ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান পরিষ্কার ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, ইরানকে সমুদ্রপথে অবরুদ্ধ করা বা কোনো ধরনের নৌ-নিষেধাজ্ঞা চাপিয়ে দেয়ার যেকোনো চেষ্টা ব্যর্থ হতে বাধ্য।
বৃহস্পতিবার পারস্য উপসাগর জাতীয় দিবস উপলক্ষে দেয়া এক বার্তায় তিনি স্পষ্ট করেন, এই কৌশলগত পানিপথ ইরানের জাতীয় সত্তার অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং দেশটির সার্বভৌমত্বের প্রতীক।
তাসনিম নিউজ অ্যাজেন্সির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে ইরানের সামুদ্রিক বাণিজ্যে বাধা দেয়ার অপচেষ্টা করলে ওই অঞ্চলে যেকোনো অস্থিরতার দায় সরাসরি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং জায়নিস্ট ইসরাইলকেই নিতে হবে।
শত্রুর নতুন কৌশল ও ইরানের শক্ত অবস্থান
বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ইরানের এই অবস্থান কেবল আত্মরক্ষামূলক নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্যে পাশ্চাত্যের আধিপত্যের বিরুদ্ধে এক শক্তিশালী পাল্টা চ্যালেঞ্জ। প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান তার বার্তায় রমজান যুদ্ধের অভিজ্ঞতার কথা মনে করিয়ে দিয়ে বলেন, হরমুজ প্রণালী বিশ্বের জ্বালানি ও নিরাপত্তার সমীকরণে কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা ওই সময়ই বিশ্ববাসী টের পেয়েছে।
সাগরে ইরানি নৌবাহিনীর বীরত্ব প্রমাণ করেছে যে এই গুরুত্বপূর্ণ পথটি কেবল তেল পরিবহনের রুট নয়, বরং এটি ইরানের অজেয় শক্তির ঢাল। শত্রুরা এখন সরাসরি যুদ্ধের ময়দান ছেড়ে অর্থনৈতিক ও সামুদ্রিক বাণিজ্যে বাধা দেয়ার যে নোংরা কৌশল নিয়েছে, তা আদতে কোনো কাজে আসবে না বলে তিনি মনে করেন।
বিদেশী-মুক্ত নিরাপদ পানিপথের ডাক
প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান তার বক্তব্যে বিদেশী শক্তির উপস্থিতিকে এই অঞ্চলের অস্থিরতার মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন, পারস্য উপসাগরের টেকসই নিরাপত্তা তখনই সম্ভব যখন উপকূলীয় দেশগুলো নিজেরা একজোট হয়ে সহযোগিতা করবে এবং এই অঞ্চল থেকে বিদেশীরা গুটিয়ে বিদায় নেবে।
অতীতে দেখা গেছে, মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর নিরাপত্তা দিতে তো পারেইনি, উল্টা উত্তেজনা তৈরি করেছে এবং সঙ্ঘাতের পথ প্রশস্ত করেছে।
ইরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, তারা নৌ-চলাচলের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী হলেও কোনো শত্রু ভাবাপন্ন দেশের মাতব্বরি আর মুখ বুজে সহ্য করবে না।
জাতীয় সত্তা ও প্রতিরোধের সংকল্প
তাসনিম নিউজ অ্যাজেন্সির এই প্রতিবেদনে ফুটে উঠেছে, ইরান এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী। বৃহস্পতিবার পালিত এই পারস্য উপসাগর দিবসের বার্তায় শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রেসিডেন্ট পুনর্ব্যক্ত করেন যে ঔপনিবেশিক শক্তির বিরুদ্ধে ইরানের এই প্রতিরোধ ঐতিহাসিক।
যুক্তরাষ্ট্রের রক্তচক্ষু আর ইসরাইলের ষড়যন্ত্রকে তোয়াক্কা না করে পারস্য উপসাগরকে একটি নিরাপদ ও বিদেশী-মুক্ত অঞ্চলে পরিণত করাই এখন তেহরানের মূল লক্ষ্য। ইরানের সার্বভৌমত্বকে অসম্মান করার যেকোনো চেষ্টাকে তেহরান তাদের ওপর সরাসরি আক্রমণ হিসেবেই দেখছে এবং তার জবাব দিতেও তারা প্রস্তুত।
সূত্র : আল জাজিরা



