ইরানি গোয়েন্দা জালে ইসরাইলি সেনা: তেলআবিবে চাঞ্চল্য

হিব্রু গণমাধ্যমের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়, সামান্য অর্থের বিনিময়ে এসব সেনা ইসরাইলের গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত স্থাপনার তথ্য ও স্থানাঙ্ক সরবরাহ করেছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার দাবি অনুযায়ী, ঘটনাটি বর্তমানে ইসরাইলের সংবাদমাধ্যমে ব্যাপক গুরুত্ব পেয়েছে।

নয়া দিগন্ত অনলাইন

ইসরাইলি সেনাবাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে ইরানের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ সামনে আসায় তেলআবিবের সামরিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। ইরানের সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ অ্যাজেন্সি জানিয়েছে, ইসরাইলি বিমান বাহিনীর সক্রিয় সদস্যদের একটি অংশ ইরানের গোয়েন্দা সংস্থার সাথেযুক্ত হয়ে সংবেদনশীল তথ্য পাচার করেছে।

হিব্রু গণমাধ্যমের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়, সামান্য অর্থের বিনিময়ে এসব সেনা ইসরাইলের গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত স্থাপনার তথ্য ও স্থানাঙ্ক সরবরাহ করেছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার দাবি অনুযায়ী, ঘটনাটি বর্তমানে ইসরাইলের সংবাদমাধ্যমে ব্যাপক গুরুত্ব পেয়েছে।

ইসরাইলি টেলিভিশন চ্যানেল 'আই-টুয়েন্টিফোর নিউজ' ঘটনাটিকে “বিরাট কেলেঙ্কারি” হিসেবে উল্লেখ করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, অতীতে সাধারণ নাগরিকদের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহের ঘটনা ঘটলেও এবার সরাসরি সামরিক বাহিনীর সদস্যদের জড়িয়ে পড়া ইসরাইলের নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য গভীর উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে।

ইসরাইলি আর্মি রেডিওর সামরিক প্রতিবেদক ডোরন কাদোশ বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের পক্ষে গুপ্তচরবৃত্তির প্রবণতা বেড়ে যাওয়ায় সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরে অস্থিরতার চিত্র স্পষ্ট হয়ে উঠছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এখন আর শুধু সাধারণ মানুষ নয়, প্রশিক্ষিত সামরিক সদস্যরাও ইরানের হয়ে কাজ করছেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, অভিযুক্তদের বেশিরভাগই ইসরাইলি বিমান বাহিনীর কারিগরি স্কুলের শিক্ষার্থী, যা একটি সামরিক ঘাঁটির অংশ। তারা ঘাঁটির বিভিন্ন স্পর্শকাতর স্থাপনার ছবি ও তথ্য সরবরাহ করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া তেলআবিবের সাভিদোর মিডল ট্রেন স্টেশন এবং হাইফার একটি ভবনের ছবি ও তথ্যও পাচার করা হয়েছে বলে জানা গেছে। উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সংঘাতে এ দুটি স্থান ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল।

তদন্তে আরো জানা গেছে, একজন সামরিক গোয়েন্দা কর্মকর্তা এফ-১৬ যুদ্ধবিমানের ছবি ও অবস্থান জানাতে ১৫ হাজার শেকেল, অর্থাৎ প্রায় ৫ হাজার মার্কিন ডলার দাবি করেছিলেন। তবে ইরানি পক্ষ তাকে আরো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহের নির্দেশ দেয়। বিশেষ করে, আয়রন ডোম প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার অবস্থান জানাতে প্রতিটি তথ্যের জন্য ৫ হাজার শেকেল পুরস্কারের প্রস্তাব দেয়া হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে।

পুরো যোগাযোগ কার্যক্রম মেসেজিং অ্যাপ টেলিগ্রামের মাধ্যমে পরিচালিত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

ইসরাইলি নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর মতে, অর্থের লোভে সেনাদের একটি অংশ নিজেরাই ইরানি পক্ষের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেছে। প্রতিবেদক ডোরন কাদোশ জানান, মাত্র কয়েকশ থেকে কয়েক হাজার ডলারের বিনিময়ে তারা দেশের নিরাপত্তা সংক্রান্ত তথ্য সরবরাহে রাজি হয়েছে।

ইসরাইলের অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা শিন বেত এবং পুলিশ ধারণা করছে, অভিযুক্তরা মনে করেছিল তারা ধরা পড়বে না এবং বিষয়টিকে অতিরিক্ত আয়ের সহজ উপায় হিসেবে দেখেছিল।

বিশ্লেষকদের মতে, ৭ অক্টোবরের ঘটনার পর তেহরানের সাথে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেই সেনাবাহিনীর ভেতরে এমন গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ ইসরাইলের নিরাপত্তা কাঠামোকে নতুন করে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।

সূত্র: তাসনিম নিউজ