গাজার ক্ষুধার্ত মানুষের জন্য ত্রাণ নিয়ে যাওয়া ফ্লোটিলা বা ছোট জাহাজ বহরকে মাঝসমুদ্রে দমানোর চেষ্টা করছে ইসরাইল। সম্প্রতি ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’ একটি অডিও রেকর্ড প্রকাশ হয়েছে, যেখানে শোনা যাচ্ছে ইসরাইলি সেনাবাহিনী রীতিমতো গলার জোর খাটিয়ে ত্রাণবাহী জাহাজগুলোকে হুমকি দিচ্ছে।
ইসরাইলি ওই কণ্ঠস্বর পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে যে জাহাজগুলো যদি গাজার দিকে আর এক পা-ও এগোয়, তবে তাদের ওপর সশস্ত্র হামলা চালানো হতে পারে।
আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের দোহাই দিয়ে তারা মূলত গাজার ওপর গত ১৭ বছরের অমানবিক অবরোধকে আরো শক্ত করতে চাইছে ইসরাইল। অথচ বাস্তবতা হলো, ২০০৮ সালের পর থেকে আর কোনো ত্রাণবাহী জাহাজকে গাজায় পৌঁছাতে দেয়নি তেল আবিব; উল্টা ২০১০ সালে তুর্কি অ্যাক্টিভিস্টদের রক্তে রঞ্জিত হয়েছিল সমুদ্রের পানি।
ফাঁসকৃত এই অডিও রেকর্ডে শোনা যায়, এক ইসরাইলি সেনা বেশ রুক্ষ গলায় বলছেন যে গাজার পথে যাত্রা চালিয়ে যাওয়াটা হবে ‘চরম’ বিপদজ্জনক।
তাদের দাবি, গাজা উপত্যকায় সমুদ্রপথে যে অবরোধ দেয়া হয়েছে তা নাকি ‘আইনসম্মত’। আর এই তথাকথিত আইন বজায় রাখতে ইসরাইলি বাহিনী যেকোনো ব্যবস্থা নিতে পিছপা হবে না।
ইসরাইলি বাহিনী ত্রাণগুলো নিয়ে ইসরাইলের আশদোদ বন্দরে যাওয়ার প্রস্তাব দিচ্ছে, যা মূলত ত্রাণের গতিপথ বদলে দেয়া আর খবরদারি করার একটা পুরনো কৌশল। গাজার সাধারণ মানুষ যখন খাবার আর ওষুধের অভাবে ধুঁকছে, তখন সহায়তার হাত বাড়ানো জাহাজগুলোকে এভাবে ভয় দেখানো ইসরাইলের আগ্রাসী মানসিকতারই বহিঃপ্রকাশ।
জাতিসঙ্ঘ বা আন্তর্জাতিক মহলের রক্তচক্ষুকে তোয়াক্কা না করেই ২০০৭ সাল থেকে গাজাকে কার্যত একটি খোলা কারাগারে পরিণত করে রেখেছে ইসরাইল।
এবারের এই মানবিক যাত্রা শুরু হয়েছিল ১২ এপ্রিল স্পেনের বার্সেলোনা থেকে। এরপর ২৬ এপ্রিল ইতালির সিসিলি দ্বীপের অগাস্টা বন্দর থেকে প্রায় ৭০টি জাহাজের এই বিশাল বহর গাজার উদ্দেশে চূড়ান্ত যাত্রা শুরু করে। এই বহরে ১০০টি দেশের প্রায় ৩ হাজার স্বেচ্ছাসেবী অংশ নিয়েছেন, যাদের মধ্যে ১ হাজারই হলেন স্বাস্থ্যকর্মী। তারা কয়েক হাজার টন জীবনরক্ষাকারী ওষুধ ও খাবার নিয়ে রওনা হয়েছেন।
মানবিক সঙ্কটের এই ভয়াবহ অবস্থায় পৌঁছেও তারা তাদের অমানবিক অবরোধ শিথিল করতে নারাজ। অতীতেও ডজনখানেক ত্রাণবাহী জাহাজকে তারা মাঝপথে আটকে দিয়েছে কিংবা সরাসরি আক্রমণ করেছে।
বর্তমানের এই অডিও রেকর্ডটি বিশ্ববাসীর সামনে আবারও স্পষ্ট করে দিলো যে নিরীহ মানুষের জন্য পাঠানো সামান্য কয়েক মুঠো খাবারের ওপরও ইসরাইল কতটা কড়া পাহারা বসিয়ে রেখেছে। কোনো নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে গাজাকে বিচ্ছিন্ন রাখার এই জেদ যেন এখন ইসরাইলি সেনাবাহিনীর একমাত্র লক্ষ্যে পরিণত হয়েছে।
সূত্র : আল জাজিরা



