কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে নিজেদের জলসীমার নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বড় ধরনের সফল অভিযান চালিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। আন্তর্জাতিক নৌ-চলাচলের নিয়ম লঙ্ঘন ও জিপিএস জালিয়াতি করে লুকিয়ে পার হওয়ার সময় আইআরজিসির চৌকস দল দুটি জাহাজকে আটক করে নিজেদের উপকূলে নিয়ে এসেছে। এই অভিযানে মোট তিনটি জাহাজ ইরানি বাহিনীর তোপের মুখে পড়ে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আইআরজিসির গানবোট থেকে গুলিবর্ষণও করা হয়। ইরানের সংবাদ মাধ্যম তাসনিম নিউজ এজেন্সি, বিবিসি এবং এএফপির বরাত দিয়ে এই অভিযানের খবর পাওয়া গেছে।
জালিয়াতি রুখে দিয়ে এমএসসি ফ্রানচেস্কা ও এপামিনোন্দাস আটক
তাসনিম নিউজ এজেন্সির খবর অনুযায়ী, বুধবার ভোরে হরমুজ প্রণালীতে কড়া নজরদারি চালানোর সময় 'এমএসসি ফ্রানচেস্কা' এবং 'এপামিনোন্দাস' নামের দুটি জাহাজকে শনাক্ত করে আইআরজিসি নৌবাহিনী। এর মধ্যে এমএসসি ফ্রানচেস্কা জাহাজটির সাথে ইসরাইলি যোগসূত্র রয়েছে বলে ইরান দাবি করেছে। জাহাজ দুটি তাদের নেভিগেশন সিস্টেম বা জিপিএস তথ্য জালিয়াতি করে অত্যন্ত গোপনে এবং কোনো বৈধ অনুমতি ছাড়াই এই কৌশলগত পানিপথ পাড়ি দেওয়ার চেষ্টা করছিল। যা সামুদ্রিক নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হিসেবে দেখা দিয়েছে। আইআরজিসির যোদ্ধারা তাদের বিশেষ দক্ষতা কাজে লাগিয়ে জাহাজ দুটিকে সফলভাবে আটক করে এবং বর্তমানে সেগুলো ইরানের আঞ্চলিক জলসীমায় নথিপত্র পরীক্ষার জন্য আটকে রাখা হয়েছে।
পালাতে গিয়ে আইআরজিসির গুলির মুখে তৃতীয় জাহাজ
এএফপি ও বিবিসি জানিয়েছে, একই সময়ে ওমান উপকূলের কাছে আরেকটি কন্টেইনার জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটেছে। আইআরজিসির একটি গানবোট থেকে জাহাজটি লক্ষ্য করে সরাসরি গুলি ছোড়া হয়, যাতে জাহাজটির ওপরের অংশ বা চালনা কক্ষের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) জানিয়েছে, জাহাজটি লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী এবং গ্রিক মালিকানাধীন। তাসনিম নিউজ অ্যাজেন্সি দাবি, জাহাজটি ইরানি সশস্ত্র বাহিনীর বারবার দেওয়া সতর্কতা কানে তোলেনি এবং পালানোর চেষ্টা করছিল। জানমাল ও পানিসীমার নিরাপত্তা রক্ষায় ইরান কড়া পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছে এবং জাহাজটির গতি রোধ করেছে। ফলে সব মিলিয়ে তিনটি জাহাজ এখন আইআরজিসির অভিযানের কবজায়।
নিরাপত্তার প্রশ্নে আপসহীন ইরান
আইআরজিসি নৌ কমান্ড স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে, হরমুজ প্রণালীর মতো গুরুত্বপূর্ণ পথে ট্রাফিক আইন নিয়ে কোনো নয়ছয় বা জালিয়াতি বরদাশত করা হবে না। নিরাপদ চলাচলের জন্য ইরান যে নিয়ম ঘোষণা করেছে, তা অমান্য করলে বা নিয়ম ভেঙে তথ্য গোপন করলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর আইনি ও সামরিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমেরিকা ও ইসরাইলের সাথে উত্তেজনার মাঝে এই অভিযানকে ইরানের গোয়েন্দা ও সামরিক সক্ষমতার বড় জয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে ইসরাইল সংশ্লিষ্ট জাহাজের ছদ্মবেশ ধরে ফেলাকে ইরানের পক্ষ থেকে তাদের জনগণের অধিকার রক্ষার একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে প্রচার করা হচ্ছে। ইরান মনে করে, এই জলপথে শৃঙ্খলা বজায় রাখা তাদের জাতীয় নিরাপত্তার অবিচ্ছেদ্য অংশ।
সূত্র: তাসনিম নিউজ এজেন্সি, বিবিসি এবং এএফপি



