বাজারে জাল ডলারের এক নতুন ঢেউ আছড়ে পড়েছে। এই জাল নোটের ঢেউ দেশটির সাদামাটা ক্রেতাদের জন্য এক ভয়ংকর ফাঁদ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের আনাচে-কানাচে থেকে আসা একের পর এক খবর প্রমাণ করছে যে, জাল নোটের এই কারবার এখন আর বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়।
ইরানের সংবাদ মাধ্যম তাসনিম নিউজ অ্যাজেন্সির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।
দেশটির সাধারণ মানুষ তাদের জমানো টাকার মান ধরে রাখতে গিয়ে যখন দু-চারটি নোট কিনতে বাজারে যাচ্ছেন, তখনই তারা বড় ধরনের প্রতারণার শিকার হচ্ছেন। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, মানুষ আসল টাকা দিয়ে বিনিময়ে ঘরে ফিরছেন মূল্যহীন কিছু কাগজের টুকরো নিয়ে। মাঠ পর্যায়ের তথ্যানুসন্ধান এবং ভুক্তভোগীদের অভিজ্ঞতা থেকে স্পষ্ট যে, অনানুষ্ঠানিক মুদ্রাবাজারে এই জালিয়াতি এখন চরম আকার ধারণ করেছে।
এই জালিয়াত চক্র কতটা পেশাদার তার প্রমাণ মিলেছে লোরেস্তান প্রদেশের আলিগুদোর্জ এলাকায় পুলিশের সাম্প্রতিক এক অভিযানে। সেখান থেকে পুলিশ দুই লক্ষ পঁচাত্তর হাজার ইউরো এবং জাল ডলার উদ্ধার করেছে। এই ঘটনার শুরু হয়েছিল একটি সন্দেহজনক লেনদেনের খবর থেকে। পরবর্তীতে পুলিশ যখন সেই আস্তানায় হানা দেয়, তখন কেবল জাল নোটই নয়, বরং নোট তৈরির আধুনিক সরঞ্জাম এবং নানা যন্ত্রও পাওয়া যায়। এতে বোঝা যায়, পুরো বিষয়টি অনেক বড় এবং সুপরিকল্পিত কোনো চক্রের কাজ। এই ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিকে ইতিমধ্যেই বিচারের মুখোমুখি করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে।
তবে আলিগুদোর্জের এই ঘটনাটি আসলে বিশাল এক সঙ্কটের ছোট একটি অংশ মাত্র। বর্তমানে বাজারে যারা মুদ্রা কেনাবেচা করতে যাচ্ছেন, তাদের অনেকেই বলছেন যে গত কয়েক সপ্তাহে বাজার দরের চেয়ে সস্তায় ডলার বিক্রির লোভনীয় প্রস্তাব আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। এই বিক্রেতারা সাধারণত অচেনা যুবক হয়, যারা খুব আন্তরিকভাবে কথা বলে ক্রেতার বিশ্বাস অর্জন করে। সাধারণত কোনো নির্জন গলি, গাড়ি অথবা জনাকীর্ণ জায়গার আড়ালে খুব দ্রুত এই লেনদেন সেরে ফেলা হয়। ক্রেতা ভাবেন কয়েক হাজার তুমান (ইরানি মুদ্রার সরকারি নাম রিয়াল হলে লোকমুখে তা তুমান নামে পরিচিত। সাধারণ ১০ রিয়ালে এক তুমান ধরা হয়।) কম দামে ডলার পেয়ে তিনি খুব জিতে গেলেন, কিন্তু নোটের বান্ডিল খোলার পর বুঝতে পারেন তিনি আসলে একজন প্রতারকের হাতে নিজের সবটুকু তুলে দিয়েছেন।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, এই জাল ডলারের ব্যবসার আড়ালে আরো একটি গভীর ষড়যন্ত্র কাজ করছে। কিছু চক্র উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বাজার থেকে পাঁচ লক্ষ ও দশ লক্ষ মানের নতুন ইরানি নোটগুলো সরিয়ে নিচ্ছে। ওপর থেকে দেখলে মনে হয় এটি সাধারণ মুদ্রা কেনাবেচা, কিন্তু বাস্তবে এই নোটগুলো চলে যাচ্ছে অর্থনৈতিক গোপন চক্র বা আন্ডারগ্রাউন্ড ফিন্যান্সিয়াল নেটওয়ার্কের হাতে।
বাজার বিশেষজ্ঞরা তাই বারবার সতর্ক করছেন যে, কেউ যদি বর্তমান দামের চেয়ে সস্তায় ডলার দেয়ার প্রস্তাব দেয়, তবে তা কোনো সুযোগ নয় বরং একটি নিশ্চিত ফাঁদ।
ইহুদিবাদী ইসরাইলের সাথে ইরানের চলমান উত্তেজনা বা বর্তমান পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে এই চক্রগুলো সক্রিয় হয়ে উঠেছে। খবরে ইরানিদের আবারো মনে করিয়ে দেয়া হচ্ছে যে, বৈধ প্রতিষ্ঠান ছাড়া বাইরে লেনদেন করা মানেই নিজের সারাজীবনের সঞ্চয়কে ঝুঁকির মুখে ফেলা। সচেতন না হলে সামান্য অসাবধানতায় আপনার কষ্টের টাকা স্রেফ মূল্যহীন কাগজে পরিণত হতে পারে।
সূত্র: তাসনিম নিউজ



