লেবাননের ইসলামী প্রতিরোধ যোদ্ধা হিজবুল্লাহর একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র আর ড্রোন হামলার মুখে ইসরাইলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এখন ভয়াবহ অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে তেল আবিব এবং এর আশপাশের এলাকায় হিজবুল্লাহ নির্ভুল নিশানায় আঘাত হানছে। এর ফলে খোদ ইসরাইলের ভেতরেই বড় ধরনের বিতর্কের ঝড় উঠেছে।
ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম ‘ইসরাইল হায়োম’ অত্যন্ত স্পষ্টভাবে স্বীকার করে নিয়েছে, হিজবুল্লাহর ছোড়া এসব আধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকানোর মতো কোনো কার্যকর সামরিক সক্ষমতা বর্তমানে ইহুদিবাদী বাহিনীর হাতে নেই।
তারা বলছে, হিজবুল্লাহর অস্ত্রের বহর এবং তাদের রণচার্তুযের সামনে ইসরাইলি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা এবং অসহায় অবস্থা এখন দিবালোকের মতো স্পষ্ট হয়ে পড়েছে।
ইরানের সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ অ্যাজেন্সির প্রতিবেদনে বিস্তারিত উঠে এসেছে।
ইসরাইলের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, হিজবুল্লাহর এই ক্ষেপণাস্ত্র শক্তিকে রুখে দেয়ার জন্য আসলে কোনো জুতসই সামরিক সমাধান তেল আবিবের কাছে নেই। এমনকি নতুন করে কোনো যুদ্ধ শুরু হলেও সেখান থেকে ইসরাইল কোনো বাস্তব বা বড় ধরনের অর্জন ঘরে তুলতে পারবে কি না, তা নিয়ে খোদ দেশটির নীতিনির্ধারকদের মধ্যেই গভীর সংশয় দেখা দিয়েছে।
দীর্ঘ ১৫ মাস আগে অর্থাৎ ২০২৪ সালের নভেম্বরে যখন একটি যুদ্ধবিরতি হয়েছিল, তখন থেকেই হিজবুল্লাহ অনেকটা কৌশলী অবস্থান নিয়েছিল। সেই সময়ে তারা ইসরাইলি উসকানির বিপরীতে সরাসরি কোনো পাল্টা আক্রমণে না গিয়ে বরং লেবানন সরকারের কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে সুযোগ দিয়েছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে প্রেক্ষাপট পুরোপুরি বদলে গেছে।
এখন হিজবুল্লাহ আর কোনো রাখঢাক রাখছে না। ইসরাইলি আগ্রাসনের বিপরীতে তারা এখন তাৎক্ষণিক এবং সপাটে জবাব দিচ্ছে।
সংবাদ বিশ্লেষকরা বলছেন, হিজবুল্লাহর এই সরাসরি অ্যাকশন আসলে ইসরাইলি দখলদারদের জন্য একটি বড় বার্তা। গত বছরের সেই যুদ্ধবিরতির পর থেকে লেবানন সরকার দাবি করে আসছিল যে তারা কূটনীতির মাধ্যমে ইসরাইলি দখলদারি বন্ধ করতে পারবে। কিন্তু সেই চেষ্টায় কোনো ফল না আসায় হিজবুল্লাহ এখন নিজ হাতেই পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণ তুলে নিয়েছে। তাদের প্রতিটি ক্ষেপণাস্ত্র এখন ইসরাইলি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বা ডিফেন্স সিস্টেমকে রীতিমতো ফাঁকি দিয়ে নির্দিষ্ট লক্ষ্যে আছড়ে পড়ছে।
ইসরাইলি কর্মকর্তাদের এই স্বীকারোক্তি থেকে বোঝা যায় যে শুধু প্রযুক্তির দাপট দেখিয়ে একটি পুরো অঞ্চলকে চাপে রাখা সম্ভব নয়। হিজবুল্লাহর ক্ষেপণাস্ত্রের গতি আর নির্ভুল আঘাত হানার সক্ষমতা ইসরাইলি সেনাবাহিনীকে মানসিকভাবেও অনেকটা পেছনে ঠেলে দিয়েছে। ফলে বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতি আরো কতদূর গড়াবে এবং ইসরাইল আদৌ এই সঙ্কট থেকে বেরিয়ে আসার কোনো রাস্তা খুঁজে পাবে কি না, তা নিয়ে এখন বড় ধরনের প্রশ্ন চিহ্ন তৈরি হয়েছে। সহজ কথায় বলতে গেলে, হিজবুল্লাহর শক্তির কাছে ইহুদিবাদী ইসরাইলের এতোকালের সামরিক শ্রেষ্ঠত্বের তকমা এখন নিছক মশকরা হতে চলেছে।



