অবশেষে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতি

মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি স্থায়ী হোক

মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তির অন্যতম অন্তরায় এখানকার দেশগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব এবং ইসরাইলের রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস। ইরানের প্রতিরোধে যুক্তরাষ্ট্রের এই পিছু হটার পর শুধু মধ্যপ্রাচ্যে নয়, গোটা বিশ্বেই শান্তির সুবাতাস বইবে। কারণ ইরানের মতো দেশের হাতে নাস্তানাবুদ হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র আর পরাশক্তি হিসেবে গণ্য হবে বলে মনে হয় না। যা ইচ্ছা তাই করতেও পারবে না। কারণ কেউ তাকে মানবে না।

ইরানকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দেয়ার চূড়ান্ত হুমকির কিছু সময় পর সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে যুুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। গত মঙ্গলবার রাতে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেয় যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ট ট্রাম্প বলেছেন, দুই পক্ষের মধ্যে একটি ‘উভয়মুখী যুদ্ধবিরতি’ কার্যকর হতে যাচ্ছে। তবে এই স্থগিতাদেশের প্রধান শর্ত হচ্ছে- ইরান অবিলম্বে এবং সম্পূর্ণ নিরাপদভাবে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালী জাহাজ চলাচলের জন্য খুুলে দেবে। যুদ্ধবিরতি মেনে নিয়েছে ইরানও। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি দেশটির সামরিক বাহিনীকে গুলি বন্ধের নির্দেশ দিয়ে বলেছেন, এটি যুদ্ধের শেষ নয়, তবে সব সামরিক শাখাকে সর্বোচ্চ নেতার নির্দেশ মেনে গুলি বন্ধ করতে হবে। একই সাথে ইসরাইলও যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলার মাধ্যমে ইরান যুদ্ধ শুরু হয়। এই যুদ্ধ শুধু ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের মধ্যেই থেমে থাকেনি; বরং গোটা মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়ে। আর তার প্রভাব পড়েছে ইউরোপ ও এশিয়াসহ পৃথিবীর নানা প্রান্তে। ফলে বিশ্বজুড়ে এক ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি হয়। বিশেষত মঙ্গলবার যুদ্ধবিরতির আগ মহূর্তে ট্রাম্প পুরো ইরানি সভ্যতা ধ্বংসের হুমকি দেয়ায় বিশ্ববাসী স্তম্ভিত হয়। মুসলিম বিশ্বে চরম উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। যুদ্ধবিরতির মধ্য দিয়ে তেলের দামের ঊর্ধ্বগতি যেমন থেমেছে, তেমনি শান্তিকামী মানুষের মনে স্বস্তি নেমে এসেছে।

যুদ্ধবিরতিতে মধ্যস্থতা করেছে পাকিস্তান। প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের মধ্যস্থতা সফল হয়েছে। স্থায়ী যুদ্ধবিরতির জন্য পাকিস্তানে শিগগিরই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা শুরু হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্র গত ৮০ বছর ধরে বিশ্বে একাধিপত্য চালিয়ে যাচ্ছে। গায়ের জোরে দেশে দেশে সরকারের পতন ঘটিয়েছে, দেশগুলোর সম্পদ কেড়ে নিয়েছে। তাকে চ্যালেঞ্জ করার কেউ ছিল না। কয়েক মাস আগেই যুক্তরাষ্ট্র ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট দম্পতিকে তাদের নিজ বাসভবন থেকে তুলে নিয়ে যায়। ভেনিজুয়েলার তেল সম্পদ দখল করে। এর পরই ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা করে। এখানেও ট্রাম্পের মূল লক্ষ্য ইরানের তেলসম্পদ এবং মধ্যপ্রাচ্যে তার আধিপত্য বজায় রাখা। এমনকি কানাডাকে অঙ্গরাজ্য করা, গ্রিনল্যান্ড দখল, পানামা খাল দখল, কিউবায় হামলার হুমকি, বিভিন্ন দেশের বিরুদ্ধে নজিরবিহীন শুল্ক আরোপ- গোটা বিশ্বে চরম বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি করেন ট্রাম্প। কিন্তু এর বিরুদ্ধে কোনো কার্যকর প্রতিরোধ বা প্রতিবাদ দেখা যায়নি। মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তির অন্যতম অন্তরায় এখানকার দেশগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব এবং ইসরাইলের রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস। ইরানের প্রতিরোধে যুক্তরাষ্ট্রের এই পিছু হটার পর শুধু মধ্যপ্রাচ্যে নয়, গোটা বিশ্বেই শান্তির সুবাতাস বইবে। কারণ ইরানের মতো দেশের হাতে নাস্তানাবুদ হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র আর পরাশক্তি হিসেবে গণ্য হবে বলে মনে হয় না। যা ইচ্ছা তাই করতেও পারবে না। কারণ কেউ তাকে মানবে না।

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে যে স্বস্তির হাওয়া বিশ্বজুড়ে বইতে শুরু করেছে, তা স্থায়ী শান্তির হাওয়ায় রূপান্তর হোক। আজকের দিনে এই মুনাজাত।