চিকিৎসা শিক্ষা ও বৈজ্ঞানিক গবেষণার জন্য দান করা লাশ মার্কিন নৌবাহিনীর কাছে সরবরাহ করছে যুক্তরাষ্ট্রের সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয় (ইউএসসি) এবং ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয় সান ডিয়েগো (ইউসিএসডি)। পরে এসব লাশ ব্যবহার করা হচ্ছে ইসরাইলি সামরিক চিকিৎসক ও সার্জনদের যুদ্ধকালীন অস্ত্রোপচার প্রশিক্ষণে।
বিভিন্ন নথিপত্রে দেখা গেছে, ২০১৮ থেকে কমপক্ষে ৮৯টি সদ্য মৃতদেহ এই কর্মসূচির আওতায় দেয়া হয়েছে। এছাড়া ২০২৪ সাল থেকে ২০২৬ সালের শুরু পর্যন্ত ইউসিএসডি থেকে আরো ১২৪টি লাশ ইউএসসির কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
প্রশিক্ষণের সময় লাশগুলোতে বিশেষ পদ্ধতিতে কৃত্রিম রক্ত সঞ্চালন করা হয়, যাতে সেগুলোকে জীবন্ত মানুষের মতো দেখায়। এরপর গুলিবিদ্ধ হওয়া, বুকে ও পায়ে গুলির ক্ষত, মুখমণ্ডল ও শরীরে বিস্ফোরণের আঘাতসহ বিভিন্ন যুদ্ধক্ষেত্রের পরিস্থিতি তৈরি করে অস্ত্রোপচারের মহড়া বা হাতে কলমে চিকিৎসা দেয়ার প্রশিক্ষণ চালানো হয়।
২০২০ সালের একটি গবেষণাপত্রে ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর সম্মুখসারির সার্জিক্যাল টিমের জন্য পরিচালিত চার দিনের এমন প্রশিক্ষণের বিবরণ পাওয়া গেছে।
অনুসন্ধানে আরো উঠে এসেছে, ২০১৩ সাল থেকেই ইসরাইলি সামরিক চিকিৎসকেরা লস অ্যাঞ্জেলেসে এসে মার্কিন নৌবাহিনী ও ইউএসসির তত্ত্বাবধানে এই প্রশিক্ষণ নিয়ে আসছেন। কিন্তু এখানে উল্লেখ্য যে লাশ দানের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার সময় দাতা কিংবা তাদের পরিবারের সদস্যদের জানানো হয়নি যে এসব লাশ ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর প্রশিক্ষণে ব্যবহৃত হতে পারে। ফলে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর অনেক পরিবার নিজেদেরকে প্রতারিত করা হয়েছে বলে মনে করছেন।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে দায়িত্ব পালন করা সাবেক ফ্লাইট নার্স জেনেট ভলপিনের মেয়ে মিরিয়াম ভলপিন আল জাজিরাকে বলেন, মানবকল্যাণ ও চিকিৎসা শিক্ষার উদ্দেশ্যে তার মা নিজের দেহ দান করেছিলেন। পরে জানতে পেরে তিনি বিস্মিত ও মর্মাহত হন যে তার মায়ের লাশ ইসরাইলি সামরিক প্রশিক্ষণে ব্যবহৃত হয়ে থাকতে পারে।
একই ধরনের ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন আরো অনেক স্বজন। তাদের অভিযোগ, প্রিয়জনদের লাশ গবেষণার নামে নেয়া হলেও বাস্তবে তা সামরিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়েছে।
প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিতর্ক তীব্র হয়েছে। অনেক সম্ভাব্য দাতা ও পরিবার লাশ দানের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করছেন।
এদিকে, সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়গুলো কর্মসূচিকে শিক্ষামূলক বলে দাবি করলেও সমালোচকেরা বলছেন, দাতাদের স্পষ্ট সম্মতি ছাড়া সামরিক প্রশিক্ষণে লাশ ব্যবহার গুরুতর নৈতিক প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। এত সব কেলেঙ্কারির মধ্যেই মার্কিন নৌবাহিনী অন্তত ২০২৯ সাল পর্যন্ত এই কর্মসূচির চুক্তি নবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে।
সূত্র : আল জাজিরা



