবসময়ই পুরনো কর্মকাণ্ডের ফিরিস্তি দিয়ে দায় ঘুচানোর চেষ্টা করে। নয়া স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও দেশজুড়ে বিশেষ অভিযানের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে বলেছেন, সমন্বিত অভিযানের মাধ্যমে এ সমস্যার মোকাবেলা করা হবে।
সবমিলিয়ে চিত্রটা হতাশার। মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন ও সামাজিক যুদ্ধ চালানোর পরামর্শ ও অঙ্গীকার শুনি। পরিবার থেকেই প্রতিরোধ শুরুর কথা বলা হয়। কিন্তু সে উদ্যোগও সামান্য। এমনকি রাষ্ট্রীয়ভাবে রেডিও টেলিভিশনে নিয়মিত মাদকবিরোধী প্রচারণাও দেখা যায় না।



