ভারতের তামিলনাড়ুতে সরকার গঠন করেছে থালাপতি বিজয়ের দল তামিলাগা ভেটরি কাজাগম (টিভিকে)। দলটিতে তিনজন মুসলিম বিধায়ক থাকা সত্ত্বেও রাজ্য মন্ত্রিসভায় তাদের কাউকেই স্থান দেয়া হয়নি।
শুক্রবার (১৫ মে) দেশটির একটি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, এর জেরে সমালোচিত হচ্ছেন বিজয় ও তার দল। তামিলনাড়ুর মণিতানেয়া মাক্কাল কাচ্চির (এমএমকে) বিধায়ক ও প্রবীণ রাজনীতিবিদ এম এইচ জাওয়াহিরুল্লাহও এ ব্যাপারে সরব হয়েছেন।
রাজ্যের মন্ত্রিসভায় মুসলিম প্রতিনিধিত্বের অভাবকে ‘দুর্ভাগ্যজনক’ বলে বর্ণনা করেছেন তিনি এবং এর তুলনা করেছেন বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকারগুলোর সাথে। যেখানে তার অভিযোগ, মুসলিমদের প্রায়ই মন্ত্রীর পদ থেকে বাদ দেয়া হয়।
বিজয়ের নেতৃত্বাধীন নবগঠিত টিভিকে সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেছেন, তিনজন মুসলিম বিধায়ক থাকা সত্ত্বেও মন্ত্রিসভায় কোনো মুসলিম মন্ত্রীকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। অথচ, তামিলনাড়ুর বৃহত্তম সংখ্যালঘু সম্প্রদায় হওয়ায় মন্ত্রিসভায় মুসলমানদের প্রতিনিধিত্ব প্রাপ্য ছিল।
রাজ্যের রাজনৈতিক ইতিহাসের দিকে ইঙ্গিত করে এম এইচ জাওয়াহিরুল্লাহ বলেন, কে কামরাজ, এম করুণানিধি, এম জি রামচন্দ্রন এবং এম কে স্ট্যালিনের মতো নেতাদের নেতৃত্বাধীন পূর্ববর্তী সরকারগুলোতেও মুসলিম মন্ত্রীরা ছিলেন।
১৪৪ জন বিধায়কের সমর্থনে তামিলনাড়ু সরকার আস্থা ভোটে জয়ী হওয়ার পর সাংবাদিকদের দেয়া এক সাক্ষাৎকারে জাওয়াহিরুল্লাহ এসব কথা বলেন।
উল্লেখ্য, টিভিকে নেতৃত্বাধীন দলে আই তাহিরা, মুহাম্মদ ফারভাস জে এবং মাধর বধূরুদ্দিনের মতো মুসলিম বিধায়করা থাকলেও, মন্ত্রিসভার প্রথম দফার নিয়োগে তাদের কাউকেই অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
শুধু তাই নয়; টিভিকের তিনজন মুসলিম বিধায়ক ছাড়াও মন্ত্রিসভায় যোগ দেয়ার কথা বলা টিভিকের মিত্র কংগ্রেসেরও একজন মুসলিম বিধায়ক রয়েছেন। তিনি হলেন- মায়িলাদুথুরাইয়ের জামাল মোহাম্মদ ইউনুস (ওয়াইএন)।
আরেক মিত্র দল- আইইউএমএল, যারা মন্ত্রী পদের দাবি না জানিয়ে সরকারকে নিঃশর্ত সমর্থন দিয়েছে, তাদেরও বিধানসভায় দুজন মুসলিম বিধায়ক রয়েছেন; ভানিয়ামবাড়ির সৈয়দ ফারুক বাশা (এসএসবি) এবং পাপানাসামের এএম শাহজাহান।



