যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল ও ইরানের মধ্যে চলমান সঙ্ঘাতের মাঝেই যুদ্ধবিরতি চলাকালীন তেহরানের স্বাভাবিক জনজীবনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে। ইস্তেল নামে এক নারীর ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করা এই ভিডিওতে দেখা যায়, ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আতঙ্কের বদলে মানুষ স্বাভাবিকভাবে কেনাকাটা করছেন এবং রেস্তোরাঁয় খাচ্ছেন।
বর্তমানে তেহরানের পরিস্থিতি যে গণমাধ্যমের ভীতিজনক খবরের চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা, এই ভিডিওটি যেন তারই প্রমাণ।
এনডিটিভি জানিয়েছে, ভিডিওটি ইতোমধ্যে চার লাখের বেশি মানুষ দেখেছে এবং শত শত নেটিজেন তেহরান নগরীর শান্ত রূপ দেখে অবাক হয়েছে।
ভিডিওতে দেখা যায়, ইস্তেল নিজেই গাড়ি চালিয়ে তেহরানের প্রধান সড়কগুলো দিয়ে ঘুরছেন। ফুটপাতের এক বিক্রেতার কাছ থেকে তিনি একটি বিড়ালের পুতুল কেনেন এবং পরে একটি ফুড কোর্টে গিয়ে দুপুরের খাবারের জন্য ফরাসি রুটি ও ইরানি বিস্কুট সংগ্রহ করেন। এমনকি তাকে একটি দোকানে কোরিয়ান খাবারও পরখ করতে দেখা যায়। সন্ধ্যার দিকে তিনি তেহরানের অন্যতম সেরা একটি বিলাসবহুল হোটেলের লাউঞ্জে যান, যেখানে মানুষ কোনো ধরনের যুদ্ধভীতি ছাড়াই সময় কাটাচ্ছিল।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে মন্তব্য করেছেন যে, পশ্চিমা বা ইসরাইলি গণমাধ্যমে ইরান সম্পর্কে যে নেতিবাচক চিত্র তুলে ধরা হয়, বাস্তব চিত্র আসলে তার চেয়ে অনেক বেশি সুন্দর ও সমৃদ্ধ।
অন্যদিকে, যুদ্ধ শেষ হওয়ার আশা থাকলেও রাজনৈতিক উত্তেজনা কমছে না। গত ১ মে মার্কিন প্রেসিডেন্টের একক ক্ষমতায় যুদ্ধ চালানোর ৬০ দিনের সময়সীমা (ওয়ার পাওয়ার্স রেজোলিউশন) শেষ হয়েছে। এই আইন অনুযায়ী, কংগ্রেসের বিশেষ অনুমোদন ছাড়া ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষে এখন আর সামরিক অভিযান চালিয়ে যাওয়া কঠিন। তা সত্ত্বেও তিনি যুদ্ধ বন্ধে ইরানের দেয়া নতুন প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করেছেন।
হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি বলেন, ইরানের প্রস্তাব নিয়ে তিনি সন্তুষ্ট নন, কারণ তারা এমন কিছু দাবি করেছে যা মেনে নেয়া সম্ভব নয়।
বর্তমানে মার্কিন কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে। এই অচলাবস্থার মাঝেই ইরান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে তাদের কড়া নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে এবং পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে মার্কিন নৌবাহিনীও সাগরে ইরানের তেল ট্যাঙ্কার চলাচলে অবরোধ জারি করে রেখেছে।
সূত্র: এনডিটিভি



