সারা দেশে সড়ক যোগাযোগব্যবস্থায় প্রভূত উন্নতি হয়েছে। তবে কিছু অঞ্চল এখনো অবহেলিত। গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ তেমনি একটি উপজেলা। চার দশক হলো এই উপজেলায় একটি সেতুর অভাবে হাজারো মানুষ ঝুঁকি নিয়ে কাঠের সাঁকোতে চলাচল করছেন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা বারবার সেতু নির্মাণের আশ্বাস দিয়ে ভোট নিলেও পরে সেই প্রতিশ্রুতি পূরণ করেননি। ফলে বিপুলসংখ্যক মানুষের দুর্ভোগের এখনো অবসান হয়নি।
নয়া দিগন্তে গত শনিবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বেলকা ইউনিয়নের তিস্তা শাখা নদীর উপর একটি জরাজীর্ণ কাঠের সাঁকো প্রায় ৩০ হাজার মানুষের একমাত্র ভরসা। স্থায়ী সেতু ও উন্নত সড়ক যোগাযোগের অভাবে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে এই সাঁকো পারাপার হচ্ছে শিক্ষার্থী, কৃষক, শিক্ষক, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ। উপজেলার চর বেলকা, চর চরিতাবাড়ী, জিগাবাড়ী, কাশিম বাজার, বজরা, উজান চেওড়া, চর বজরা, মহিষবান্দিসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষের চলাচলের একমাত্র মাধ্যম এ কাঠের সাঁকো। সাঁকোটির অনেক কাঠ পচে গেছে। কিছু স্থানে পাটাতন উঠে বড় বড় ফাঁক তৈরি হয়েছে। কোথাও দড়ি দিয়ে কাঠ বেঁধে কোনোমতে চলাচলের উপযোগী রাখা হয়েছে। একসাথে কয়েকজন উঠলে সাঁকোটি দুলতে থাকে, যা পারাপার হওয়াদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। উন্নয়নের প্রধান শর্ত সংশ্লিষ্ট এলাকার যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন; কিন্তু যোগাযোগব্যবস্থাই যদি ভঙ্গুর হয়; তাহলে টেকসই উন্নয়ন ব্যাহত হয়। সুন্দরগঞ্জের বেলকা ইউনিয়নের এ সেতু না থাকায় অঞ্চলটির মানুষের চিকিৎসা, শিক্ষা ও ব্যবসাবাণিজ্য থেকে শুরু করে সামাজিক নানা অনুষ্ঠানাদিতেও এর প্রভাব পড়ছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী নবিয়াল বলেন, একটি পাকা সেতু নির্মিত হলে কৃষিপণ্য পরিবহন, ব্যবসাবাণিজ্য এবং সার্বিক জীবনমানের উন্নয়ন ঘটাতে পারত; কিন্তু সেতু না থাকায় যোগাযোগ সমস্যায় তা ব্যাহত হচ্ছে। লক্ষণীয়, সরকার শহরের যেকোনো সমস্যার সমাধান যত দ্রুত করে থাকে, গ্রামের বেলায় ঠিক ততটাই বিলম্ব করে। উন্নয়নের ক্ষেত্রে গ্রাম-শহরের এই বৈষম্য দেশে দীর্ঘদিন থেকে হয়ে আসছে। সুন্দরগঞ্জে প্রায় চার দশক ধরে একটি সেতুর জন্য অপেক্ষা এর জ্বলন্ত প্রমাণ। বিগত দিনে পতিত স্বৈরাচার দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকলেও সুন্দরগঞ্জে বিপুলসংখ্যক মানুষের জন্য অতিপ্রয়োজনীয় সেতুটি নির্মিত হয়নি। এটি কোনোভাবে কাম্য ছিল না; কিন্তু বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের আমলে ভুক্তভোগীরা এমনটি আশা করেন না।
তবে আশার কথা, সুন্দরগঞ্জ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক মাজেদুর রহমান সেতু নির্মাণ প্রসঙ্গে বলেছেন, বেলকা তিস্তা শাখা নদীর উপর সেতু নির্মাণে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে ডিও লেটার দেয়া হয়েছে। এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের সাথে আলোচনা হয়েছে এবং দ্রুত প্রকল্পের অনুমোদন ও বরাদ্দ পাওয়ার বিষয়ে আশ্বাস পাওয়া গেছে। আমরাও চাই সরকার শহরের সমস্যা যেভাবে আন্তরিকতার সাথে দ্রুত সমাধান করে থাকে; গ্রামের মানুষের সমস্যাও সেইভাবে গুরুত্ব দেবে; বিশেষ করে বেলকা তিস্তা শাখা নদীতে সেতু নির্মাণের বিষয়টি।
আমরা বিশ্বাস করি, সুন্দরগঞ্জ সেতু নির্মাণ প্রকল্পটি বিলম্ব ছাড়াই অনুমোদন ও বরাদ্দ পাবে এবং দ্রুত নির্মাণকাজ সম্পন্ন করার মাধ্যমে এলাকার মানুষের দুর্ভোগের অবসান হবে।



