হামাসের ৭ অক্টোবরের হামলায় অংশ নেয়ার অভিযোগে ফিলিস্তিনি যোদ্ধাদের বিচারের জন্য নবগঠিত বিশেষ সামরিক ট্রাইব্যুনাল বাতিল করতে বুধবার (১৩ মে) ইসরাইলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসঙ্ঘের মানবাধিকারবিষয়ক প্রধান।
সোমবার গভীর রাতে ইসরাইলের পার্লামেন্ট এমন একটি আইন পাস করে, যার মাধ্যমে এই ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়। আদালতটি মৃত্যুদণ্ড দেয়ার ক্ষমতাও রাখবে।
বিশেষ এই আদালতে হামাস নেতৃত্বাধীন হামলার সময় বা পরে আটক ব্যক্তিদের বিচার করা হবে। একইসাথে গাজায় জিম্মিদের আটকে রাখা বা নির্যাতনের অভিযোগে অভিযুক্তদেরও এ আদালতে বিচার করা হবে।
ইসরাইলি গণমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৪০০ সন্দেহভাজনের এ আদালতে বিচার হতে পারে।
জেনেভা থেকে এএফপি জানায়, জাতিসঙ্ঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ফলকার তুর্ক এক বিবৃতিতে বলেন, ‘এই ভয়াবহ হামলাগুলোর পূর্ণ জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। কিন্তু আন্তর্জাতিক মানদণ্ড পূরণ করে না— এমন বিচারপ্রক্রিয়ার মাধ্যমে তা অর্জন করা সম্ভব নয়।’
তিনি বলেন, ‘এই আইন অবশ্যই বাতিল করতে হবে।’
তার ভাষায়, ‘এই আইন অনিবার্যভাবে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে একপেশে বিচার ও বৈষম্যকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেবে। এটি কারো স্বার্থে নয় এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনেরও পরিপন্থী।’
এএফপির সরকারি তথ্যভিত্তিক হিসাব অনুযায়ী, হামাসের ওই হামলায় ইসরাইলি পক্ষে এক হাজার ২২১ জন নিহত হন, যাদের বেশিভাগই ছিলেন বেসামরিক নাগরিক। এটি ইসরাইলের ইতিহাসে সবচেয়ে প্রাণঘাতী দিন হিসেবে বিবেচিত।
যোদ্ধারা ২৫১ জনকে জিম্মিও করে নিয়ে যায়, যাদের মধ্যে ৪৪ জন তখনই নিহত ছিলেন।
এর জবাবে ইসরাইলের সামরিক অভিযানে গাজা উপত্যকা ব্যাপকভাবে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে এবং হামাস-নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, ৭২ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। জাতিসঙ্ঘ এই পরিসংখ্যানকে নির্ভরযোগ্য বলে মনে করে। বাসস



