প্রতিরক্ষা শিল্পে সহযোগিতা বাড়াতে সম্মত ইন্দোনেশিয়া-ফ্রান্স

ওয়াশিংটনের সাথে প্রতিরক্ষা চুক্তি এবং রাশিয়ার সাথে তেল চুক্তি সম্পাদনের পর এবার ফ্রান্সের সাথেও প্রতিরক্ষা শিল্পে সহযোগিতা বাড়াতে সম্মত হয়েছে ইন্দোনেশিয়া।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো এবং ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ
ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো এবং ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ |সংগৃহীত

ওয়াশিংটনের সাথে প্রতিরক্ষা চুক্তি এবং রাশিয়ার সাথে তেল চুক্তি সম্পাদনের পর এবার ফ্রান্সের সাথেও প্রতিরক্ষা শিল্পে সহযোগিতা বাড়াতে সম্মত হয়েছে ইন্দোনেশিয়া।

প্যারিসে দু’দেশের প্রেসিডেন্টদের বৈঠকের পর বুধবার (১৫ এপ্রিল) জাকার্তা এ তথ্য জানায়।

সরকারি বিবৃতিতে জানানো হয়, মঙ্গলবার এলিসি প্রাসাদে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তোকে স্বাগত জানান ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ। সেখানে তারা ‘কৌশলগত সহযোগিতা জোরদার’ করা নিয়ে আলোচনা করেন।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ক্রয় ও প্রতিরক্ষা শিল্প শক্তিশালীকরণ নিয়ে তারা আলোচনা করেন। ইউরোপে ফ্রান্সকে ইন্দোনেশিয়ার কৌশলগত অংশীদার হিসেবেও উল্লেখ করা হয়।

নেতারা ‘জ্বালানি রূপান্তর এবং নতুন ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির উন্নয়ন’ ক্ষেত্রেও সহযোগিতায় একমত হন।

সোমবার মস্কোর ক্রেমলিনে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সাথে বৈঠক শেষে সরাসরি প্যারিসে যান তিনি।

ক্যাবিনেট সেক্রেটারি টেডি ইন্দ্রা উইজায়া বরাতে জানানো হয়, পুতিনের সাথে ‘কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদার, বিশেষত জ্বালানি, খনিজ সম্পদ এবং জাতীয় শিল্প উন্নয়ন খাতে’ সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনা করেছেন প্রাবোও।

সম্প্রতি দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপান সফর করা ইন্দোনেশিয়ার এই প্রেসিডেন্ট তার ধারাবাহিক বিদেশ সফরের কারণও ব্যাখ্যা করেছেন। চলতি মাসে মন্ত্রিসভায় দেয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘ভাই ও বোনেরা; তেল সরবরাহ নিশ্চিত করতে আমাকে সব জায়গায় যেতে হচ্ছে।’

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় অনেক দেশের মতো ইন্দোনেশিয়াও চাপে পড়েছে।

জোট নিরপেক্ষ কূটনৈতিক অবস্থান বজায় রাখার কথা বললেও, গত বছর উদীয়মান অর্থনৈতিক জোট ব্রিকসে যোগ দেয় জাকার্তা। এই জোটে রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিদ্বন্দ্বী চীনও রয়েছে।

প্রাবোও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে একটি বাণিজ্য চুক্তিও সই করেছেন। এছাড়া ট্রাম্প ঘোষিত তথাকথিত ‘বোর্ড অব পিস’-এ যোগ দিয়েছেন। তবে স্থায়ী সদস্য হতে ১০০ কোটি ডলার যোগদান ফি দেবেন না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন।

ফ্রান্সে তৈরি অস্ত্রের বড় ক্রেতা ইন্দোনেশিয়া। ২০২২ সালে প্রতিরক্ষামন্ত্রী থাকাকালে প্রাবোও ৪২টি ফরাসি রাফাল যুদ্ধবিমান কিনতে ৮১০ কোটি ডলারের চুক্তি করেছিলেন।

২০২৪ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর ইন্দোনেশিয়ার পুরোনো সামরিক সরঞ্জাম আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেন সাবেক এই সামরিক জেনারেল।

সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ইন্দোনেশিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী স্যাফরি স্যামসোউদ্দিনকে স্বাগত জানান। এ সময় ‘মেজর ডিফেন্স কো-অপারেশন পার্টনারশিপ’ ঘোষণা করা হয়।

যৌথ বিবৃতিতে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার অভিন্ন অঙ্গীকারের কথাও তুলে ধরা হয়।

মার্কিন এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (ইআইএ) তথ্য অনুযায়ী, তেল ও পেট্রোলিয়ামজাত তরল পরিবহনে বিশ্বের ব্যস্ততম রুট মালাক্কা প্রণালীর পাশেই ইন্দোনেশিয়া অবস্থিত। এই কৌশলগত অবস্থানের কারণে দেশটি গুরুত্বপূর্ণ। আর চীনে সরবরাহ হওয়া তেলের বিশাল অংশ এই প্রণালীর মধ্য দিয়েই পরিবাহিত হয়।

মঙ্গলবার জাকার্তা জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের ‘ওভারফ্লাইট ক্লিয়ারেন্স’ বা ‘আকাশপথে উড্ডয়নের ছাড়পত্র’ চাওয়ার অনুরোধ বিবেচনা করা হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই অনুমোদন চীনকে ছাড়িয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ইন্দোনেশিয়ার অবস্থান আরো ঘনিষ্ঠ হওয়ার ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হবে।

সূত্র: বাসস