ধুমপান নিষিদ্ধে যুক্তরাজ্যে বিল পাস

আইনটি কার্যকর হওয়ার আগে রাজা তৃতীয় চার্লসের অনুমোদনের প্রয়োজন হবে, যা একটি আনুষ্ঠানিকতা মাত্র। এই আইনটি সরকারকে তামাক, ভ্যাপিং ও নিকোটিনজাত পণ্য নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা দেবে, যার মধ্যে ফ্লেভার ও প্যাকেজিংও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
লন্ডনের একটি রাস্তায় ধূমপানরত এক নারী
লন্ডনের একটি রাস্তায় ধূমপানরত এক নারী |ছবি : এপি

ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সিগারেট বা ধুমপানের আসক্তি থেকে দূরে রাখতে সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টে একটি বিল পাস হয়েছে। এ ঘটনায় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছে দেশটির সচেতন নাগরিকরা।

মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) হাউস অব লর্ডসে আইনটি চূড়ান্ত অনুমোদন পায়।

দীর্ঘদিন ধরে এই আইনের পক্ষে প্রচারণা চালানো সংস্থা অ্যাকশন অন স্মোকিং অ্যান্ড হেলথের প্রধান নির্বাহী হ্যাজেল চিজম্যান বলেন, ধূমপান নিশ্চিতভাবে মানুষের ভয়াবহ ক্ষতি করে। আইনটি হলে টোব্যাকো অ্যান্ড ভ্যাপস বিলের আওতায় ২০০৮ সালের ৩১ ডিসেম্বরের পর জন্ম নেয়া শিশুদের জন্য সারাজীবনের জন্য সিগারেট কেনা নিষিদ্ধ করা হবে।

আইনটি কার্যকর হওয়ার আগে রাজা তৃতীয় চার্লসের অনুমোদনের প্রয়োজন হবে, যা একটি আনুষ্ঠানিকতা মাত্র। এই আইনটি সরকারকে তামাক, ভ্যাপিং ও নিকোটিনজাত পণ্য নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা দেবে, যার মধ্যে ফ্লেভার ও প্যাকেজিংও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

যুক্তরাজ্যে বর্তমানে ১৮ বছরের কম বয়সীদের কাছে সিগারেট, তামাকজাত পণ্য বা ভ্যাপ বিক্রি করা অবৈধ। তবে নতুন নিয়মে প্রতি বছর সিগারেট কেনার ন্যূনতম বয়স বাড়তে থাকবে, ফলে আজকের অধিকাংশ তরুণ-তরুণী সারাজীবনই এই নিষেধাজ্ঞার মুখোমুখি হবে।

বিল পাসের মধ্যে দিয়ে যুক্তরাজ্য বিশ্বের সবচেয়ে কঠোর ধূমপানবিরোধী ব্যবস্থাগুলোর একটি গ্রহণ করল। এই আইনটি অনেকটা ২০২২ সালে নিউজিল্যান্ডের আইনপ্রণেতাদের পাস করা আইনের মতো, যদিও পরে নতুন সরকার সেটি বাতিল করে দিয়েছিল।

১৯৭০-এর দশক থেকে এখন পর্যন্ত ব্রিটেনে ধূমপায়ীর সংখ্যা দুই-তৃতীয়াংশ কমেছে। তবে সরকারি হিসাব অনুযায়ী, সেখানে এখনো প্রায় ৬৪ লাখ মানুষ ধুমপান করে। এটি যুক্তরাজ্যের মোট জনসংখ্যার প্রায় ১৩ শতাংশ।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ধূমপানের কারণে দেশটিতে প্রতি বছর প্রায় ৮০ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়। এটি মৃত্যু, অক্ষমতা ও স্বাস্থ্যহানির এক নম্বর কারণ যেটা প্রতিরোধযোগ্য।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং বলেছেন, ‘যুক্তরাজ্যের শিশুরা হবে প্রথম ধূমপানমুক্ত প্রজন্মের অংশ, যারা আজীবনের এই আসক্তি ও ক্ষতি থেকে সুরক্ষিত থাকবে।’ ইউএনবি