শেরপুরের স্থগিত আসনে নির্বাচন এবং বগুড়ার উপনির্বাচন বাতিলের দাবি জানিয়েছে বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী। পুনঃনির্বাচনের দাবি তুলেছে। গত ৯ এপ্রিল বৃহস্পতিবার ওই দু’টি আসনে ভোট গ্রহণ করা হয়। এতে ব্যাপক ভোট জালিয়াতি, কেন্দ্র দখল, এজেন্টদের বের করে দেয়া, জাল ভোট এবং প্রকাশ্যে সিল মারার ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ করেছে বিরোধী দল। কিছু কেন্দ্রে ভোট শুরুর আগে রেজাল্ট শিটে স্বাক্ষর নেয়া হয়েছে। একই সাথে আচরণবিধি লঙ্ঘন হয়েছে বলেও অভিযোগ করে দলটি। এর পাশাপাশি ভোটকেন্দ্রে বিরোধী দলের লোকদের ওপর হামলা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ এনেছে দলটি। প্রতিবাদে সমাবেশ ও বিক্ষোভ করেছে। জামায়াত বলেছে, বৃহস্পতিবারের নির্বাচনে আওয়ামী দুঃশাসনের ছাপ দেখা গেছে, এমনকি এটি বিএনপির আমলে মাগুরার নির্বাচনকেও ছাড়িয়ে গেছে।
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেছেন, বগুড়া ও শেরপুরের নির্বাচনে প্রমাণ হয়েছে, দলীয় সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচন সুষ্ঠু হতে পারে না। ভোটের দিন নির্বাচন কমিশনের কাছে অভিযোগ দিয়ে প্রতিকার কামনা করে দলটি। নির্বাচন কমিশন কোনো ব্যবস্থা নেয়নি; বরং কমিশনের সচিব যেসব কথা বলেছেন তা কার্যত অভিযোগ উপেক্ষার শামিল।
শেরপুর-৩ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মাসুদুর রহমান বেলা ৩টায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন। বলেন, অভিযোগ করেও প্রতিকার পাননি তিনি। বগুড়ার প্রার্থী নির্বাচন বর্জন না করলেও তার অভিযোগ প্রায় অভিন্ন। জামায়াতের পক্ষ থেকে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের হস্তক্ষেপও কামনা করা হয়।
জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল দাবি করেন, কিছু কেন্দ্রে ভোট শুরুর আগে রেজাল্ট শিটে স্বাক্ষর নেয়া হয়েছে। আচরণবিধি লঙ্ঘন হয়েছে। এসব অভিযোগ গুরুতর। যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া ছিল নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব। সেটি হয়নি। বগুড়া ও শেরপুরের নির্বাচন ছিল বিএনপির নতুন সরকারের জন্য একধরনের পরীক্ষা। তারা কতটা নিরপেক্ষভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠান করতে পারে তার পরীক্ষা ছিল এটি। এতে ক্ষমতাসীন দলের আন্তরিকতার প্রমাণ মেলেনি; বরং বিরোধী দল মাগুরা উপনির্বাচনের ইতিহাস মনে করিয়ে দিচ্ছে।
১৯৯৪ সালের ২০ মার্চ তখনকার বিএনপি সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত হয় মাগুরা-২ আসনের উপনির্বাচন। সেটি দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ ছিল। ওই উপনির্বাচন এমন বিতর্কের জন্ম দেয় যে, কোনো দলীয় সরকারের অধীনে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। ওই নির্বাচনে নজিরবিহীন কারচুপির অভিযোগে বিরোধী দলগুলোর তীব্র আন্দোলনে বিরোধীদের দাবি অনুযায়ী দেশে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা মেনে নিতে বাধ্য হয় বিএনপি সরকার।
মাগুরা-২ আসনের উপনির্বাচনের সেই ইতিহাস কারো জন্য সুখকর ছিল না। কারণ যে আওয়ামী লীগ ওই নির্বাচন নিয়ে গণ-আন্দোলন তৈরি করে, একপর্যায়ে সেই দলটিই চরম স্বৈরাচারী মূর্তি ধারণ করে গণতন্ত্রের গলা টিপে ধরে। তাদের ফ্যাসিবাদী শাসনে দেশ ও জাতি অবর্ণনীয় দুঃসময় অতিবাহিত করে। কোনো শুভবুদ্ধির মানুষ সেই ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি চাইতে পারেন না।
জনগণ আশা করে, চব্বিশের রক্তক্ষয়ী গণ-অভ্যুত্থানের পথ বেয়ে ক্ষমতাসীন দলটি অতীত থেকে শিক্ষা নেবে। সেই সাথে জন-আকাঙ্ক্ষার প্রতি সম্মান রেখে দেশ পরিচালনা করবে।



