আপত্তিকর মন্তব্যের প্রতিবাদ করায় ভারতে ২ মুসলিম যুবককে মারধর

পুলিশ কর্মকর্তা বলেছেন যে, ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং সংশ্লিষ্ট আইনি ধারাগুলো প্রয়োগ করা হচ্ছে।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
উত্তরপ্রদেশের মানচিত্র
উত্তরপ্রদেশের মানচিত্র |সংগৃহীত

ভারতের উত্তরপ্রদেশের আলিগড়ে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে করা অপমানজনক মন্তব্যের প্রতিবাদ করায় দুই মুসলিম যুবককে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ উঠেছে।

রোববার (৩ মে) দেশটির একটি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, মনীশ নামের এক ব্যক্তির নেতৃত্বে একদল উন্মত্ত জনতা দুই যুবককে মারধর করে।

দভুক্তভোগীদের পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, মুসলমানদের বিরুদ্ধে অপমানজনক মন্তব্যের প্রতিবাদ করায় তাদের ওপর হামলা করা হয়েছে। তবে আলিগড় পুলিশ জানিয়েছে, এলাকায় দোকানের ভাড়া নিয়ে দুটি গোষ্ঠীর মধ্যে ব্যক্তিগত বিরোধের জেরেই এই ঘটনার সূত্রপাত।

আক্রান্তরা হলেন- দোকানদার মুহাম্মদ আজম এবং দোকানের সহকারী মোহাম্মদ ওয়াজাহাত। দুজনেই গুরুতর আহত হয়েছেন। আজমের ছোট ভাই মুহাম্মদ জিশান পুলিশের বক্তব্যের বিপরীতে বিস্তারিত বিবরণ দিয়েছেন।

জিশান বলেন, ‘ওয়াজাহাত যখন একজনের সাথে কথা বলছিলেন, তখন মনীশ নামের এক ব্যক্তি এসে মুসলমানদের গালিগালাজ করতে শুরু করে। ওয়াজাহাত এর প্রতিবাদ করলে তারা তাকেও গালিগালাজ করতে শুরু করে।’

জিশান আরো বলেন, ‘ওয়াজাহাত যখন তাদের গালিগালাজের জবাব দেয়, তখন তারা তাকে মারতে শুরু করে। আমার ছোট ভাই এসে জিজ্ঞেস করল, কেন তাকে পেটানো হচ্ছে। এরপর ৮-১০ জন লোক তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। তারপর তারা আজমকে নির্মমভাবে মারধর করে।’

তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, অভিযুক্তদের সাথে আগে থেকে কোনো বিরোধ ছিল না। অভিযুক্তরা আমাদের কাপড়ের দোকানের পাশের রাস্তায় থাকে। তারা তাদের ওপর পাথর ছুঁড়েছে, ঝাঁপিয়ে পড়েছে এবং ঘুষি মেরেছে। আজমের ঠোঁট, ঘাড় ও মাথায় আঘাত লেগেছে এবং তার অবস্থা গুরুতর।

জিশান বলেন, আমার ছোট ভাই আমাকে বলেছে যে তাদের সাথে কোনো সমস্যা ছিল না। তারা ওয়াজাহাতকে মারধর করে। আজম যখন তাকে বাঁচাতে যায়, তখন তাকেও মারধর করা হয়। তারা অশ্লীল মন্তব্য করছিল।

পুলিশ কর্মকর্তা বলেছেন যে, ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং সংশ্লিষ্ট আইনি ধারাগুলো প্রয়োগ করা হচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, এই ঘটনায় জড়িত সকল ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।