২ বছরের মধ্যে পাকিস্তানে সর্বোচ্চ মূল্যস্ফীতি

বিশ্ববাজারের ব্যাপক অস্থিরতা এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল কর্তৃক ইরানের ওপর হামলার নেতিবাচক প্রভাবে পাকিস্তানে মূল্যস্ফীতি ১০ দশমিক ৯ শতাংশে পৌঁছেছে।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
সংগৃহীত

বিশ্ববাজারের ব্যাপক অস্থিরতা এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল কর্তৃক ইরানের ওপর হামলার নেতিবাচক প্রভাবে পাকিস্তানে মূল্যস্ফীতি ১০ দশমিক ৯ শতাংশে পৌঁছেছে, যা গত দুই বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।

শুক্রবার (১ মে) পাকিস্তান ব্যুরো অব স্ট্যাটিস্টিক্স এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া মার্কিন ও ইসরাইলি সামরিক তৎপরতার কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম প্রায় ৫৫ শতাংশ বেড়ে গেছে, যার সরাসরি ধাক্কা সামলাতে হচ্ছে পাকিস্তানের সাধারণ মানুষকে। আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিলের (আইএমএফ) কঠিন শর্ত এবং বিশ্ববাজারের এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির মাঝেও পাকিস্তান সরকার দেশের অর্থনীতি স্থিতিশীল রাখার চেষ্টা করছে।

তবে জ্বালানি ও খাদ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় গত ২০২৪ সালের জুলাইয়ের পর এই প্রথম দেশের মূল্যস্ফীতি দুই অঙ্কের ঘর স্পর্শ করল।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বাড়ার সাথে সাথে অভ্যন্তরীণ বাজারেও তার প্রভাব পড়েছে। ডিজেলের দাম গত বছরের তুলনায় ৯৩ শতাংশ বাড়ায় বর্তমানে প্রতি লিটারের দাম ৪০০ রুপিতে দাঁড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক চাপের মুখে সরকার পেট্রোলিয়াম লেভি সমন্বয় করতে বাধ্য হলেও জনগণের কষ্ট লাঘবে পেট্রোলে কর কিছুটা কমানো হয়েছে। তবুও মার্কিন-ইসরাইলি যুদ্ধের ফলে তৈরি হওয়া বৈশ্বিক সঙ্কটে বিদ্যুৎ ও পরিবহনের খরচ নিয়ন্ত্রণে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদের হার বাড়িয়ে বাজার নিয়ন্ত্রণের আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছে, যদিও সরকারের ওপর আইএমএফের কর বৃদ্ধির চাপ পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তুলেছে।

খাদ্যপণ্যের বাজারে অস্থিরতার মূল কারণ হিসেবে দেখা দিচ্ছে পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি। টমেটো, পেঁয়াজ ও গমের দাম অবিশ্বাস্য গতিতে বাড়ায় শহরের পাশাপাশি গ্রামের মানুষও সঙ্কটে পড়েছেন। বিশেষ করে আটার দাম ৩০ শতাংশের বেশি বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের সরকার দরিদ্রদের সহায়তায় বেনজির ইনকাম সাপোর্ট প্রোগ্রামের আওতা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এই কর্মসূচির আওতায় পাকিস্তানে প্রায় এক কোটি ২০ লাখ মানুষ উপকৃত হবেন। প্রতিকূল বৈশ্বিক পরিস্থিতির মধ্যেও জনগণের পাশে থাকতে এবং আইএমএফের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে সরকার কাজ করছে।

সূত্র: দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন