সংযুক্ত আরব আমিরাতে হামলার কোনো পরিকল্পনা ছিল না : ইরান

ইরান দাবি করেছে যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরাহতে ড্রোন হামলার কোনো পূর্বপরিকল্পনা তাদের ছিল না; বরং পরিস্থিতির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপকে দায়ী করেছে।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
সংগৃহীত

ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন সোমবার জানিয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরাহর একটি জ্বালানি স্থাপনায় ড্রোন হামলা চালানোর কোনো পূর্বপরিকল্পিত কর্মসূচি তাদের ছিল না।

সংযুক্ত আরব আমিরাত অভিযোগ করেছে, ফুজাইরাহ এলাকায় একটি জ্বালানি স্থাপনায় ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান।

আমিরাতের এই অভিযোগের ভিত্তিতে সোমবার ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, ওই ধরনের হামলার বিষয়ে কোনো পূর্বনির্ধারিত পরিকল্পনা ছিল না ইরানের।

আমিরাতের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ওই হামলায় তিনজন ভারতীয় নাগরিক আহত হয়েছে। তাদেরকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

সংযুক্ত আরব আমিরাত বলেছে, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধবিরতির মধ্যেই ইরান নতুন করে তাদের লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। আমিরাত এই ঘটনাকে ‘বিপজ্জনক উত্তেজনা বৃদ্ধি’ বলে উল্লেখ করেছে।

ইরানের একজন সামরিক কর্মকর্তা রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে বলেন, ‘ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ইরানের পক্ষ থেকে ওই তেল স্থাপনায় হামলার কোনো পূর্বপরিকল্পিত কর্মসূচি ছিল না।’

তিনি আরো দাবি করেন, যা ঘটেছে তা হলো, হরমুজ প্রণালীর নিষিদ্ধ পথ দিয়ে জাহাজগুলোকে অবৈধভাবে যাতায়াতের সুযোগ করে দেয়ার জন্য মার্কিন সামরিক বাহিনীর দুঃসাহসিকতার ফল।

এই কর্মকাণ্ডের জন্য যুক্তরাষ্ট্রকেই দায়ী করা উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন।

ইরানের এক সামরিক কর্মকর্তা বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের উচিত শক্তি প্রয়োগের এই ‘আচরণ’ বন্ধ করা এবং এই গুরুত্বপূর্ণ তেলসমৃদ্ধ অঞ্চলে সামরিক আগ্রাসন থেকে বিরত থাকা। কারণ এটি বিশ্বের সব দেশের অর্থনীতিকে প্রভাবিত করে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রোববার ঘোষণা করেন যে তিনি একটি পরিকল্পনা নিয়েছেন, যার মাধ্যমে হরমুজ প্রণালী ও পারস্য উপসাগরে আটকে পড়া নিরপেক্ষ ও বেসামরিক বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে নিরাপদে বের করে আনা হবে।

তিনি বলেন, এটি একটি মানবিক উদ্যোগ, যার উদ্দেশ্য আটকে পড়া জাহাজের ক্রুদের সহায়তা করা।

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, মার্কিন সামরিক বাহিনী পারস্য উপসাগরে ডেস্ট্রয়ার পাঠানোর পর, সোমবার হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন যুদ্ধজাহাজকে লক্ষ্য করে ইরানের নৌবাহিনী সতর্কতামূলক গুলি চালিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী সাতটি ছোট ইরানি সামরিক নৌযান ধ্বংস করেছে।

একইসাথে একজন মার্কিন অ্যাডমিরাল আগে জানান, ইরানের ছয়টি নৌযান ধ্বংস করা হয়েছে।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের এই দাবিগুলো নাকচ করে দিয়েছে ইরান।

সূত্র : বাসস