ইরানকে ‘হাল ছাড়ার’ নসিহত ট্রাম্পের, তেহরান কি নতিস্বীকার করবে?

ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর অবরোধকে সফল দাবি করে তেহরানকে নতিস্বীকারের আহ্বান জানিয়েছেন, তবে ইরান কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে তারা পাল্টা পদক্ষেপ নিতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, কেবল অর্থনৈতিক চাপের ওপর নির্ভর করা যুক্তরাষ্ট্রের ঝুঁকিপূর্ণ কৌশল, যা পরিস্থিতিকে আরো অনিশ্চিত করে তুলছে।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প |সংগৃহীত

ইরানের ওপর অর্থনৈতিক অবরোধকে পুরোপুরি সফল দাবি করে তেহরানকে বৃহস্পতিবার ‘হাল ছেড়ে দেয়ার’ নসিহত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

হরমুজ প্রণালীসহ বিভিন্ন ইরানি বন্দরে ওয়াশিংটনের কড়া নজরদারি তেহরানকে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ অর্থ থেকে বঞ্চিত করছে দাবি করে ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরান যতক্ষণ যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত মেনে আলোচনার টেবিলে না ফিরছে, ততক্ষণ এই চাপ চলতেই থাকবে।

এদিকে, ইরানের সামরিক বাহিনী হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, এই অবরোধ চলতে থাকলে তারা এমন নজিরবিহীন পদক্ষেপ নেবে যা আগে কেউ দেখেনি। এই উত্তেজনার মাঝেও ট্রাম্প বেশ আয়েশি ভঙ্গিতে সময় ক্ষেপণ করছেন, কারণ তার বিশ্বাস আর্থিক সঙ্কটই শেষ পর্যন্ত ইরানকে নতজানু হতে বাধ্য করবে।

ওয়াশিংটন থেকে পাওয়া খবর অনুযায়ী, যুদ্ধ থামানোর আলোচনা এখন এক গভীর অনিশ্চয়তার মুখে দাঁড়িয়ে আছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট কোনো তাড়াহুড়ো না দেখিয়ে বরং ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে শ্বাসরোধ করার নীতিতেই অটল আছেন। ব্যাংকিং খাত থেকে শুরু করে প্রভাবশালী ব্যক্তি- সবার ওপর একের পর এক নিষেধাজ্ঞা চাপিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন তেহরানকে কোণঠাসা করে ফেলেছে।

ট্রাম্পের ধারণা, পকেটে টান পড়লে ইরান নিজে থেকেই তার বেঁধে দেয়া ছকে আলোচনায় বসতে বাধ্য হবে।

তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্পের হাতে আপাতত কোনো ‘প্ল্যান বি’ বা বিকল্প পরিকল্পনা নেই। তার পুরো বাজি এখন কেবল এই অবরোধের ওপরই।

অন্যদিকে, ইসরাইল বা তাদের মিত্রদের উসকানিতে মধ্যপ্রাচ্যে যে বারুদের স্তূপ তৈরি হয়েছে, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে। ইরান জানিয়েছে, তারা কেবল কূটনীতিকে সুযোগ দেয়ার জন্যই এতদিন ধৈর্য ধরেছে, কিন্তু সেই ধৈর্যের বাঁধ এখন ভাঙার মুখে।

ট্রাম্প অবশ্য বেশ দম্ভের সাথেই বলছেন, যুদ্ধবিরতি বজায় রাখা না রাখা এখন সম্পূর্ণ তার মর্জির ওপর নির্ভর করছে।

সূত্র : আল জাজিরা