পাক-আফগান সম্পর্কের বরফ গলাতে এগিয়ে এলো ইরান

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যকার বিরোধ কমাতে একটি গঠনমূলক ভূমিকা পালন করতে প্রস্তুত তেহরান।

নয়া দিগন্ত অনলাইন

পাক-আফগান সীমান্তের বারুদমাখা উত্তেজনা প্রশমনে এবার বড় ভূমিকা নিতে চায় প্রতিবেশী দেশ ইরান। দুই প্রতিবেশীর মধ্যে দা-কুমড়ো সম্পর্ক যখন তুঙ্গে, ঠিক তখনই সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে তেহরান।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যকার বিরোধ কমাতে একটি গঠনমূলক ভূমিকা পালন করতে প্রস্তুত তেহরান। তাসনিম নিউজ এজেন্সির বরাত দিয়ে পাকিস্তানের ইংরেজি দৈনিক দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন এই খবরটি সামনে এনেছে।

আফগানদের সাথে বৈঠকে আরাগচি জোর দিয়ে বলেন যে, এই অঞ্চলের স্থিতিশীলতা মূলত প্রতিবেশী দেশগুলোর শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের ওপরই নির্ভর করছে। তার মতে, কূটনৈতিক আলোচনা আর আঞ্চলিক সহযোগিতাই হলো শান্তির একমাত্র পথ।

বর্তমান পরিস্থিতির দিকে তাকালে দেখা যায়, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে সম্পর্ক এখন তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। একের পর এক জঙ্গি হামলা আর তার পাল্টা জবাবে দুই দেশের সীমান্তে এখন যুদ্ধের দামামা। পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে যখন সীমান্ত ছাপিয়ে বিমান হামলা ও গোলাগুলি শুরু হয়েছে। পাকিস্তান এরই মধ্যে টিটিপির মতো জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোকে নির্মূল করতে 'অপারেশন গাজাব লিল হক' শুরু করেছে।

পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনীর দাবি, সীমান্ত এলাকায় জঙ্গিদের অবকাঠামো ধ্বংস না হওয়া পর্যন্ত তাদের এই সুনির্দিষ্ট ও লক্ষ্যভেদী অভিযান চলবে। একদিকে কূটনৈতিক আলোচনার টেবিলে বসা, অন্যদিকে রণক্ষেত্রে গুলি ছোড়া—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি এখন বেশ থমথমে।

তবে ইরান একা নয়, আগে থেকেই চীন এই জট খুলতে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। উরুমকিতে পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও চীনের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় একটি প্রাথমিক আলোচনাও হয়েছে।

পাকিস্তান অবশ্য স্রেফ মৌখিক আশ্বাসে আর বিশ্বাস রাখতে পারছে না; তারা চায় আফগান মাটি ব্যবহার করে চালানো সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান এবং যাচাইযোগ্য ব্যবস্থা।

অন্যদিকে চীন চাইছে উচ্চপর্যায়ের আলোচনার মাধ্যমে একটা টেকসই সমাধান আসুক। তবে তেহরান মনে করছে, এই দুই দেশের স্থিতিশীলতা পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তার জন্য বড় বেশি জরুরি।