যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বৈঠক

ইসলামাবাদে রেড জোন সিল, ঘরবন্দী জনজীবনে নজিরবিহীন নিরাপত্তা

মার্কিন-ইরান সম্ভাব্য বৈঠক ঘিরে ইসলামাবাদে কঠোর নিরাপত্তা জোরদার করে রেড জোন সিল করা হয়েছে। এতে জনজীবনে বড় প্রভাব পড়েছে, বন্ধ রয়েছে পরিবহন ও অনেক কার্যক্রম।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
সংগৃহীত

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দ্বিতীয় দফার উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হবে কি না- নিশ্চিত হওয়া না গেলেও এই বৈঠককে কেন্দ্র করে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে আজ সোমবার থেকে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দফতর ও দূতাবাস সমৃদ্ধ এলাকা ‘রেড জোন’ পুরোপুরি সিল করে দেয়ায় সেখানকার সব স্কুল ও সরকারি-বেসরকারি অফিস অনলাইন বা বাড়ি থেকে চালানোর নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রোববার (১৯ এপ্রিল) ঘোষণা করেছেন, তার প্রতিনিধিরা আজ সোমবার ইসলামাবাদ পৌঁছাবেন।

ট্রাম্পের প্রতিনিধিদের এই সফর এবং দু’দেশের দ্বিতীয় দফার আলোচনা ঘিরে ইসলামাবাদ ও রাওয়ালপিন্ডিতে গণপরিবহন বন্ধ রাখাসহ নজিরবিহীন কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। পাকিস্তানের ইংরেজি দৈনিক এক্সপ্রেস ট্রিবিউন এই খবর জানিয়েছে।

রেড জোন বলতে মূলত একটি শহরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং স্পর্শকাতর এলাকাকে বোঝায়, যেখানে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকে। ইসলামাবাদের এই জোনে গুরুত্বপূর্ণ সব মন্ত্রণালয় ও বিদেশী দূতাবাসগুলো অবস্থিত। আজ থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত এই এলাকায় সাধারণের প্রবেশ পুরোপুরি বন্ধ থাকবে। এমনকি ইসলামাবাদ এক্সপ্রেসওয়ের বড় একটি অংশ এবং ক্লাব রোডও বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। জরুরি প্রয়োজনে যাতায়াতের জন্য বিকল্প রুট ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে প্রশাসন।

নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুরো এলাকায় প্রায় ১৮ হাজার পুলিশ ও আধা-সামরিক বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

ইসলামাবাদ ও রাওয়ালপিন্ডির প্রবেশপথগুলোতে বসানো হয়েছে শত শত তল্লাশি চৌকি। হোটেল, গেস্ট হাউস ও হোস্টেলগুলো আপাতত বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এমনকি ডিউটি চলাকালীন পুলিশ সদস্যদের মোবাইল ফোন ব্যবহারেও নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে।

মূলত দু’দেশের এই স্পর্শকাতর আলোচনা যাতে নির্বিঘ্নে সফল হয়, সেজন্যই শহরজুড়ে এই বাড়তি সতর্কতা।

এর আগে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দু’দেশ ১৪ দিনের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছিল। আগের দফার আলোচনা খুব একটা সফল না হলেও যুদ্ধবিরতি এখনো টিকে আছে। এবারের বৈঠকের মূল লক্ষ্য হলো একটি স্থায়ী শান্তি চুক্তির দিকে এগিয়ে যাওয়া।

গৃহিত এই কড়াকড়ির কারণে সাধারণ মানুষের জনজীবনে বেশ প্রভাব পড়েছে। মেট্রো বাস সার্ভিস বন্ধ থাকায় এবং দূরপাল্লার যাতায়াতে সমস্যা হওয়ায় রেল স্টেশনগুলোতে উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। এমনকি করাচি থেকে আসা ট্রেনের সূচিতেও বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটেছে।