সৌদির হাত ধরে আমিরাতের ঋণমুক্ত হলো পাকিস্তান

সৌদি আরবের সহায়তায় আমিরাতের বড় অঙ্কের ঋণ পরিশোধ করে পাকিস্তান অর্থনৈতিক চাপ সামাল দিয়েছে। নতুন ঋণ ও কূটনৈতিক সম্পর্কের জোরে তারা আর্থিক স্থিতিশীলতা ধরে রাখছে।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
সংগৃহীত

দীর্ঘ সাত বছর পর সংযুক্ত আরব আমিরাতের ২০০ কোটি ডলারের ঋণ পরিশোধ করে পাকিস্তান তাদের অর্থনৈতিক দৃঢ়তার এক নতুন অধ্যায় সূচনা করেছে। পাকিস্তানের ইংরেজি দৈনিক এক্সপ্রেস ট্রিবিউন এ খবর জানিয়েছে।

গত এক সপ্তাহে ৩০ বছর আগের একটি পুরনো ঋণের ৪৫০ মিলিয়ন ডলারসহ আবুধাবিকে সব মিলিয়ে ২৫০ কোটি ডলার ফেরত দিয়েছে ইসলামাবাদ। এই বিশাল অঙ্কের অর্থ পরিশোধের নেপথ্যে রয়েছে ভ্রাতৃপ্রতিম রাষ্ট্র সৌদি আরবের অকুন্ঠ সমর্থন; মূলত রিয়াদের কাছ থেকে নেয়া নতুন ঋণের মাধ্যমেই এই পাওনা মেটানো সম্ভব হয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, আগামী বৃহস্পতিবার আমিরাতের অবশিষ্ট ১০০ কোটি ডলারও পরিশোধের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। আগামী সপ্তাহে সৌদি আরব থেকে নতুন ঋণ পাওয়ার পর এই অর্থও সমন্বয় করা হবে।

যদিও গত মাস পর্যন্ত পাকিস্তান আইএমএফকে নিশ্চিত করেছিল যে বন্ধু দেশগুলোর ঋণের মেয়াদ বাড়ানোর আশ্বাসে তাদের কোনো অর্থায়ন সঙ্কট নেই, তবে আরব আমিরাতের আকস্মিক পাওনা ফেরতের দাবিতে সৌদি আরব ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছে।

রিয়াদ কেবল নতুন ঋণই দেয়নি, বরং তাদের পুরনো ৫০০ কোটি ডলারের নগদ জমার মেয়াদ আরো দু’বছরের জন্য বাড়িয়ে পাকিস্তানকে স্বস্তি দিয়েছে।

বর্তমানে পাকিস্তানের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ১ হাজার ৫০০ কোটি ডলারের আশপাশে স্থিতিশীল রয়েছে। এক দেশের ঋণের অর্থে অন্য দেশের পাওনা মেটানোর এই কৌশলী পদক্ষেপে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তহবিলে কোনো সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে না।

আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, পাকিস্তানের এই কূটনৈতিক প্রক্রিয়া ও সঙ্কটে বড় শক্তিদের পাশে পাওয়া দেশটির বৈদেশিক নীতির এক বড় সাফল্য। আইএমএফের ৭০০ কোটি ডলারের কর্মসূচির শর্তাবলী বজায় রেখেই সৌদি আরবের এই তাৎক্ষণিক সহায়তা পাকিস্তানের অর্থনীতিকে নতুন জীবনীশক্তি দান করেছে।

লন্ডনভিত্তিক সাময়িকী দ্য ইকোনমিস্টের মতে, পাকিস্তানের অর্থনৈতিক সক্ষমতা কিছুটা নড়বড়ে হলেও তাদের কূটনৈতিক দক্ষতা অতুলনীয়। এই দক্ষতার জোরেই তারা বারবার বড় সঙ্কটে থেকে উদ্ধার পাচ্ছে। মূলত ভ্রাতৃপ্রতিম দেশগুলোর সাথে দীর্ঘদিনের গভীর আস্থার সম্পর্কই পাকিস্তানকে এই ঋণের চ্যালেঞ্জ কাটিয়ে উঠতে এক অনন্য শক্তি যুগিয়েছে, যা বৈশ্বিক অঙ্গনে দেশটির অবস্থানকে আরো সুসংহত করছে।