চলতি বছরের মার্চ–এপ্রিল মাসে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন-২০২৬ অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে সব দলই মোটামুটি প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে এবার আলোচনার কেন্দ্রে আসাদউদ্দিন ওয়াইসির নেতৃত্বাধীন দল সর্বভারতীয় মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমীন (মিম) ও হুমায়ুন কবিরের আমজনতা উন্নয়ন পার্টি।
শুক্রবার (৩ এপ্রিল) ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানায়, এরই মধ্যে রাজ্যে এই দুই দল জোটগতভাবে নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছে। শুধু তাই নয়; গত বুধবার (১ এপ্রিল) বহরমপুরে এসে হুমায়ুন কবিরের সাথে বিরাট একটি সভা করেছেন ওয়াইসি। সভায় আসন্ন নির্বাচনে পশ্চিববঙ্গে হুমায়ুনের দলের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করার বার্তা দিয়েছেন তিনি।
মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় অযোধ্যার বাবরি মসজিদের আদলে একটি নতুন মসজিদ নির্মাণের উদ্যোগ নিয়ে প্রশংসিত হুমায়ুন কবির তৃণমূল কংগ্রেসের রাজনীতি করতেন। দলটির বিধায়কও ছিলেন তিনি, কিন্তু বাবরি মসজিদ ইস্যুতে তৃণমূল তাকে সাসপেন্ড করে। পরে তিনি নিজেই ‘আমজনতা উন্নয়ন পার্টি’ প্রতিষ্ঠা করেন। তার এই দলের সাথেই ওয়াইসির দল জোটবদ্ধ নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছে।
শুধু তাই নয়; পশ্চিমবঙ্গে বিগত যেকোনো সময়ের চেয়ে এবারের নির্বাচনে বেশি প্রভাব বিস্তারের ইঙ্গিত দিচ্ছেন ওয়াইসি। এ লক্ষ্যে এরই মধ্যে তার দল রাজ্যে ১২ জন প্রার্থীর প্রাথমিক তালিকা ঘোষণা করেছে। মালদা, মুর্শিদাবাদ এবং উত্তর ২৪ পরগনার মতো গুরুত্বপূর্ণ জেলাগুলোর একাধিক আসনে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেছে দলটি।
তবে স্থানীয় রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন- বিশেষ করে সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে মিমের এই অংশগ্রহণ অন্যান্য বড় দলগুলোর ভোটব্যাংকে প্রভাব ফেলতে পারে। তাদের মতে- ‘হুমায়ুন-ওয়াইসি সমঝোতা’ সবচেয়ে বড় উদ্বেগের কারণ হতে পারে তৃণমূল কংগ্রেসের জন্য। সেক্ষেত্রে সংখ্যালঘু ভোটগুলো তৃণমূল ও নতুন এই জোটের মধ্যে ভাগ হলে আখেরে সুবিধা পেতে পারে কট্টর হিন্দুত্ববাদী দল বিজেপি।
এর আগে অবশ্য বিহার নির্বাচনে মিম ৫টি আসন জিতে চমক দেখিয়েছিল। পশ্চিববঙ্গে অবশ্য তেমনটা হওয়া কঠিন বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় ২৯৪টি আসনে নির্বাচন হয়। সর্বশেষ ২০২১ সালের নির্বাচনে ২৯২ আসনের মধ্যে ২১৩ আসন জিতে রাজ্য সরকার গঠন করে সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস। মুখ্যমন্ত্রী হন দলটির প্রতিষ্ঠাতা সভানেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।



