ইসলামাবাদ এখন তেহরানের পক্ষ থেকে একটি সংশোধিত প্রস্তাবের অপেক্ষায় প্রহর গুনছে। ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান অচলাবস্থা কাটাতে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দেয়া প্রাথমিক প্রস্তাবগুলো ব্যর্থ হয়েছে। তবে যুদ্ধের ইতি টেনে বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি সরবরাহ সচল করতে ইসলামাবাদ এখন তেহরানের পক্ষ থেকে একটি সংশোধিত প্রস্তাবের অপেক্ষায় প্রহর গুনছে।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ বুধবার প্রথমবারের মতো মন্ত্রিসভার সদস্যদের নিয়েছেন যে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ইসলামাবাদ, ওমান ও রাশিয়া সফর শেষ করে তাকে ফোন করেছিলেন। আরাগচি নিশ্চিত করেছেন যে, তেহরানের শীর্ষ নেতৃত্বের সাথে পরামর্শ করে খুব দ্রুতই তারা একটি বিস্তারিত জবাব পাঠাবেন।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে হাতে বন্দুক ও চোখে সানগ্লাস পরা একটি উসকানিমূলক ছবি পোস্ট করে সরাসরি হুমকি দিয়েছেন। ছবির ক্যাপশনে তিনি লিখেছেন, ‘নো মোর মিস্টার নাইস গাই’ অর্থাৎ তিনি আর ভালো মানুষ হয়ে থাকবেন না। ট্রাম্পের এমন যুদ্ধংদেহী মনোভাব সত্ত্বেও পর্দার আড়ালে বড় ধরনের বিপর্যয় এড়ানোর কূটনৈতিক চেষ্টা এখনো সচল আছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের এক বিতর্কে পাকিস্তান স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, মধ্যপ্রাচ্যে চরম অস্থিরতার মূল কারণ হলো ফিলিস্তিন সঙ্কটের সমাধান না হওয়া এবং আরব ভূমিতে ইসরাইলের অব্যাহত অবৈধ দখলদারি। জাতিসংঘে পাকিস্তানের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত আসিম ইফতিখার আহমেদ বলেছেন, ইসরাইলের এই দখলদারিত্বের অবসান এবং স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনই কেবল দীর্ঘমেয়াদী শান্তি নিশ্চিত করতে পারে।
তিনি আরো উল্লেখ করেন যে, নামমাত্র যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরও ইসরাইলি হামলায় আট শতাধিক ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি শান্ত করতে এবং গাজায় মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করতে পাকিস্তান এখন তেহরানের পক্ষ থেকে আসা চূড়ান্ত উত্তরের অপেক্ষায় রয়েছে, যা পরবর্তী কূটনৈতিক পদক্ষেপ নির্ধারণ করবে।
সূত্র: দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন



