দক্ষিণ এশিয়ায় দীর্ঘ সময় ধরে ক্ষমতায় থাকার রেকর্ডটি ড. মাহাথির মোহাম্মদের। পাহাড় বনভূমিতে পরিপূর্ণ মালয়েশিয়াকে ইউরোপের আদলে পরিণত করা সাবেক প্রধানমন্ত্রী ড. মাহাথির মোহাম্মদ ১০ জুলাই ১০০ বছরে পা রাখলেন।
মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হামজা জয়নুদ্দিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেয়ে এক পোস্টে বলেন, ‘দেশ, জাতি, ধর্মের জন্য অবদান রাখায় আপনাকে ধন্যবাদ এবং আজ আমরা সকলেই কেবল ড. মাহাথির মোহাম্মদকে স্মরণ করি না, বরং এটি আমাদের সকলকে মালয়েশিয়ার জাতির ভাবমূর্তি গড়ে তোলার জন্য ইতিহাসের প্রতিফলন ঘটাতে শেখায়।’
দশকের পর দশক ধরে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে জীবনের এক শতাব্দীতে পৌঁছেছেন মাহাথির মোহাম্মদ। নয় ভাই-বোনের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ মাহাথির ১৯২৫ সালের ১০ জুলাই কেদাহর আলোর সেটারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ও তার স্ত্রী ডা. হাসমাহ আলীর (৯৮) মেরিনা, মির্জান, মেলিন্ডা, মোখজানি, মুখরিজ, মাইজুরা ও মাজহার নামে সাত সন্তান রয়েছে।
মাহাথির মোহাম্মদ ১৯৮১ থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত বারিসান ন্যাশনাল (বিএন) সরকারের নেতৃত্ব দেন এবং বিএনকে ক্ষমতাচ্যুত করতে ২০১৮ সালে মে থেকে ফেব্রুয়ারি ২০২০ পর্যন্ত পাকাতান হারাপান (পিএইচ) প্রশাসনের অধীনে শীর্ষ পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন।
চতুর্থ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পেট্রোনাস টুইন টাওয়ার, কেএল টাওয়ার, কেএলআইএ ও পুত্রাজায়ার মতো আইকনিক অবকাঠামো প্রকল্পগুলো সম্পন্ন করার জন্য তিনি মালয়েশিয়ার ‘আধুনিকীকরণের জনক’ হিসেবে পরিচিত। মাহাথির মালয়েশিয়ার প্রথম গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান প্রোটন হোল্ডিংস বিএইচডি-এর উদ্বোধনের তত্ত্বাবধান করেন এবং লুক ইস্ট নীতি চালু করেন, যার মাধ্যমে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো দেশগুলোর সাথে শিক্ষা ও ব্যবসায়িক সম্পর্ক উন্নীত হয়।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তার প্রথম মেয়াদে, মাহাথির মালয়েশিয়ার অর্থনীতির উত্থানকে ‘এশিয়ান টাইগার’ হিসেবে নেতৃত্ব দেন, অর্থনীতিকে চালিকাশক্তি হিসেবে শিল্পায়নের দিকে ঠেলে দেন।
তিনি অর্থনৈতিক খাতের ব্যাপক বেসরকারিকরণকেও উৎসাহিত করেন, যার মধ্যে তেনাগা ন্যাশনাল বিএইচডি এবং টেলিকম মালয়েশিয়া বিএইচডি-এর মতো অনেক সরকারি মালিকানাধীন কোম্পানি অন্তর্ভুক্ত ছিল।
তিনি তার সাবেক ডেপুটি, প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম, সেইসাথে ঐক্য সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান পিএইচ এবং উমনোর প্রকাশ্যে সমালোচনা করেছেন।



