চলতি মাসেই আমাদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আজহা। প্রতি বছরের মতো এবারো কোরবানির আনুষ্ঠানিকতা যাতে সুষ্ঠুভাবে পালন করা সম্ভব হয়, সে বিষয়ে কোরবানিদাতাদের যেমন প্রস্তুতি নিতে হয়, তেমনি সরকারেরও প্রস্তুতির দরকার আছে।
সারা দেশে কোরবানির পশুর হাটের ব্যবস্থাপনা, পশু পরিবহন ও বাজারজাতকরণ নিরাপদ ও সুষ্ঠু করা, পশুর অবৈধ সরবরাহ বন্ধ করে দেশী খামারিদের পশুর বিপণন নিশ্চিত করা, কোরবানি পশুর চামড়ার ব্যবস্থাপনা, কোরবানির পর পরিচ্ছন্নতা— ইত্যাদি বিপুল কর্মযজ্ঞ সামাল দেয়া এক বড় চ্যালেঞ্জ।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় কোরবানি নিয়ে তেমন কোনো অভিযোগ ওঠেনি। মোটামুটি সুষ্ঠুভাবে সব কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। পশুর হাট বা পরিবহনে চাঁদাবাজের দৌরাত্ম্য ছিল না। পশুর বাজারে কোনো অস্থিরতা ছিল না, পশুর অভাবও ঘটেনি কোথাও। চামড়া নিয়েও হয়নি স্বৈরাচারের সময়ের মতো কোনো কারসাজি। মানুষ চামড়ার দাম না পেয়ে মাটিতে পুঁতে ফেলছে— এমন ঘটনা ঘটেনি। সব মিলিয়ে স্বস্তিকর পরিবেশে কোরবানির আনজাম দিতে পেরেছে সারা দেশের মানুষ।
এবার নতুন সরকারের সময়ে প্রথম ঈদ আসছে। এ বিষয়ে সরকারকে এখন থেকেই পূর্ণ প্রস্তুতি নিতে হবে। বিশেষ করে কোরবানির সাথে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে। মৎস্য ও পশুসম্পদমন্ত্রী এরই মধ্যে তার দফতরের প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন। কিন্তু এর সাথে আরো অনেক মন্ত্রণালয়ের কর্মকাণ্ড জড়িত। স্বরাষ্ট্র, বাণিজ্য, পরিবেশ, স্বাস্থ্য, ধর্ম মন্ত্রণালয় এবং স্থানীয় প্রশাসন কোরবানির পুরো প্রক্রিয়ার সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত। অর্থ মন্ত্রণালয়েরও কিছু দায়িত্ব আছে চামড়া ব্যবসায়ীদের অর্থায়নের মতো বিষয়ে। এই বিশাল কর্মকাণ্ড সুষ্ঠু ও সুচারুভাবে সম্পন্ন করা বিশেষ মনোযোগ দাবি করে।
প্রাণিসম্পদমন্ত্রী জানিয়েছেন, এ বছর কোরবানির পশু নিয়ে সঙ্কট হওয়ার আশঙ্কা নেই। কারণ, চাহিদার তুলনায় পশুর সরবরাহ বেশি আছে। কোরবানির চাহিদা পূরণ হয়েও অনেক পশু উদ্বৃত্ত থাকতে পারে। মন্ত্রী জানান, রাজধানীতে নির্দিষ্ট জায়গায় হাট বসবে। সারা দেশেও স্থানীয় প্রশাসনের তদারকিতে হাটের আয়োজন থাকবে। অবৈধ পশু আমদানির কারণে স্থানীয় খামারিরা যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সেজন্য সীমান্তে বিজিবি, পুলিশের কঠোর নজরদারি থাকবে।
মন্ত্রী বলেন, সীমান্তপথে অতীতে যে পরিমাণ পশু আসত, গত বছর তার চার ভাগের এক ভাগও আসেনি। এবার একটিও আসবে না।
সবচেয়ে দরকারি যে কথাটি মন্ত্রী বলেছেন, সেটি হলো— কোরবানির পশুর ট্রাকে চাঁদাবাজি বন্ধ করবে সরকার।
এ বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এর ফলে শুধু খামারি ও পশু ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয় না; এর প্রভাব পড়ে বাজারেও। ভোগান্তিতে পড়েন কোরবানিদাতা সাধারণ মানুষও। এবার চাঁদাবাজি কতটা বন্ধ করা যাবে, সে বিষয়ে মানুষের মনে যথেষ্ট সংশয় আছে। ক্ষমতাসীন দলের কিছু নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির বিশ্বাসযোগ্য অভিযোগ আছে আগে থেকেই। এ বিষয়ে সরকারপ্রধানের আন্তরিকতা নিয়ে কোনো সংশয়ের কারণ নেই। তিনি নিজে কুমিল্লায় চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেন— এমন খবর গতকালও দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশ পেয়েছে। জনগণ আশা করে, কোরবানির পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে প্রধানমন্ত্রীর মতোই আন্তরিকতা দেখাবে গোটা সরকার ও প্রশাসন।



