যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউনের সাথে আলোচনার পর আজ গ্রিনিচ মান সময় বা জিএমটি ২১:০০টা (বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ৩টা) থেকে লেবাননে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিয়েছেন।তবে এই সমঝোতার নেপথ্য কারণ নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন দাবি সামনে আসছে।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার তথ্য অনুযায়ী, এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার বিষয়টি এখন উভয় পক্ষের সদিচ্ছার ওপর নির্ভর করছে। হিজবুল্লাহর জ্যেষ্ঠ আইনপ্রণেতা হাসান ফাদলাল্লাহ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন যে, তাদের গোষ্ঠী এই যুদ্ধবিরতি মেনে চলবে কি না তা সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করছে ইসরাইল সব ধরনের শত্রুতা ও হামলা বন্ধ করে কি না তার ওপর।
অন্যদিকে ইরান বলছে যে, এই যুদ্ধবিরতি মূলত তেহরানের অনমনীয় নীতি ও প্রতিরোধেরই এক বড় বিজয়। ইরানের সংবাদ সংস্থা তাসনিমের রিপোর্ট অনুসারে, তেহরান স্পষ্ট করে দিয়েছিল যে আমেরিকার সাথে যেকোনো আলোচনা বা সমঝোতার দ্বিতীয় পর্যায় শুরু করার জন্য লেবাননে যুদ্ধবিরতি হওয়া একটি অপরিহার্য শর্ত। ইহুদিবাদী ইসরাইল চেয়েছিল ইরানের সাথে আলোচনা চললেও লেবাননে যুদ্ধ চালিয়ে যাবে এবং যুক্তরাষ্ট্রও শুরুতে তাদের দেয়া প্রতিশ্রুতি থেকে সরে আসার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু ইরানের চাপের মুখে শেষ পর্যন্ত তারা পিছু হটতে বাধ্য হয়। ইরান মনে করছে, এই ঘটনা আবারো প্রমাণ করলো যে তেহরানের প্রতিরোধের নীতি কাজ করছে এবং তারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে যুদ্ধবিরতিতে বাধ্য করতে পেরেছে।
এই পুরো পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে, মধ্যপ্রাচ্যের এই অস্থির সময়ে একদিকে ট্রাম্প প্রশাসন কূটনৈতিক সাফল্যের দাবি করছে, আর অন্যদিকে ইরান একে তাদের কৌশলী অবস্থানের জয় হিসেবে দেখছে। লেবাননে এই ১০ দিনের বিরতি দীর্ঘমেয়াদী শান্তিতে রূপ নেবে কি না, তা এখন মাঠ পর্যায়ের পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করছে। মূলত আন্তর্জাতিক রাজনীতির এই দাবার চালে ইরান প্রমাণ করছে যে তাদের অবস্থান পরিবর্তন না করেই তারা শক্তিমত্তার সাথে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে একটি নির্দিষ্ট বিন্দুতে আনতে সক্ষম হয়েছে। সব মিলিয়ে আজকের রাত থেকেই নির্ধারিত সময়ে এই অস্ত্রবিরতি কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে যা ওই অঞ্চলের সাধারণ মানুষের জন্য সাময়িক স্বস্তি বয়ে আনতে পারে।
সূত্র : আল জাজিরা, তাসনিম নিউজ।



