আফগানিস্তানকে সরাসরি ‘খোলাখুলি যুদ্ধের’ হুঁশিয়ারি দিলেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী খাজা আসিফ।
বুধবার দেশটির জাতীয় পরিষদে দাঁড়িয়ে তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, কাবুল যদি সন্ত্রাসীদের আশ্রয় দেয়া বন্ধ না করে,তবে গত বছর ভারতের সাথে পাকিস্তান যা করেছিল, এবার আফগানিস্তানের সাথেও তা-ই করা হবে।
খাজা আসিফের দাবি,আফগানিস্তান এখন পুরোপুরি ভারতের পুতুল হিসেবে কাজ করছে এবং দিল্লির হয়ে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ছায়াযুদ্ধ চালাচ্ছে। পাকিস্তানের ইংরেজি দৈনিক এক্সপ্রেস ট্রিবিউন আজ আরো বলেছে,বর্তমানে দিল্লি আর কাবুলের মধ্যে কোনো পার্থক্য দেখছে না পাকিস্তান। আফগান সরকার আসলে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে হিন্দুত্ববাদের লড়াইয়ে নেমেছে।
পাকিস্তানের পক্ষ থেকে বারবার কূটনৈতিক আলোচনার চেষ্টা করা হলেও কাবুল তাতে সায় দিচ্ছে না বলে জানান প্রতিরক্ষা মন্ত্রী। তিনি বলেন,তুরস্ক,সৌদি আরব এবং কাতারের মতো দেশগুলোকে সাথে নিয়ে আলোচনার চেষ্টা করা হলেও আফগানিস্তান লিখিত কোনো প্রতিশ্রুতি দিতে রাজি হয়নি। তারা মুখে অনেক কথা বললেও নিজেদের মাটি ব্যবহার করে পাকিস্তানের ওপর হামলা ঠেকানোর গ্যারান্টি দিচ্ছে না।
খাজা আসিফ সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, কাবুল যদি সন্ত্রাসীদের তাড়িয়ে দিতে এবং শান্তি বজায় রাখতে লিখিত চুক্তি না করে, তবে পাকিস্তান কঠোর সামরিক ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হবে। আফগানিস্তানের এই অনমনীয় মনোভাব দেশ দুটিকে যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
এদিকে গত ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া 'অপারেশন গজব লিল হক'নিয়ে মুখ খুলেছেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী। তিনি জানান,আফগান সীমান্ত থেকে উসকানিমূলক হামলার জবাব দিচ্ছে পাকিস্তান সেনাবাহিনী। সম্প্রতি বান্নু এলাকায় বড় ধরনের হামলার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, পাকিস্তান সেনাবাহিনী দেশের জন্য প্রাণ দিচ্ছে, কিন্তু ভারতের পরাজয়ের পর এখন আফগানিস্তানকে প্রক্সি হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে এরই মধ্যে পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। খাইবার পাখতুনখোয়া সরকার আগে অসহযোগিতা করলেও এখন সন্ত্রাসবাদ দমনে কেন্দ্রীয় সরকারের সাথে একমত হয়েছে। খাজা আসিফ সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন,সব কূটনৈতিক পথ বন্ধ হয়ে গেলে শেষ পর্যন্ত এটি একটি সম্মুখ যুদ্ধে রূপ নেবে।
সূত্র: দৈনিক এক্সপ্রেস ট্রিবিউন



