সঙ্ঘাতের শঙ্কার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আলোচনায় বসছে ইরান

খুব শিগগিরই কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে না পারলে ইরানে বোমা হামলা চালানোর হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আমেরিকা এই অঞ্চলে হাজার হাজার সেনা পাঠিয়েছে। এছাড়া ট্রাম্প যাকে ‘আর্মাডা’ বা নৌবহর হিসেবে বর্ণনা করেছেন, সেখানে একটি বিমানবাহী রণতরী, অন্যান্য যুদ্ধজাহাজ ও যুদ্ধবিমান রয়েছে।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধি
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধি |সংগৃহীত

দু’ দেশের মধ্যে সামরিক সঙ্ঘাতের শঙ্কার মধ্যেই আলোচনায় বসছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। ওমানের রাজধানী মাস্কাটে দু’ দেশের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারা আলোচনায় অংশ নেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

গত মাসে দেশব্যাপী সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে ইরান সরকারের নেয়া পদক্ষেপের ঘটনায় মার্কিন প্রতিক্রিয়ার পরই এই আলোচনা শুরু হচ্ছে। যদিও বৈঠকের স্থান ও এর পরিধি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় আলোচনা পণ্ড হওয়ার পরিস্থিতিও তৈরি হয়েছিল।

উত্তেজনা কমাতে আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীদের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেই দেখা হচ্ছে এই আলোচনাকে। উভয় দেশ এখনও বিপরীতমুখী অবস্থানে থাকলেও আশা করা হচ্ছে, যদি আলোচনা সফল হয় তাহলে একটি কাঠামো তৈরি হতে পারে।

যদিও ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি স্থগিত করা এবং সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ হ্রাস করার দাবি জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তারা বলেছে, আলোচনায় ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রতি দেশটির সমর্থন এবং নাগরিকদের প্রতি তাদের আচরণের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত করা উচিত।

তবে ইরান বলেছে, আলোচনা কেবল তার পারমাণবিক কর্মসূচির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে। এই মতপার্থক্যগুলো কতটা সমাধান হয়েছে তা স্পষ্ট নয়।

এদিকে খুব শিগগিরই কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে না পারলে ইরানে বোমা হামলা চালানোর হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আমেরিকা এই অঞ্চলে হাজার হাজার সেনা পাঠিয়েছে। এছাড়া ট্রাম্প যাকে ‘আর্মাডা’ বা নৌবহর হিসেবে বর্ণনা করেছেন, সেখানে একটি বিমানবাহী রণতরী, অন্যান্য যুদ্ধজাহাজ ও যুদ্ধবিমান রয়েছে।

অন্যদিকে আক্রমণের জবাবে শক্তি প্রয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ইরানও। মধ্যপ্রাচ্য ও ইসরাইলে অবস্থিত আমেরিকান সামরিক সম্পদে আঘাত করার হুমকি দিয়েছে তারা। ইরানের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি, যিনি গত সপ্তাহে বলেছিলেন, তার দেশের সশস্ত্র বাহিনী ‘তাদের আঙুলের ট্রিগারে’ রয়েছে।

শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) শুরু হতে যাওয়া আলোচনায় যোগ দিতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ইতোমধ্যে ওমানের রাজধানী মাস্কাটে পৌঁছেছেন বলে বিবিসি পার্সিয়ানের খবরে বলা হয়েছে।

অন্যদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্ব করবেন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার।

গত জুনে ইসরাইল ও ইরান যুদ্ধের শেষ দিকে ইরানের তিনটি প্রধান পারমাণবিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের বোমা হামলার পর এটিই হবে মার্কিন ও ইরানি কর্মকর্তাদের মধ্যে প্রথম বৈঠক।

সূত্র : বিবিসি