মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন ঘাঁটিগুলোর এখন রীতিমতো নাজেহাল দশায় পৌঁছেছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারিতে ইহুদিবাদী ইসরাইল এবং যুক্তরাষ্ট্র একযোগে বিনা উসকানিতে ইরানের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ার জেরে মার্কিন ঘাঁটিগুলোর এ দশা হয়েছে।
সম্প্রতি এনবিসি নিউজের এক বিস্ফোরক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের সাতটি দেশে ছড়িয়ে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটি এবং সরঞ্জামের ওপর ইরান এমন ‘ব্যাপক’ পাল্টা হামলা চালিয়েছে, যা পেন্টাগন আগে স্বীকার করতে চায়নি। এই ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এতটাই বেশি যে তা কাটিয়ে উঠতে যুক্তরাষ্ট্রে কয়েক বিলিয়ন বা কয়েক শ’ কোটি ডলার গচ্চা যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পুরো বিষয়টি নিয়ে মার্কিন সামরিক সদর দফতর পেন্টাগন এখন পর্যন্ত জনসমক্ষে মুখ খুলতে নারাজ এবং মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডও ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিসংখ্যান নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। এই লুকোচুরিতে মার্কিন প্রশাসনের ভেতরেই এখন তীব্র অসন্তোষ দেখা দিচ্ছে।
তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন রিপাবলিকান আইন প্রণেতাদের একাংশ পেন্টাগনের এই নীরবতায় ভীষণ ক্ষুব্ধ, কারণ একদিকে ক্ষয়ক্ষতির হিসাব গোপন রাখা হচ্ছে আর অন্যদিকে প্রতিরক্ষা বাজেটে রেকর্ড পরিমাণ বরাদ্দ চাওয়া হচ্ছে।
ইরানের এই প্রতিশোধমূলক হামলার লক্ষ্যবস্তুগুলো ছিল অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
ইরান কেবল এলোপাতাড়ি হামলা করেনি, বরং তাদের নিশানায় ছিল যুক্তরাষ্ট্রের কমান্ড হেডকোয়ার্টার বা নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র, অত্যাধুনিক রাডার সিস্টেম, স্যাটেলাইট যোগাযোগ অবকাঠামো এবং বিমানের হ্যাঙ্গার। এছাড়া রানওয়ে এবং গুদামঘরসহ কয়েক ডজন সামরিক বিমান ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।
এতদিন পেন্টাগন ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি যতটা হালকা করে দেখানোর চেষ্টা করেছে, ভেতরের খবর বলছে পরিস্থিতি তার চেয়েও কয়েক গুণ বেশি ভয়াবহ। কোনো কোনো কংগ্রেশনাল এইড বা সংসদীয় সহকারী বিরক্তি প্রকাশ করে বলেছেন, তারা কয়েক সপ্তাহ ধরে নির্দিষ্ট তথ্য চেয়েও পেন্টাগনের কাছ থেকে কোনো সদুত্তর পাচ্ছেন না। এর ফলে ওয়াশিংটনের অন্দরে এখন এক বড় ধরনের ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।
বিশাল এই আর্থিক ক্ষতির বোঝা এবং অবকাঠামোগত বিপর্যয় মার্কিন নীতিনির্ধারকদের সামনে নতুন করে একটি প্রশ্ন ছুড়ে দিচ্ছে। ইরানের মতো শক্তির এতটা কাছাকাছি মার্কিন ঘাঁটিগুলো টিকিয়ে রাখা কতটুকু যুক্তিসঙ্গত?- এ বিষয়ে আবারো জোরেশোরে বিতর্ক শুরু হয়েছে।
সামরিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মার্কিন ঘাঁটিগুলোর এই নাজুক পরিস্থিতি ভবিষ্যতে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত অবস্থানকে দুর্বল করে দিতে পারে। যেখানে মেরামতের পেছনেই বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার খরচ করতে হবে, সেখানে এই ঘাঁটিগুলো শত্রুবেষ্টিত অঞ্চলে কতদিন নিরাপদ থাকবে তা নিয়ে সংশয় বাড়ছে।
সূত্র : মিডল ইস্ট মনিটর



