একা নয় ইরান, ঢাল হয়ে পাশে রয়েছে রাশিয়া-চীন

যুদ্ধ এখন আর কেবল রণক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ নেই, বরং এটি বহুমুখী এক শক্তিক্ষয়ে পরিণত হয়েছে যেখানে পাশ্চাত্যের দাপট ক্রমশ ম্লান হয়ে আসছে।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
একা নয় ইরান, ঢাল হয়ে পাশে রয়েছে চীন-রাশিয়া
একা নয় ইরান, ঢাল হয়ে পাশে রয়েছে চীন-রাশিয়া |এআই জেনারেট

ইরান আজ আর বিশ্বমঞ্চে একা কোনো শক্তি নয়, দেশটির পেছনে চীন ও রাশিয়ার মতো পরাশক্তিরা এখন ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসন ঠেকাতে ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে ইসরাইলের বেপরোয়া মনোভাব আর যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টাকে রুখে দিতে বেইজিং ও মস্কো একজোট হয়ে এক শক্তিশালী প্রতিরোধ বলয় তৈরি করেছে।

এটি কোনো সাধারণ সমর্থন নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের বেসামাল আস্ফালনের বিরুদ্ধে এক সুপরিকল্পিত কৌশল। যুদ্ধ এখন আর কেবল রণক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ নেই, বরং এটি বহুমুখী এক শক্তিক্ষয়ে পরিণত হয়েছে যেখানে পাশ্চাত্যের দাপট ক্রমশ ম্লান হয়ে আসছে।

রাশিয়া ও চীন সরাসরি যুদ্ধে না নামলেও তারা আদতে ইরানের যুদ্ধের মূল কাঠামোর অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে। দেশ দু’টিকে এখন আর এই লড়াইয়ে নিরপেক্ষ ভাবার কোনো সুযোগ নেই। তারা অত্যন্ত পরিষ্কারভাবে ইরানের পক্ষ নিয়েছে এবং কৌশলগতভাবে নিজেদের অবস্থান জানান দিচ্ছে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি নিজেই স্বীকার করেছেন, গোয়েন্দা তথ্যের আদান-প্রদান, অর্থনৈতিক লাইফলাইন সচল রাখা এবং কূটনৈতিক সুরক্ষার মাধ্যমে এই দুই পরাশক্তি ইরানের যুদ্ধপ্রস্তুতির একেবারে কেন্দ্রে অবস্থান করছে।

আধুনিক যুদ্ধের সংজ্ঞা বদলে দিয়ে তারা প্রমাণ করেছে যে কেবল সেনা পাঠিয়েই যুদ্ধ হয় না; বরং ভয়াবহ চাপের মুখে একটি রাষ্ট্রকে টিকিয়ে রাখার সক্ষমতা তৈরি করে দেয়াটাই এখনকার বড় কৌশল।

মস্কো তার উন্নত গোয়েন্দা প্রযুক্তির মাধ্যমে ইরানের সামরিক সক্ষমতা কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে, যার ফলে ইসরাইল বা যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো পদক্ষেপ ইরান আগেভাগেই আঁচ করতে পারছে। অন্যদিকে, চীন নিশ্চিত করছে ইরানের অর্থনৈতিক ভিত।

মার্কিন নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ইরানের অর্থনীতি যে ভেঙে পড়েনি, তার বড় কারণ বেইজিংয়ের সাথে তেহরানের নিরবচ্ছিন্ন বাণিজ্য। বিশ্ব এখন এক মেরু থেকে বহু মেরুর দিকে ঝুঁকছে, যেখানে ওয়াশিংটনের একক মাতব্বরি আর খাটছে না। রাশিয়া ও চীন পশ্চিম এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের একচ্ছত্র আধিপত্য ঠেকাতে ইরানকে একটি অপরিহার্য শক্তি হিসেবে টিকিয়ে রাখতে বদ্ধপরিকর।

এই নতুন বিশ্বব্যবস্থায় যুদ্ধের ময়দান এখন আর শুধু মানচিত্রের কাঁটাতারে সীমাবদ্ধ নয়; এটি এখন ছড়িয়ে পড়েছে স্যাটেলাইট সিস্টেম, আর্থিক লেনদেন আর জ্বালানি করিডোরে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল চাইলেই এখন ইরানকে মানচিত্র থেকে মুছে দিতে পারবে না, কারণ ইরানের টিকে থাকা এখন চীন ও রাশিয়ার বৈশ্বিক স্বার্থের সাথে মিশে গেছে। ওয়াশিংটন এতদিন সামরিক ও অর্থনৈতিক শক্তির দাপটে বিশ্ব শাসন করলেও এখন তাদের প্রতি পদে হিসেব কষে পা ফেলতে হচ্ছে। রাশিয়া ও চীন সরাসরি যুদ্ধে না জড়িয়েও ইরানের সক্ষমতা বাড়িয়ে দিয়ে যুদ্ধের গতিপথ নিয়ন্ত্রণ করছে।

সহজ কথায়, তারা ইরানের জন্য এমন এক সুরক্ষা প্রাচীর তৈরি করেছে যার ফলে ইসরাইলের ধ্বংসাত্মক পরিকল্পনাগুলো ভেস্তে যাচ্ছে বারবার। মিডলইস্ট মনিটর বলছে, এই যুদ্ধে রাশিয়া ও চীন দর্শক নয়, বরং নেপথ্যের মূল কারিগর।

সূত্র : মিডলইস্ট মনিটর