যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলি হামলার পর অবরোধ আরোপ করা কৌশলগত হরমুজ প্রণালী দিয়ে আরো বেশি জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিচ্ছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর নৌ-ইউনিট। শুক্রবার দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরান প্রণালীটি দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাপকভাবে সীমিত করে দেয়। এর কয়েক দিন পর তেহরানের ওপর চাপ বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্রও ইরানের বন্দরগুলো অবরোধ করে।
তেহরান থেকে এএফপি জানায়, দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দর নগরী বন্দর আব্বাস থেকে রাষ্ট্রীয় টিভির এক প্রতিবেদক বলেন, ‘ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) নৌবাহিনীর সমন্বয়ে এখন আরো বেশি জাহাজ হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করতে পারছে।’
তিনি বলেন, ‘এটি প্রমাণ করে যে বহু দেশ এই অঞ্চল ও হরমুজ প্রণালীতে ইরান এবং আইআরজিসি নৌবাহিনীর প্রণীত নতুন আইনগত প্রটোকল মেনে নিয়েছে।’
এর এক দিন আগে রাষ্ট্রীয় টিভি জানায়, বিপ্লবী গার্ড বাহিনী ৩০টির বেশি জাহাজকে এই গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথ অতিক্রমের অনুমতি দিয়েছে।
স্বাভাবিক সময়ে হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবহন হয়। এছাড়া অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পণ্যও এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়।
গত ৮ এপ্রিল থেকে নাজুক যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও হরমুজ প্রণালীর ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ এবং পাল্টা হিসেবে ইরানি বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ বৈশ্বিক বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে।
হরমুজ প্রণালীর ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ এখনো যুক্তরাষ্ট্রের সাথে চলমান আলোচনার অন্যতম প্রধান অমীমাংসিত বিষয়। এখন পর্যন্ত এসব আলোচনায় কোনো অগ্রগতি হয়নি।
ইরানের আইনপ্রণেতারাও প্রণালীটির ওপর আরো কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করেছেন। এর মধ্যে প্রণালী অতিক্রমকারী জাহাজের ওপর শুল্ক আরোপের বিষয়ও রয়েছে।
গত মাসে ইরানের পার্লামেন্টের ডেপুটি স্পিকার হামিদরেজা হাজিবাবাঈ বলেন, প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের ওপর আরোপিত টোল থেকে তেহরান প্রথমবারের মতো আয় পেয়েছে।
সূত্র : এএফপি/বাসস



