দিল্লি সহিংসতায় ভুয়া সাক্ষী জোগাড় করেও হলো না লাভ, ৯ মুসলিম বেকসুর খালাস

আদালত পর্যবেক্ষণ করে যে, এই অভিযোগগুলোর সপক্ষে উপস্থাপিত প্রমাণগুলো ধোপে টেকেনি। আদালতের বক্তব্য, সাক্ষীদের জবানবন্দিগুলো একেবারে সাধারণ ও মামুলি। সুনির্দিষ্ট তথ্যের অভাব রয়েছে। বিশেষ করে এই বিষয়টি বিবেচনায় রেখে যে, ঘটনার স্থান সম্পর্কে সাক্ষীরা মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়েছেন।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
২০২০ সালের উত্তর-পূর্ব দিল্লিতে সংঘটিত একটি সহিংসতায় মুসলমানদের অভিযুক্ত করা হলেও তা মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে
২০২০ সালের উত্তর-পূর্ব দিল্লিতে সংঘটিত একটি সহিংসতায় মুসলমানদের অভিযুক্ত করা হলেও তা মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে |সংগৃহীত

২০২০ সালের উত্তর-পূর্ব দিল্লির সহিংসতা সংশ্লিষ্ট একটি মামলায় ৯ ব্যক্তিকে বেকসুর খালাস করার নির্দেশ দিয়েছে দিল্লির একটি আদালত। এক্ষেত্রে আদালত সাক্ষীদের বয়ানের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছে।

শুক্রবার (৩ এপ্রিল) ভারতীয় একটি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, পুলিশ আসলে নির্দোষ ব্যক্তিদের দোষী সাব্যস্ত করতে চেয়েছিল। আর সেই কারণেই ভুয়া সাক্ষী জোগাড় করা হয়েছিলো।

এক আদেশে অতিরিক্ত দায়রা জজ প্রবীণ সিং বলেন, শাহ আলম, রশিদ সাইফি, মোহাম্মদ শাদাব, হাবিব, ইরফান, সুহাইল, সেলিম ওরফে আশু, ইরশাদ এবং আজহার ওরফে সোনুর বিরুদ্ধে মামলাটি যুক্তিসঙ্গতভাবে সন্দেহের ঊর্ধ্বে গিয়ে প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়েছে দিল্লি পুলিশ ও প্রশাসন এবং রাষ্ট্রপক্ষ।

মামলাটি দয়ালপুর থানায় দায়ের করা হয়েছিল এবং এটি চাঁদবাগে সংঘটিত ঘটনার সাথে সম্পর্কিত ছিল। অভিযোগগুলোর মধ্যে ছিল একটি ‘ইনোভা ক্রিস্টা’ গাড়ি ভাঙচুর, একটি মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ, রাস্তার হকারদের ঠেলাগাড়ি লুট এবং ‘রয়‍্যাল মোটরস’ নামের একটি দোকানে আগুন লাগানো।

আদালত পর্যবেক্ষণ করে যে, এই অভিযোগগুলোর সপক্ষে উপস্থাপিত প্রমাণগুলো ধোপে টেকেনি। আদালতের বক্তব্য, সাক্ষীদের জবানবন্দিগুলো একেবারে সাধারণ ও মামুলি। সুনির্দিষ্ট তথ্যের অভাব রয়েছে। বিশেষ করে এই বিষয়টি বিবেচনায় রেখে যে, ঘটনার স্থান সম্পর্কে সাক্ষীরা মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়েছেন। তাই অভিযুক্তদের দোষী সাব্যস্ত করার জন্য এই সাক্ষীদের জবানবন্দির ওপর নির্ভর করা নিরাপদ হবে না।