মার্কিন সংবাদপত্র ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, গত মাসের শুরুতে অর্থাৎ এপ্রিলে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) ইরানের ওপর হামলা চালিয়েছিল।
সংবাদপত্রটির প্রতিবেদনে বলা হয়, উপসাগরীয় যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে সংযুক্ত আরব আমিরাতের সরাসরি সম্পৃক্ততার তথ্য এতে সামনে এসেছে।
সোমবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানায়, ইউএইর হামলার লক্ষ্য ছিল ইরানের লাভান দ্বীপে অবস্থিত একটি তেল শোধনাগার। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পাঁচ সপ্তাহব্যাপী বিমান হামলার পর যুদ্ধবিরতি ঘোষণা দেওয়ার সময় এ হামলা চালানো হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি সূত্রের বরাতে পত্রিকাটি জানায়, যুক্তরাষ্ট্র নীরবে আমিরাতের এ হামলাকে সমর্থন জানিয়েছে।
এছাড়া উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্য যেসব দেশ যুদ্ধে অংশ নিতে আগ্রহী, তাদের প্রতিও সমর্থন রয়েছে বলে আরেকটি অজ্ঞাত সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
তবে এএফপি স্বাধীনভাবে ইউএইর হামলার তথ্য যাচাই করতে পারেনি। এছাড়া ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল হামলার নির্দিষ্ট তারিখ বা সময়ও উল্লেখ করেনি।
এদিকে গত ৮ এপ্রিল সকালে ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি জানায়, লাভান দ্বীপের তেল স্থাপনায় হামলার কয়েক ঘণ্টা পর সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কুয়েতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে।
আইআরআইবি জানায়, স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় (গ্রিনিচ মান সময় ৬টা ৩০ মিনিট) লাভান তেল স্থাপনাটিতে ‘কাপুরুষোচিত হামলা’ চালানো হয়।
একই দিনে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইউএই দাবি করে, তাদের লক্ষ্য করে ইরান ১৭টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ৩৫টি ড্রোন ছুড়েছে।
সেদিন সকালে কুয়েতের সামরিক বাহিনীও জানায়, দেশটির বিদ্যুৎকেন্দ্র, লবণাক্ত পানি বিশুদ্ধকরণ প্ল্যান্ট ও তেল স্থাপনাগুলোতে একের পর এক হামলা চালানো হচ্ছে। এতে সদ্য কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির নাজুক পরিস্থিতি স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
মার্কিন জ্বালানি তথ্য প্রশাসনের (ইআইএ) তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সাল পর্যন্ত লাভান শোধনাগারটি ছিল ইরানের দশম বৃহত্তম তেল শোধনাগার। সেখানে প্রতিদিন প্রায় ৬০ হাজার ব্যারেল অপরিশোধিত তেল প্রক্রিয়াজাত করা হতো।
সূত্র : বাসস



