তেহরানের পাঠানো শান্তি প্রস্তাবকে ‘আবর্জনা’ ও ‘নির্বোধের মতো জবাব’ বলে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
সোমবার তিনি কড়া ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, ইরানের সাথে যুদ্ধবিরতির বিষয়টি এখন মৃতপ্রায় বা ‘লাইফ সাপোর্টে’ আছে।
ফক্স নিউজকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ইরানের পাঠানো ওই চিঠির অর্ধেক পড়েই তিনি বিরক্ত হয়ে তা সরিয়ে রেখেছেন। তার দাবি, শেষ পর্যন্ত ‘ইরানের কট্টরপন্থী নেতারা নতি স্বীকার’ করতে বাধ্য হবেন।
শান্তি আলোচনার এই অচলাবস্থার মাঝেই হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন সামরিক অভিযান ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ আরো বড় পরিসরে শুরুর ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
এদিকে, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের এই অবস্থানকে অযৌক্তিক বলে উল্লেখ করেছেন। পাকিস্তানের ইংরেজি দৈনিক দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন জানিয়েছে, ইরান এই যুদ্ধ বন্ধে একটি ‘উদার ও ন্যায়সংগত’ প্রস্তাব পাঠিয়েছিল।
ইরানের মূল দাবি, অন্যায়ভাবে আটকে রাখা তাদের ব্যাংক সম্পদ ফেরত দেয়া, যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ ও জলদস্যুতা বন্ধ করা এবং অঞ্চলটিতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা।
তেহরানের দাবি, তারা আলোচনার দরজা খোলা রাখতে চাইলেও যুক্তরাষ্ট্র একতরফা ও অন্যায্য দাবি চাপিয়ে দিচ্ছে।
এই উত্তেজনার আঁচ লেগেছে বিশ্ব বাজারেও। ট্রাম্পের অনড় অবস্থানের খবরে তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ৪ ডলারের বেশি বেড়ে গেছে। হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্ব বাজারের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ জ্বালানি আসা-যাওয়া করে, যা এই যুদ্ধের কারণে এখন স্থবির হয়ে আছে। ইউরোপীয় দেশগুলো তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে সেখানে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর চিন্তা করলেও ইরান কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
তেহরান বলছে, যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরাইলের দম্ভের শিকার হয়ে ইউরোপ যদি কোনো হস্তক্ষেপ করে, তবে পরিস্থিতি আরো জটিল হবে এবং জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে।
অন্যদিকে চীন এই সঙ্কটে ইরানের পাশে দাঁড়িয়েছে। বেইজিং জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের এই একতরফা নিষেধাজ্ঞা অবৈধ। তারা যেকোনো মূল্যে নিজেদের বাণিজ্যিক স্বার্থ রক্ষা করবে।
আগামী বুধবার ডোনাল্ড ট্রাম্প বেইজিং সফরে যাচ্ছেন, যেখানে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সাথে আলোচনায় ইরান ইস্যুটি বিশেষ গুরুত্ব পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বর্তমানে পাকিস্তান মধ্যস্থতা করার চেষ্টা চালিয়ে গেলেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের বিপরীতমুখী অবস্থানে পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা এখন ভয়াবহ ঝুঁকির মুখে।
সূত্র : দ্য একপ্রেস ট্রিবিউন



