ভারতে মুসলিম সন্দেহে হিন্দুকে মারধর, ‘ও ভগবান’ শুনে ভুল বুঝে পালালো দুর্বৃত্তরা

‘আমার দাড়ি আছে বলে তারা আমাকে মুসলিম বলে সন্দেহ করেছিল। তারা আমাকে চেনে না, আমিও তাদের চিনি না। আমি গুরগাঁওয়ের বেদান্ত হাসপাতালে একজন রেডিওলজিস্ট। আমি এই এলাকায় থাকি না।’

নয়া দিগন্ত অনলাইন
মারধরের শিকার লালমান মৌর্য
মারধরের শিকার লালমান মৌর্য |সংগৃহীত

ভারতের উত্তরপ্রদেশে মুসলিম সন্দেহে এক হিন্দু ব্যক্তিকে মারধর এবং তার পিঠে ছুরিকাঘাত করার অভিযোগ উঠেছে।

শুক্রবার (১৫ মে) দেশটির একটি সংবাদমাধ্যম জানায়, রাজ্যের সিদ্ধার্থনগর জেলার ভবানীগঞ্জ থানার একটি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

মারধরের শিকার ওই ব্যক্তির নাম লালমান মৌর্য। তিনি রাজ্যটির বলরামপুর জেলার মুহাম্মদপুর গ্রামের বাসিন্দা।

সাংবাদিকদের কাছে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে মৌর্য বলেন, মেয়ের বাড়ি থেকে ফেরার পথে ছুরিকাঘাত ও মারধরের শিকার হওয়ার পর তাকে গালিগালাজ করা হয় ও তার কাছ থেকে টাকাপয়সা কেড়ে নেয়া হয়।

লালমান মৌর্য বলেন, ‘আমি আমার মেয়ের কাছে গিয়েছিলাম এবং ফেরার পথে ধানকরপুর চৌরাহায় একদল যুবক আমার গাড়ি থামিয়ে দেয়। তারা আমাকে গালিগালাজ করতে শুরু করে। আমি যখন জিজ্ঞেস করি কেন তারা আমাকে গালি দিচ্ছে, তখন তারা আমার গলা চেপে ধরে মারধর করে।’

তিনি আরো বলেন, ‘এরপর আরো দুজন এসে আমার হাত পেছন দিকে ধরে আমাকে ছুরিকাঘাত করে। তাদের সন্দেহ ছিল যে আমি একজন মুসলমান এবং তাই আমাকে আক্রমণ করা উচিত।’

এরপর তিনি ‘ভগবান’র নাম ধরে চিৎকার করলে হামলাকারীরা তাকে হিন্দু বলে ছেড়ে দেয় এবং যে তাকে ছুরিকাঘাত করেছিল, সে সেখান থেকে পালিয়ে যায়।

লালমান মৌর্যের অভিযোগ, দুর্বৃত্তরা তার কাছ থেকে ২ লাখ টাকা লুট করে নিয়ে গেছে।

তিনি আরো বলেন, ‘আমার দাড়ি আছে বলে তারা আমাকে মুসলিম বলে সন্দেহ করেছিল। তারা আমাকে চেনে না, আমিও তাদের চিনি না। আমি গুরগাঁওয়ের বেদান্ত হাসপাতালে একজন রেডিওলজিস্ট। আমি এই এলাকায় থাকি না।’